বুধবার, EUR/USD কারেন্সি পেয়ারের মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। এই ধরনের মুভমেন্টের পেছনে বস্তুনিষ্ঠভাবে কোনো স্থানীয় কারণ ছিল না। ক্রিস্টিন লাগার্ডের বক্তৃতার (প্রসঙ্গত, এতে উল্লেখযোগ্য কিছুই ছিল না) অনেক আগেই এবং ফেডের কার্যবিবরণী প্রকাশের (যা সাধারণত একটি আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন হিসেবে বিবেচিত হয়) অনেক আগেই ইউরোর মূল্যের উত্থান শুরু হয়েছিল। সুতরাং, ইউরোর মূল্য শুধুমাত্র সেইসব বৈশ্বিক কারণের জন্যই বৃদ্ধি পেয়েছে যা নিয়ে আমরা প্রায় প্রতিদিনই আলোচনা করি। লোয়ার টাইমফ্রেমগুলোতেও এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। ইউরোর মূল্য বৃদ্ধি ছাড়া আর কী-ই বা আশা করা যায়? হায়ার টাইমফ্রেমগুলোতেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত আছে এবং সাইডওয়েজ চ্যানেলের লোয়ার বাউন্ডারি থেকে আপার বাউন্ডারির মধ্যেই এই পেয়ারের মূল্যের মুভমেন্ট বজায় রয়েছে। তাই আবারও বলছি ইউরো মূল্য বৃদ্ধি ছাড়া আর কী-ই বা আশা করা যায়? বর্তমানে মার্কেটে মার্কিন ডলারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার জন্য সহায়ক কোনো কারণ নেই। আমরা মনে করি, স্থানীয় পর্যায়ে কোনো ধরনের সহায়তা ছাড়াই মধ্যমেয়াদে ইউরোর মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।
EUR/USD পেয়ারের 5M চার্ট5-মিনিটের টাইমফ্রেমে বুধবার দুটি বাই সিগন্যাল গঠিত হয়েছিল, যেগুলো কাজে লাগিয়ে ট্রেডাররা বেশ ভালোই মুনাফা করতে পারতেন। অস্থিরতা বেড়ে যাওয়ায় লাভজনক সিগন্যাল আসতে শুরু করে। ইউরোপীয় ট্রেডিং সেশনের একেবারে শুরুতে, এই পেয়ারের মূল্য 1.1584-1.1594 রেঞ্জ ব্রেক করে উপরে উঠে যায়, যা ট্রেডারদের লং পজিশন ওপেন করার সুযোগ করে দেয়। এই পেয়ারের মূল্য 1.1655-1.1665 রেঞ্জটি ব্রেক করে ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় নতুন ট্রেডাররা তাদের ইচ্ছানুযায়ী লং পজিশন বজায় রাখতে বা মুনাফা তুলে নিতে সক্ষম হন।
বৃহস্পতিবার কীভাবে ট্রেডিং করতে হবে:ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে EUR/USD পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা গঠিত হচ্ছে। গত কয়েক মাসের বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আমরা মনে করি ইউরোপীয় কারেন্সির মূল্য ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেতে থাকবে, এমনকি স্থানীয় পর্যায়ে কোনো সহায়তা না থাকলেও। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মার্কেটের ট্রেডাররা ইউরোর পক্ষে থাকা প্রায় সব ইতিবাচক কারণ উপেক্ষা করেছে, তাই এখন আমরা ইউরোর মূল্য বৃদ্ধি অব্যাহত থাকার প্রত্যাশা করছি।
বৃহস্পতিবার, যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.1584-1.1594 এরিয়ার নিচে কনসলিডেট করে, তাহলে নতুন ট্রেডাররা উক্ত এরিয়ার দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারেন। এই পেয়ারের মূল্য 1.1655-1.1665 এরিয়া ব্রেক করে ঊর্ধ্বমুখী হলে লং পজিশন হোল্ড করে রাখা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.1745-1.1754-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
5-মিনিটের টাইমফ্রেমে, ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা উচিত: 1.1366-1.1377, 1.1461-1.1474, 1.1527-1.1531, 1.1584-1.1594, 1.1655-1.1665, 1.1745-1.1754, এবং 1.1830-1.1837। বৃহস্পতিবার ইউরোজোন বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে না বা কোনো ইভেন্টও নির্ধারিত নেই; তবে, গতকালও একই পরিস্থিতি বিরাজ করেছে। সুতরাং, আজ ইউরোপীয় কারেন্সির মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। ট্রেডারদের মূলত টেকনিক্যাল চিত্রের উপর ভিত্তি করে পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।
ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:সিগনালের শক্তি: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।ট্রেডিংয়ের সময়সূচী: ইউরোপীয় সেশন শুরু থেকে মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ট্রেড ওপেন করুন এবং এরপর সকল ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করে ফেলুন।MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।চার্টে কী কী রয়েছে:সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।