যখন MACD সূচকটি জিরো লাইনের উপরে উঠতে শুরু করেছিল তখন এই পেয়ারের মূল্য 1.1705-এর লেভেল টেস্ট করেছিল, যা ইউরোর লং পজিশন ওপেন করার জন্য সঠিক এন্ট্রি পয়েন্ট নিশ্চিত করেছিল। তবে ইউরোজোনে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ইতিবাচকের ফলাফল দেখা গেলেও ইউরোর মূল্য খুব একটা বৃদ্ধি পায়নি, যা মার্কেটে ওভারবট কন্ডিশন নির্দেশ করে।
আগস্ট মাসে ইউরোজোনের উৎপাদন খাত গত চার বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সেরা ফলাফল প্রদর্শন করেছে; আগস্টে ম্যানুফ্যাকচারিং পিএমআই 51.9 থেকে বেড়ে 52.8-এ উন্নীত হয়েছে—যা ২০২২ সালের মে মাসের পর সর্বোচ্চ—এবং আউটপুট সূচকটি 53.4-এ পৌঁছেছে, যা গত ৫৪ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। কম্পোজিট পিএমআই বেড়ে 52.1-এ দাঁড়িয়েছে (গত নয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ), তবে সার্ভিস পিএমআই 51.7-এ অপরিবর্তিত রয়েছে। পিএমআই সূচকগুলো বিভিন্ন কোম্পানির ওপর পরিচালিত জরিপের ভিত্তিতে তৈরি করা হয় এবং এগুলো ব্যবসায়িক কার্যক্রমের পরিস্থিতি প্রতিফলিত করে; এক্ষেত্রে 50 পয়েন্টের মানদণ্ডটি অর্থনৈতিক সম্প্রসারণ ও সংকোচনের মধ্যে পার্থক্য নির্দেশ করে। সুতরাং, সূচকগুলোর এই উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি ইউরোজোনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ইতিবাচক গতিশীলতার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে এবং ইউরোর দর বৃদ্ধি ঘটিয়েছে। তবে মূল বিষয়টি কেবল এই প্রধান পরিসংখ্যানগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং এর আড়ালে থাকা ইতিবাচক পরিবর্তনগুলোর মধ্যেও নিহিত ছিল। সাড়ে চার বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো ইউরোজোনে নতুন রপ্তানি আদেশ বৃদ্ধি পেয়েছে; পাশাপাশি, টানা ৩৮ মাস ধরে উৎপাদন খাতে কর্মসংস্থান হ্রাসের যে ধারা চলছিল তার অবসান ঘটেছে, কারণ ইউরোজোনের কোম্পানিগুলো এই বছরে প্রথমবারের মতো কর্মী নিয়োগ দিতে শুরু করেছে।
ইসিবির ক্ষেত্রে এই ধরনের ফলাফল অপ্রত্যাশিতভাবে হকিশ বা কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দেয়। তৃতীয় প্রান্তিকে জিডিপির স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি (প্রায় ০.৩%), কর্মসংস্থান পরিস্থিতির উন্নতি এবং মুদ্রাস্ফীতির উচ্চ হার বজায় থাকার কারণে এই হকিশ বা কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকার সম্ভাবনাই বেশি; ফলে অদূর ভবিষ্যতে সুদের হার আরও বৃদ্ধির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। ঠিক এই বিষয়টিই ইউরোর দর বৃদ্ধি ঘটিয়েছে, কারণ কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক কঠোর মুদ্রানীতি প্রণয়নের সম্ভাবনা সৃষ্টি হলে তা ইউরোর জন্য অনুকূল।
দিনের দ্বিতীয়ার্ধে ট্রেডাররা মূলত যুক্তরাষ্ট্রে প্রকাশিতব্য আগস্ট মাসের ম্যানুফ্যাকচারিং, সার্ভিসেস এবং কম্পোজিট পিএমআই প্রতিবেদনের অপেক্ষায় থাকবে। ব্যবসায়িক কার্যক্রমভিত্তিক এই সূচকগুলো 'লিডিং ইন্ডিকেটর' বা অগ্রগামী নির্দেশক হিসেবে বিবেচিত হয়, কারণ এগুলো ব্যবসায়িক পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্পর্কে সবার আগে প্রতিফলিত করে এবং এগুলোর শক্তিশালী ফলাফল সরাসরি ফেডারেল রিজার্ভের আর্থিক্ল নীতিমালা সংক্রান্ত প্রত্যাশাকে প্রভাবিত করে। যেহেতু আগের দিন ইউরোজোনের অর্থনৈতিক কার্যক্রমে বেশ গতিশীলতা দেখা গেছে, তাই এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি কতটা স্থিতিশীল বা শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে, ট্রেডাররা তা তুলনা করে দেখবে।
