গতকাল, মার্কিন স্টক সূচকগুলোতে সামান্য নিম্নমুখী প্রবণতার সাথে লেনদেন শেষ হয়েছে। S&P 500 সূচক 0.06% হ্রাস পেয়েছে, যেখানে নাসডাক 100 সূচক 0.32% হ্রাস পেয়েছে। ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল এভারেজ সূচক 0.11% হ্রাস পেয়েছে।
মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের দরপতনের পর স্টক সূচকগুলো নিম্নমুখী হয়েছে, কারণ এই সপ্তাহের শেষের দিকে প্রকাশিতব্য গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন ভোক্তা মূল্য সূচক সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের আগে জ্বালানি তেলের দর বৃদ্ধি পাওয়ায় মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধির উদ্বেগ পুনরায় মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। সোমবার ১০-বছর মেয়াদী মার্কিন বন্ডের ইয়েল্ড বা লভ্যাংশ ছয় বেসিস পয়েন্ট বেড়ে 4.71%-এ পৌঁছানোর পর অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের বন্ডের দরপতন হয়েছে।
উপরে যেমনটি উল্লেখ করা হয়েছে, স্টক মার্কেটে সৃষ্ট উদ্বেগের প্রধান উৎস হলো তেল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের কাছে নতুন কিছু দাবি পেশ করার পর ব্রেন্ট গ্রেডের জ্বালানি তেলের মূল্য 0.3% বেড়ে ব্যারেল প্রতি $88-এ দাঁড়িয়েছে, ফলে টানা পঞ্চম দিনের মতো মূল্য বৃদ্ধি বজায় রয়েছে। ট্রাম্পের এই নতুন দাবির ফলে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলার ব্যাপারে চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা প্রায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ট্রাম্প সংঘাত নিরসনে আলোচনার প্রেক্ষাপটে তেহরানের ক্ষতিপূরণের দাবির তীব্র সমালোচনা করেছেন এবং ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, নতুন করে সামরিক হামলা চালানোর পরিবর্তে তিনি ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে প্রস্তুত।
সোমবার স্বর্ণের মূল্য 100-ডে মুভিং অ্যাভারেজের উপরে উঠে যাওয়ায় সৃষ্ট টেকনিক্যাল কারণে ক্রয়ের প্রভাবে দিনের শুরুতে স্বর্ণের মূল্য $4,400 ছাড়িয়ে গেলেও, তা কমে প্রতি আউন্স প্রায় $4,370-এ নেমে আসে। পরবর্তী সামষ্টিক অর্থনৈতিক সংকেতের জন্য বিনিয়োগকারীরা অপেক্ষা ও পর্যবেক্ষণের অবস্থান গ্রহণ করায় এশীয় স্টক মার্কেটগুলোরও সঠিক দিকনির্দেশনা খুঁজে পেতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
তবে, প্রযুক্তি খাতে ইতিবাচক প্রবণতা বজায় রয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি সূচক 1% বৃদ্ধি পেয়েছে, যার নেতৃত্বে ছিল স্যামসাং ইলেকট্রনিক্সের স্টক, যেটির মূল্য প্রায় 4% বৃদ্ধি পেয়েছে। বৃদ্ধি-পতনের মধ্যে ওঠানামার পর সামগ্রিক এমএসসিআই এশিয়া প্যাসিফিক সূচক 0.1% বেড়েছে।
কারেন্সি মার্কেটে জাপানি ইয়েন আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। সোমবার এটি 1% দরপতনের শিকার হয়, যার ফলে কারেন্সি মার্কেটে হস্তক্ষেপের কারণে সাম্প্রতিক সময় ইয়েনের দর যতটুকু বৃদ্ধি পেয়েছিল তার প্রায় অর্ধেক নাই হয়ে যায়। আরও সরকারি হস্তক্ষেপের ব্যাপারে সতর্ক থাকা ট্রেডারদের জন্য এটি একটি মনস্তাত্ত্বিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। অস্ট্রেলিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার অপরিবর্তিত রাখায় অস্ট্রেলিয়ান ডলার দরপতনের শিকার হয়েছে। তাদের মতে, ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব এবং আবাসন খাতের দুর্বলতার কারণে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে যথেষ্ট চাপ সৃষ্টি হবে।
ক্লিভল্যান্ড ফেডের প্রেসিডেন্ট বেথ হ্যামাকও তার মন্তব্যের মাধ্যমে স্টক মার্কেটের ওপর প্রভাব ফেলেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, মুদ্রাস্ফীতিকে লক্ষ্যমাত্রায় নামিয়ে আনতে একাধিকবার সুদের হার বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, "আমি বলব, সাধারণভাবে, একবার ২৫ বেসিস পয়েন্টের পরিবর্তন সম্ভবত অর্থনীতিতে খুব বেশি প্রভাব ফেলে না।"
টেকনিক্যাল প্রেক্ষাপট অনুযায়ী S&P 500 সূচকের ক্রেতাদের প্রধান কাজ হবে সূচকটির মূল্যের $7,756-এর নিকটতম রেজিস্ট্যান্স অতিক্রম করানো। এটি আরও উর্ধ্বমুখী প্রবণতা নিশ্চিত করবে এবং $7,774-এর দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা উন্মুক্ত করবে। সূচকটির দর $7,793-এর উপর ধরে রাখাও ক্রেতাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর ফলে তাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে। যদি ঝুঁকি গ্রহণের প্রবণতা কমে গিয়ে দরপতন হয়, তাহলে সূচকটির দর $7,737-এ থাকা অবস্থায় ক্রেতাদের সক্রিয় হতে হবে। এই লেভেল ব্রেক করে নিম্নমুখী হলে সূচকটির মূল্য দ্রুত $7,718-এ নেমে যেতে পারে এবং $7,698 পর্যন্ত দরপতনের সম্ভাবনা রয়েছে।