আপাতদৃষ্টিতে ইতিবাচক খবরের বিপরীতে ক্রিপ্টো মার্কেটে এক ধরনের পরস্পরবিরোধী চিত্র পরিলক্ষিত হচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রকাশিত জুলাই মাসের কোর সিপিআই বা মূল ভোক্তা মূল্য সূচক ঠিক ২.৫%-এ অবস্থান করেছে, যা পূর্বাভাসের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ ছিল এবং মার্কিন স্টক মার্কেট সূচকগুলো রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে; তা সত্ত্বেও বিটকয়েনের দরপতন অব্যাহত রয়েছে। এটি একটি উদ্বেগজনক সংকেত—কারণ ইতিবাচক খবরের প্রতি ক্রিপ্টো ট্রেডারদের এমন দুর্বল প্রতিক্রিয়াকে একটি সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হয়। বিটকয়েনের মূল্য বর্তমানে দুটি গুরুত্বপূর্ণ রেঞ্জের মাঝখানে আটকে আছে: একদিকে রয়েছে $63,000-এর 'রিয়েলাইজড এভারেজ প্রাইস' এবং আর আছে প্রায় $68,700-এর 'কস্ট বেসিস' (স্বল্পমেয়াদী বিনিয়োগকারীদের ক্রয়মূল্য)। টানা প্রায় তিন মাস ধরে ক্রিপ্টো মার্কেটের অস্থিরতা কমে আসার প্রেক্ষাপটে বিটকয়েনের মূল্যের এই দুটি লেভেলের মধ্যকার ব্যবধান সংকুচিত হয়ে আসছে।
ক্রিপ্টো মার্কেটে দুর্বলতার সবচেয়ে স্পষ্ট সংকেত হলো স্পট মার্কেটে ট্রেডিংয়ের ভলিউম, যা ২০১৯ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। ট্রেডিংয়ের এই মন্থরতা ২০২৩ সালের 'বিয়ারিশ প্রবণতার' মতো একই পরিস্থিতির দিকেই ইঙ্গিত করছে। গ্লাসনোডের প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এমন 'থিন মার্কেটে' পরবর্তীকালে যেকোনো বড় ধরনের উত্থান-পতন আরও তীব্র হয়ে উঠতে পারে; কারণ কম ট্রেডার সক্রিয় থাকায় এবং লিকুইডিটি সীমিত হওয়ায়, বিটকয়েন ক্রয় বা বিক্রয়ের সামান্য চাপও এটির ওপর অস্বাভাবিক ও ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে।
স্পট মার্কেটে ট্রেডিংয়ের এই স্থবিরতার কাঠামোগত কারণটি বিটকয়েনের নিজস্ব কোনো বিষয় নয়, বরং প্রথাগত অ্যাসেট থেকে প্রাপ্ত আয়ের সাথে প্রতিযোগিতার ফলাফল। ফেব্রুয়ারি মাস থেকে তিন-মাস মেয়াদী বিটকয়েন ফিউচার্সের ইয়েল্ড বা লভ্যাংশ দুই-বছর মেয়াদী মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের লভ্যাংশের নিচে অবস্থান করছে—ইতিহাসে এমন ঘটনা মাত্র দ্বিতীয়বার ঘটল। এর ফলে প্রচলিত 'ক্যারি ট্রেডিং কৌশলের' আকর্ষণ কমে গেছে এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা বিটকয়েনের পরিবর্তে নগদ অর্থ ও সরকারি বন্ডের দিকে মূলধন প্রবাহিত করছেন। ইটিএফ-এ বিনিয়োগপ্রবাহের মন্থরতা এবং এক্সচেঞ্জগুলোতে ডিপোজিট ও উত্তোলনের সীমিত কার্যক্রমের পেছনে এটিই মূল কারণ।
