যখন MACD সূচকটি শূন্যের নিচের দিকে নামতে শুরু করেছিল তখন এই পেয়ারের মূল্য 158.20-এর লেভেল টেস্ট করেছিল, যা মার্কিন ডলারের সেল পজিশন ওপেন করার জন্য সঠিক এন্ট্রি পয়েন্ট নিশ্চিত করেছিল। ফলস্বরূপ এই পেয়ারের 100 পিপস দরপতন ঘটেছে।
জুলাই মাসের মার্কিন কর্মসংস্থান বিষয়ক প্রতিবেদনটির ফলাফল প্রত্যাশার চেয়ে অনেক দুর্বল হওয়ায় মার্কিন ডলারের দরপতন ঘটেছে। ৯৭,০০০ কর্মসংস্থান বৃদ্ধির পূর্বাভাসের বিপরীতে 'নন-ফার্ম পেরোল' (কৃষিখাত বহির্ভূত কর্মসংস্থান) ২৩,০০০ কমেছে। যদিও বেকারত্বের হার অপ্রত্যাশিতভাবে কমে ৪.১ শতাংশে নেমে এসেছে (মোট ৬৯ লাখ বেকারসহ), তবুও ট্রেডাররা মূলত নিয়োগের ধীরগতির ওপরই বেশি গুরুত্ব দিয়েছে; একে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি মন্থর হওয়ার সংকেত এবং ফেডারেল রিজার্ভ কর্তৃক আর্থিক নীতিমালা নমনীয় করার ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। ডলারের এই দরপতনের ফলে জাপানি মুদ্রা ইয়েনের দর বেড়েছে, কারণ হতাশাজনক ফলাফলের জেরে মার্কিন ডলার দুর্বল হওয়ার ফলে এই কারেন্সি পেয়ারের ভারসাম্য ইয়েনের অনুকূলে চলে গেছে। প্রতিবেদনের দুর্বল ফলাফলের কারণে ফেডারেল রিজার্ভের নীতিমালা কঠোর হওয়ার (সুদের হার বাড়ানোর) সম্ভাবনা কমে যাওয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের দুই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রত্যাশিত আর্থিক নীতিমালার মধ্যকার ব্যবধান সংকুচিত হতে শুরু করেছে; এর ফলে মার্কিন অর্থনীতি নিয়ে ক্রমবর্ধমান অনিশ্চয়তার মধ্যে একটি নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে ইয়েনের চাহিদা পুনরায় বেড়েছে। USD/JPY পেয়ারের মূল্য কমে যাওয়ায় কারেন্সি মার্কেটে সরকারি হস্তক্ষেপের বিষয়টিও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু থেকে সরে গেছে। ইয়েনের মূল্য তীব্রভাবে কমে গেলে তা সামাল দিতে ব্যাংক অফ জাপান অতীতে কারেন্সি মার্কেটে হস্তক্ষেপ করেছে ঠিকই, কিন্তু ইয়েনের দর বেড়ে গেলে এ ধরনের হস্তক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা কমে যায়। প্রকাশিত প্রতিবেদনের দুর্বল ফলাফলের কারণে ডলারের ওপর চাপ অব্যাহত থাকায় এই কারেন্সি পেয়ারের মূল্য আরও কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং এই পেয়ারের মূল্যের ভবিষ্যৎ মুভমেন্ট মূলত ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার সংক্রান্ত প্রত্যাশায় যে পরিবর্তন এসেছে, তা কতটা দীর্ঘস্থায়ী হয় তার ওপর নির্ভর করবে।
