বৃহস্পতিবার EUR/USD কারেন্সি পেয়ারের মূল্যের কোনো উল্লেখযোগ্য মুভমেন্ট দেখা যায়নি। ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে এটি স্পষ্ট যে, প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে ইউরোর মূল্য 1.1500-1.1582 রেঞ্জের মধ্যে অবস্থান করছে। যদিও এই অবস্থাকে ঠিক "ক্লাসিক ফ্ল্যাট" বলা যায় না, তবে বাস্তবে পরিস্থিতিটি ঠিক তেমনই। এই সপ্তাহে গুরুত্বপূর্ণ বা সাধারণ—কোনো ধরনের প্রতিবেদনের প্রতিই ট্রেডাররা কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে না। গতকাল ইউরোপীয় ইউনিয়নে শিল্প উৎপাদন সংক্রান্ত প্রতিবেদন এবং যুক্তরাষ্ট্রে 'প্রডিউসার প্রাইস ইনডেক্স' (PPI) প্রকাশের পরেও মার্কেটে কোনো প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়নি; এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রাস্ফীতি বিষয়ক প্রতিবেদনটিও উপেক্ষা করা হয়েছিল। মাসিক ভিত্তিতে ফ্ল্যাট রেঞ্জের মুভমেন্টের পর ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় থাকলেও, এক সপ্তাহ বৃদ্ধির পর ইউরো আবারও দরপতনের শিকার হচ্ছে এবং মার্কেটও যেন কোনো নির্দিষ্ট দিকে অগ্রসর হতে অনীহা প্রদর্শন করছে।
ইতোমধ্যে, সেপ্টেম্বর মাসে ফেডারেল রিজার্ভের মুদ্রানীতি কঠোর করার বিষয়টি সম্ভবত অন্তত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আর আলোচ্যসূচীতে থাকছে না। সেপ্টেম্বর মাসে মুদ্রাস্ফীতি ও শ্রমবাজার বিষয়ক নতুন প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে, যা হয়তো ট্রেডারদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনে বাধ্য করতে পারে। তবে এই মুহূর্তে ফেডারেল রিজার্ভের মূল সুদের হার বাড়ানোর কোনো ভিত্তি নেই।
EUR/USD পেয়ারের 5M চার্টশুক্রবার কীভাবে ট্রেডিং করতে হবে:
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে এই পেয়ারের মূল্য সাইডওয়েজ চ্যানেলটি থেকে বের হয়ে এসেছে, যেখানে মূল্য এক মাস অবস্থান করেছে এবং একটি নতুন ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা গঠিত হয়েছে, তবে সত্যি বলতে, গত দুই সপ্তাহে সেই প্রবণতাটি ম্লান হয়ে পড়েছে। গত কয়েক মাসের বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আমরা মনে করি ইউরোপীয় কারেন্সির মূল্য ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেতে থাকবে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মার্কেটের ট্রেডাররা ইউরোর পক্ষে থাকা প্রায় সব ইতিবাচক কারণ উপেক্ষা করেছে, তাই এখন আমরা ইউরোর মূল্য বৃদ্ধি অব্যাহত থাকার প্রত্যাশা করছি।
শুক্রবার, যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.1527–1.1531 এরিয়ার নিচে কনসোলিডেট করে, তাহলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.1461–1.1474-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। এই পেয়ারের মূল্য 1.1527–1.1531 এরিয়া থেকে নতুন করে বাউন্স করলে লং পজিশন ওপেন করা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.1584–1.1594-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। তবে এখন মার্কেটে অত্যন্ত স্বল্প মাত্রার অস্থিরতা বিরাজ করছে।
5-মিনিটের টাইমফ্রেমে, ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা উচিত: 1.1267-1.1275, 1.1366-1.1377, 1.1461-1.1474, 1.1527-1.1531, 1.1584-1.1594, 1.1655-1.1666, 1.1745-1.1754। শুক্রবার ইউরোপীয় ইউনিয়নে চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকের জিডিপি এবং যুক্তরাষ্ট্রে রিটেইল সেলস ও ইউনিভার্সিটি অফ মিশিগান থেকে কনজিউমার সেন্টিমেন্ট ইনডেক্স প্রকাশিত হবে। এই তিনটি প্রতিবেদনের কোনোটিই মার্কেটে বড় ধরনের কোনো অস্থিরতা সৃষ্টি করবে বলে মনে হয় না।
ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:সিগনালের শক্তি: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।ট্রেডিংয়ের সময়সূচী: ইউরোপীয় সেশন শুরু থেকে মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ট্রেড ওপেন করুন এবং এরপর সকল ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করে ফেলুন।MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।চার্টে কী কী রয়েছে:সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।