মার্কিন স্টক মার্কেটের আপডেট, ১৭ আগস্ট: S&P 500 এবং নাসডাক সূচকে নিম্নমুখী প্রবণতার সাথে সেশন শেষ হয়েছে

গত শুক্রবার, মার্কিন স্টক সূচকগুলোতে নিম্নমুখী প্রবণতার সাথে লেনদেন শেষ হয়েছে। S&P 500 সূচক 0.17% হ্রাস পেয়েছে, যখন নাসডাক 100 সূচক 0.28% হ্রাস পেয়েছে, ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল এভারেজ সূচক 0.20% হ্রাস পেয়েছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রকাশিত অর্থনৈতিক প্রতিবেদনের দুর্বল ফলাফলের কারণে আগামী মাসে ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা কমে যাওয়ায় অধিকাংশ প্রধান কারেন্সির বিপরীতে মার্কিন ডলারের দরপতন ঘটেছে। এ সময় মার্কিন ডলার সূচক 0.2% হ্রাস পেয়েছে; অন্যদিকে এমএসসিআই ইমার্জিং মার্কেট কারেন্সি সূচকটি রেকর্ড সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর কাছাকাছি অবস্থান করছিল, যেখানে আঞ্চলিক মুদ্রাগুলোর মধ্যে তাইওয়ানের ডলার ও থাইল্যান্ডের বাথ ভালো অবস্থানে ছিল।

শুক্রবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা গেছে যে, ভোক্তাদের মধ্যে ব্যয়ের প্রবণতা কমে যাওয়ায় জুলাই মাসে খুচরা বিক্র সূচক গত এক বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি হ্রাস পেয়েছে; এর ফলে মার্কিন ডলারের ওপর চাপ আরও বেড়েছে। সুদের হারের প্রত্যাশা বা মূল্যায়নে এই পরিবর্তনের মাত্রা বেশ উল্লেখযোগ্য। এক সপ্তাহ আগে যেখানে ফেডারেল রিজার্ভ কর্তৃক সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা প্রায় ৫০ শতাংশ বলে মনে করা হতো, সেখানে সোয়াপ ট্রেডাররা এখন সেই সম্ভাবনা ৩০ শতাংশেরও কম বলে ধারণা করছেন। এদিকে মার্কিন ট্রেজারি বন্ড মার্কেটে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে: সুদের হারের পরিবর্তনের প্রতি সংবেদনশীল দুই বছর মেয়াদী বন্ডের ইয়েল্ড বা লভ্যাংশ ২ বেসিস পয়েন্ট কমে 4.15% নেমে এসেছে; অন্যদিকে ১০ ও ৩০ বছর মেয়াদী বন্ডের ইয়েল্ড বা লভ্যাংশ ১ বেসিস পয়েন্ট করে হ্রাস পেয়েছে।

এই সপ্তাহে ট্রেডাররা জুলাই মাসের ফেডারেল রিজার্ভের বৈঠকের কার্যবিবরণীর ওপর দৃষ্টিপাত করবে; এতে সেই আলোচনার বিষয়টি স্পষ্ট হবে যার জেরে ফেড কমিটির তিনজন সদস্য সুদের হার এক-চতুর্থাংশ পয়েন্ট বাড়ানোর পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন। উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও মিশ্র অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে নীতিনির্ধারকরা যখন ভারসামু বজায় হিমশিম খাচ্ছেন, ঠিক সেই সময়ে মতামতের এমন বিভাজন বেশ লক্ষণীয়।

কমোডিটি মার্কেটে ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটই অনিশ্চয়তার মূল কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। লেবাননে নতুন করে ইসরায়েলের হামলা শুরু হওয়ায় এবং ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার আশঙ্কায় উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায় ব্রেন্ট গ্রেডের অপরিশোধিত তেলের দর ব্যারেলপ্রতি $88.35-এর আশপাশে ওঠানামা করেছে। বিনিয়োগকারীরা হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার প্রচেষ্টার দিকেও নজর রাখছেন; কারণ গত সপ্তাহে জ্বালানি তেলের দর প্রায় 6% বাড়লেও, এই প্রণালী খুলে দেওয়া হলে তা জ্বালানী তেলের দাম কমার ক্ষেত্রে চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

মার্কেটে অন্যান্য পরিস্থিতি কিছুটা ইতিবাচক ছিল। এমএসসিআই এশিয়া-প্যাসিফিক ইকুইটি সূচক 0.3% বৃদ্ধি প্রদর্শন করেছে, ট্রেডিং সেশন শুরুর দিকে নাসডাক 100 ফিউচারস প্রায় 0.4% ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে এবং স্বর্ণের দর 0.4% বেড়ে প্রতি আউন্স প্রায় $4,395-এ পৌঁছেছে। তামার দর রেকর্ড উচ্চতার কাছাকাছি পৌঁছেছে; স্পট মার্কেটে এটির মূল্য প্রতি টন প্রায় $478-এর কাছাকাছি অবস্থান করছে।

টেকনিক্যাল প্রেক্ষাপট অনুযায়ী S&P 500 সূচকের ক্রেতাদের প্রধান কাজ হবে সূচকটির মূল্যের $7,810-এর নিকটতম রেজিস্ট্যান্স অতিক্রম করানো। এটি আরও উর্ধ্বমুখী প্রবণতা নিশ্চিত করবে এবং $7,824-এর দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা উন্মুক্ত করবে। সূচকটির দর $7,841-এর উপর ধরে রাখাও ক্রেতাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর ফলে তাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে। যদি ঝুঁকি গ্রহণের প্রবণতা কমে গিয়ে দরপতন হয়, তাহলে সূচকটির দর $7,793-এ থাকা অবস্থায় ক্রেতাদের সক্রিয় হতে হবে। এই লেভেল ব্রেক করে নিম্নমুখী হলে সূচকটির মূল্য দ্রুত $7,774-এ নেমে যেতে পারে এবং $7,756 পর্যন্ত দরপতনের সম্ভাবনা রয়েছে।