দৈনিক কৌশল হিসেবে, আমি মূলত পরিকল্পনা #1 এবং #2 বাস্তবায়নের উপর নির্ভর করব।
পরিকল্পনা 1: আজ এই পেয়ারের মূল্য 159.00-এর (চার্টে গাঢ় সবুজ লাইন) লেভেলে বৃদ্ধির লক্ষ্যে 158.54-এর (চার্টে সবুজ লাইন) এন্ট্রি পয়েন্টে পৌঁছালে আমি USD/JPY পেয়ারের লং পজিশন ওপেন করার পরিকল্পনা করছি। এই পেয়ারের মূল্য প্রায় 159.00-এর লেভেলে পৌঁছালে, আমি লং পজিশন ক্লোজ করব এবং বিপরীত দিকে শর্ট পজিশন ওপেন করব (এই লেভেল থেকে বিপরীত দিকে 30-35 পিপস মুভমেন্টের প্রত্যাশা করছি)। USD/JPY পেয়ারের কারেকশন এবং উল্লেখযোগ্য পুলব্যাকের সময় এই পেয়ারের লং পজিশন ওপেন করা উচিত হবে। গুরুত্বপূর্ণ! এই পেয়ারের লং পজিশন ওপেন করার আগে, নিশ্চিত করুন যে MACD সূচকটি শূন্যের উপরে রয়েছে এবং শূন্যের উপরে উঠতে শুরু করেছে।
পরিকল্পনা 2: আজ MACD সূচকটি ওভারসোল্ড জোনে থাকাকালীন সময়ে মূল্য পরপর দুইবার 158.27-এর লেভেল টেস্টের ক্ষেত্রে আমি USD/JPY পেয়ারের লং পজিশন ওপেন করার পরিকল্পনা করছি। এটি এই পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী হওয়ার সম্ভাবনাকে সীমিত করবে এবং মূল্যকে বিপরীতমুখী করে ঊর্ধ্বমুখী দিকে নিয়ে যাবে। আমরা 158.54 এবং 159.00-এর বিপরীতমুখী লেভেলের দিকে এই পেয়ারের দর বৃদ্ধির প্রত্যাশা করতে পারি।
সেল সিগন্যালপরিকল্পনা 1: আজ এই পেয়ারের মূল্য শুধুমাত্র 158.27-এর (চার্টে হালকা লাল লাইন) লেভেলে পৌঁছানোর পর USD/JPY পেয়ারের শর্ট পজিশন ওপেন করার পরিকল্পনা করছি, যা এই পেয়ারের দ্রুত দরপতনের দিকে নিয়ে যাবে। বিক্রেতাদের জন্য মূল লক্ষ্যমাত্রা হবে 157.74-এর লেভেল (গাঢ় লাল লাইন), যেখানে আমি শর্ট পজিশন ক্লোজ করতে যাচ্ছি এবং অবিলম্বে বিপরীত দিকে লং পজিশন ওপেন করতে যাচ্ছি, সেই লেভেল থেকে বিপরীত দিকে 20-25 পিপস রিবাউন্ডের আশা করছি। আজ যেকোনো সময় এই পেয়ারের বিক্রেতারা সক্রিয় হতে পারে, তাঁদের শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে যেকোনো ইঙ্গিত দরকার। গুরুত্বপূর্ণ! এই পেয়ারের শর্ট পজিশন ওপেন করার আগে, নিশ্চিত করুন যে MACD সূচকটি শূন্যের নিচে রয়েছে এবং সবেমাত্র শূন্যের নিচে নামতে শুরু করেছে।
পরিকল্পনা 2: আজ MACD সূচকটি ওভারবট জোনে থাকাকালীন সময় মূল্য পরপর দুইবার 158.54-এর লেভেল টেস্টের ক্ষেত্রে আমি USD/JPY পেয়ারের শর্ট পজিশন ওপেন করার পরিকল্পনা করছি। এটি এই পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার সম্ভাবনাকে সীমিত করবে এবং মূল্যকে বিপরীতমুখী করে নিম্নমুখী করবে। আমরা 158.27 এবং 157.74-এর বিপরীতমুখী লেভেলের দিকে এই পেয়ারের দরপতনের আশা করতে পারি।