যখন MACD সূচকটি শূন্যের উপরের দিকে উঠতে শুরু করেছিল তখন এই পেয়ারের মূল্য 1.1620-এর লেভেল টেস্ট করেছিল, যা ইউরোর বাই পজিশন ওপেন করার জন্য সঠিক এন্ট্রি পয়েন্ট নিশ্চিত করেছিল। ফলে এই পেয়ারের মূল্য 1.1638-এর লক্ষ্যমাত্রার দিকে বৃদ্ধি পায়।
মার্কিন ডলারের তীব্র দরপতনই দিনের প্রধান বিস্ময় ছিল, বিশেষ করে ফেডারেল রিজার্ভের জুলাই মাসের বৈঠকের কার্যবিবরণীতে মূল সিদ্ধান্তের চেয়ে লক্ষণীয়ভাবে বেশি হকিশ বা কঠোর অবস্থানের প্রেক্ষাপটে। মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক টানা পঞ্চমবারের মতো সুদের হার ৩.৭৫%-এ অপরিবর্তিত রেখেছে; তবে, এই ভোটে বিভাজন প্রকাশ পেয়েছে, কারণ ফেড কমিটির তিন সদস্য—হ্যামাক, কাশকারি এবং লোগান—সুদের হার ২৫ বেসিস পয়েন্ট বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছিলেন। অধিকন্তু, অনেক সদস্য ধারণা করছেন যে মুদ্রাস্ফীতি যদি ধারাবাহিকভাবে কমতে শুরু না করে, তাহলে সম্ভবত মুদ্রানীতি কঠোর করার দরকার হবে, এবং সুদের হার বৃদ্ধিতে বিরতি নেয়ার পক্ষে থাকা কিছু সদস্য স্বীকার করেছেন যে এখন সুদের হার বাড়ালে পরবর্তীতে আরও কঠোর পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা কমবে। তা সত্ত্বেও, ফেডের সম্পূর্ণ হকিশ বা কঠোর অবস্থান মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের বাইব্যাক বাড়ানোর সিদ্ধান্তের দ্বারা ম্লান হয়ে যায়। এই ধরনের পদক্ষেপ ডেবট সিকিউরিটিজের চাহিদা বাড়ায় এবং মার্কেটে লিকুইডিটি সরবরাহ করে, যার ফলে বন্ডের ইয়েল্ড বা লভ্যাংশ কমে যায় এবং মার্কিন ডলারের চাহিদা হ্রাস পায়। ফলস্বরূপ, ফেডের মধ্যে ক্রমবর্ধমানভাবে মুদ্রানীতি কঠোর করার জন্য আহ্বান সত্ত্বেও মার্কিন ডলারের তীব্র দরপতন ঘটে।
আজ দিনের প্রথমার্ধে ইউরোর মূল্যের মুভমেন্ট মূলত জার্মানির উৎপাদক মূল্য সূচক এবং বুন্দেসব্যাংকের মাসিক প্রতিবেদনের ফলাফল প্রভাবিত হবে। উৎপাদক মূল্য সূচক নির্দেশ করে যে পণ্যগুলো বাজারে আসার আগেই কতটা দামী হয়ে উঠছে এবং একারণে এগুলোকে মুদ্রাস্ফীতির একটি অগ্রণী সূচক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বুন্দেসব্যাংকের প্রতিবেদনটি ঐতিহ্যগতভাবে মুদ্রাস্ফীতি এবং অর্থনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে। এই দুটি প্রতিবেদনই ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হারের প্রত্যাশাকে প্রভাবিত করতে পারে এবং ইউরোর মূল্যের নির্ধারণ করতে পারে।
দৈনিক কৌশল হিসেবে, আমি মূলত পরিকল্পনা #1 এবং #2 বাস্তবায়নের উপর নির্ভর করব।
পরিকল্পনা #1: আজ যখন ইউরোর মূল্য 1.1714-এর লেভেলে বৃদ্ধির লক্ষ্যে 1.1684-এর (চার্টে সবুজ লাইন দ্বারা চিহ্নিত) লেভেলে পৌঁছাবে, তখন আপনি ইউরোর লং পজিশন ওপেন করতে পারেন। মূল্য 1.1714-এর লেভেলে গেলে, আমি লং পজিশন ক্লোজ করার পরিকল্পনা করছি এবং এন্ট্রি পয়েন্ট থেকে বিপরীত দিকে 30-35 পিপসের মুভমেন্টের উপর নির্ভর করে ইউরোর শর্ট পজিশন ওপেন করব। আজ চলমান প্রবণতার সাথে সঙ্গতি রেখে ইউরোর মূল্য বৃদ্ধি পেতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ: এই পেয়ারের লং পজিশন ওপেন করার আগে, নিশ্চিত করুন যে MACD সূচকটি শূন্যের উপরে রয়েছে এবং সেখান থেকে উপরের দিকে উঠতে শুরু করেছে।
পরিকল্পনা #2: আজ MACD সূচকটি ওভারসোল্ড জোনে থাকাকালীন সময়ে মূল্য পরপর দুইবার 1.1671-এর লেভেল টেস্টের ক্ষেত্রে আমি ইউরোর লং পজিশন ওপেন করার পরিকল্পনা করছি। এটি এই পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী হওয়ার সম্ভাবনাকে সীমিত করবে এবং মূল্যকে বিপরীতমুখী করে ঊর্ধ্বমুখী করবে। আমরা 1.1684 এবং 1.1714-এর বিপরীতমুখী লেভেলের দিকে এই পেয়ারের দর বৃদ্ধির প্রত্যাশা করতে পারি।
সেল সিগন্যালপরিকল্পনা #1: EUR/USD পেয়ারের মূল্য 1.1671-এর (চার্টে লাল লাইন) লেভেলে পৌঁছানোর পর আমি ইউরোর শর্ট পজিশন ওপেন করার করার পরিকল্পনা করছি। বিক্রেতাদের জন্য মূল লক্ষ্যমাত্রা হবে 1.1647-এর লেভেল, যেখানে মূল্য পৌঁছালে আমি সেল পজিশন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছি এবং এন্ট্রি পয়েন্ট থেকে বিপরীত দিকে 20-25 পিপসের মুভমেন্টের উপর নির্ভর করে ইউরোর বাই পজিশন ওপেন করব। আজ আসন্ন প্রতিবেদনের দুর্বল ফলাফল প্রকাশিত হলে এই পেয়ারের উপর চাপ ফিরে আসতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ: শর্ট পজিশন ওপেন করার আগে, নিশ্চিত করুন যে MACD সূচকটি শূন্যের নিচে রয়েছে এবং শূন্যের নিচে নামতে শুরু করেছে।
পরিকল্পনা #2: MACD সূচকটি ওভারবট জোনে থাকাকালীন সময়ে মূল্য পরপর দুইবার 1.1684-এর লেভেল টেস্টের ক্ষেত্রে আমি আজ ইউরোর শর্ট পজিশন ওপেন করতে যাচ্ছি। এটি এই পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার সম্ভাবনাকে সীমিত করবে এবং মূল্যকে বিপরীতমুখী করে নিম্নমুখী করবে। আমরা 1.1671 এবং 1.1647-এর বিপরীতমুখী লেভেলের দিকে এই পেয়ারের দরপতনের আশা করতে পারি।