তবে প্রতিবেদনটিতে সার্বিক পরিস্থিতিকে কেবল নেতিবাচক বা 'বিয়ারিশ' সংকেত হিসেবে না দেখে একটি মিশ্র বা দ্বিমুখী চিত্র হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। মার্কেটে বিক্রেতাদের প্রভাব ধীরে ধীরে ফুরিয়ে আসছে, লাভে থাকা কয়েনের অনুপাত অতীতের বিয়ারিশ প্রবণতা সর্বনিম্ন অবস্থানের কাছাকাছি পৌঁছেছে এবং 'ব্রেক-ইভেন' বা ক্রয়মূল্যের সমপর্যায়ের লেভেলটি মূল্যের পুনরুদ্ধারের চেষ্টাকে নয়বার প্রতিহত করেছে, যা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় অব্যাহত বাধা সৃষ্টির ইঙ্গিত দেয়।
একই সাথে, মার্কেটে ক্রেতাদের উপস্থিতি কার্যত নেই বললেই চলে, ইটিএফ-এ বিনিয়োগ নগণ্য এবং এক্সচেঞ্জগুলোতে কয়েন আসার প্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি, ক্রয়ের চাহিদা কমে যাওয়ার মধ্যেই ডেরিভেটিভস মার্কেটে লিভারেজ পজিশনগুলো 'লং' ট্রেডের দিকে ঝুঁকে পড়েছে—যার ফলে মূল্য সামান্য কমলেই 'ক্যাসকেড লিকুইডেশনের' ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে, যেমনটা এ বছর বারবার ঘটতে দেখা গেছে।
ট্রেডিংয়ের পরামর্শ
বিটকয়েন
ক্রেতারা বর্তমানে বিটকয়েনের মূল্যকে $65,000-এর লেভেলে ফেরানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, যার ফলে এটির মূল্য সরাসরি $66,000 পর্যন্ত পৌঁছে যেতে পারে এবং $66,800-এ পৌঁছানোর সম্ভাবনা উন্মুক্ত হবে; এই লেভেল ব্রেক করে মূল্য ঊর্ধ্বমুখী হলে মার্কেটে পুনরায় বুলিশ প্রবণতা শুরু হয়েছে বলে সংকেত পাওয়া যাবে। দরপতনের ক্ষেত্রে বিটকয়েনের মূল্য $63,400-এ থাকা অবস্থায় ক্রেতারা সক্রিয় হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিটকয়েনের মূল্য ঐ এরিয়ার নিচে নেমে গেলে এটির মূল্য দ্রুত $62,300-এর দিকে নেমে যেতে পারে এবং পরবর্তীতে $60,600 পর্যন্ত দরপতন হতে পারে।
ইথেরিয়াম
ইথেরিয়ামের মূল্য $1,916-এর উপরে স্থিতিশীল হলে সরাসরি $1,974 পর্যন্ত যাওয়ার সম্ভাবনা উন্মুক্ত হবে। পরবর্তীতে ইথেরিয়ামের মূল্য $2,012-এর দিকে যেতে পারে; যা ব্রেক করে ঊর্ধ্বমুখী হলে সেটি বুলিশ প্রবণতা শক্তিশালী হওয়ার এবং ক্রেতাদের আগ্রহ ফিরে আসার সংকেত হিসেবে বিবেচিত হবে। দরপতনের ক্ষেত্রে মূল্য $1,868-এ থাকা অবস্থায় ক্রেতারা সক্রিয় হবে বলে প্রত্যাশা করা যায়। ঐ এরিয়ার নিচে নেমে গেলে ETH-এর মূল্য দ্রুত $1,834-এর দিকে নেমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পরবর্তীতে $1,782 পর্যন্ত দরপতনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যায়।
চার্টে কী কী রয়েছে
লাল লাইনগুলো সাপোর্ট এবং রেজিস্ট্যান্স লেভেলগুলো নির্দেশ করে, যেখানে মূল্যের মুভমেন্ট থেমে যেতে পারে বা তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হতে পারে।সবুজ লাইনটি 50‑দিনের মুভিং এভারেজ নির্দেশ করে।নীল লাইনটি 100‑দিনের মুভিং এভারেজ নির্দেশ করে।লাইম লাইনটি 200‑দিনের মুভিং এভারেজ নির্দেশ করে।মূল্য এই মুভিং এভারেজগুলোর যেকোনোটি টেস্ট বা ক্রস করলে প্রায়শই মুভমেন্ট থেমে যায় বা মার্কেটে নতুন মুভমেন্ট শুরু হয়।