ইউরোর ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক অবস্থান বজায় রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রকাশিতব্য প্রতিবেদনের শক্তিশালী ফলাফল সপ্তাহের শেষদিকে মার্কিন ডলারকে শক্তিশালী করতে পারে, যা EUR/USD-এর ওপর চাপ সৃষ্টি করবে; অন্যদিকে দুর্বল ফলাফল প্রকাশিত হলে এই কারেন্সি পেয়ার বাড়তি সহায়তা পেতে পারে। তবে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেদনের শক্তিশালী ফলাফলের কারণে ইউরোর দরপতন বা 'পুলব্যাক' ঘটলে কিছু ট্রেডার একে ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাসেটে নতুন করে 'লং পজিশন' ওপেন করার সুযোগ হিসেবে কাজে লাগাতে পারেন—এই আশায় যে, মার্কেটে সামগ্রিকভাবে ঝুঁকি গ্রহণের প্রবণতা বজায় থাকবে।
দৈনিক কৌশল হিসেবে, আমি মূলত পরিকল্পনা #1 এবং #2 বাস্তবায়নের উপর নির্ভর করব।
পরিকল্পনা #1: আজ যখন ইউরোর মূল্য 1.1751-এর লেভেলে বৃদ্ধির লক্ষ্যে 1.1719-এর (চার্টে সবুজ লাইন দ্বারা চিহ্নিত) লেভেলে পৌঁছাবে, তখন আপনি ইউরোর লং পজিশন ওপেন করতে পারেন। মূল্য 1.1751-এর লেভেলে গেলে, আমি লং পজিশন ক্লোজ করার পরিকল্পনা করছি এবং এন্ট্রি পয়েন্ট থেকে বিপরীত দিকে 30-35 পিপসের মুভমেন্টের উপর নির্ভর করে ইউরোর শর্ট পজিশন ওপেন করব। আজ শুধুমাত্র আসন্ন মার্কিন প্রতিবেদনের দুর্বল ফলাফল প্রকাশিত হলে ইউরোর মূল্য বৃদ্ধি পেতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ: এই পেয়ারের লং পজিশন ওপেন করার আগে, নিশ্চিত করুন যে MACD সূচকটি শূন্যের উপরে রয়েছে এবং সেখান থেকে উপরের দিকে উঠতে শুরু করেছে।
পরিকল্পনা #2: আজ MACD সূচকটি ওভারসোল্ড জোনে থাকাকালীন সময়ে মূল্য পরপর দুইবার 1.1697-এর লেভেল টেস্টের ক্ষেত্রে আমি ইউরোর লং পজিশন ওপেন করার পরিকল্পনা করছি। এটি এই পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী হওয়ার সম্ভাবনাকে সীমিত করবে এবং মূল্যকে বিপরীতমুখী করে ঊর্ধ্বমুখী করবে। আমরা 1.1719 এবং 1.1751-এর বিপরীতমুখী লেভেলের দিকে এই পেয়ারের দর বৃদ্ধির প্রত্যাশা করতে পারি।
সেল সিগন্যালপরিকল্পনা #1: EUR/USD পেয়ারের মূল্য 1.1697-এর (চার্টে লাল লাইন) লেভেলে পৌঁছানোর পর আমি ইউরোর শর্ট পজিশন ওপেন করার করার পরিকল্পনা করছি। বিক্রেতাদের জন্য মূল লক্ষ্যমাত্রা হবে 1.1665-এর লেভেল, যেখানে মূল্য পৌঁছালে আমি সেল পজিশন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছি এবং এন্ট্রি পয়েন্ট থেকে বিপরীত দিকে 20-25 পিপসের মুভমেন্টের উপর নির্ভর করে ইউরোর বাই পজিশন ওপেন করব। আজ আসন্ন মার্কিন প্রতিবেদনের ইতিবাচক ফলাফল প্রকাশিত হলে এই পেয়ারের উপর চাপ ফিরে আসতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ: শর্ট পজিশন ওপেন করার আগে, নিশ্চিত করুন যে MACD সূচকটি শূন্যের নিচে রয়েছে এবং শূন্যের নিচে নামতে শুরু করেছে।
পরিকল্পনা #2: MACD সূচকটি ওভারবট জোনে থাকাকালীন সময়ে মূল্য পরপর দুইবার 1.1719-এর লেভেল টেস্টের ক্ষেত্রে আমি আজ ইউরোর শর্ট পজিশন ওপেন করতে যাচ্ছি। এটি এই পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার সম্ভাবনাকে সীমিত করবে এবং মূল্যকে বিপরীতমুখী করে নিম্নমুখী করবে। আমরা 1.1697 এবং 1.1665-এর বিপরীতমুখী লেভেলের দিকে এই পেয়ারের দরপতনের আশা করতে পারি।