গত সপ্তাহে EUR/USD কারেন্সি পেয়ারের মূল্য প্রায় 100 পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়েছে এবং মার্কিন ডলার আবারও বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। উল্লেখ্য যে, পুরো ২০২৬ সাল জুড়েই মার্কিন ডলার ধারাবাহিক সাফল্যের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বছরের শুরুতেই যখন EUR/USD পেয়ারের মূল্য গত ৪ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ লেভেল পৌঁছায়, ঠিক তখনই ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেন; এর ফলে নিরাপদ বিনিয়োগের দিকে মূলধন প্রবাহিত হতে থাকায় মার্কিন ডলারের চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। এরপর, আপাতদৃষ্টিতে ভিন্ন কোনো কাজের জন্য কেভিন ওয়ার্শকে নিয়োগ দেওয়া সত্ত্বেও, ট্রেডাররা কোনো এক অজানা কারণে ফেডারেল রিজার্ভের মুদ্রানীতি কঠোর হওয়ার প্রত্যাশা করতে শুরু করে। এই দুটি ঘটনার প্রভাবেই মার্কিন ডলারের দর ইউরোর বিপরীতে 1.1350-এর রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছাতে সক্ষম হয়।
এখন দেখা যাক এই প্রবণতা বা রেকর্ডের গুরুত্ব কতটা। সাপ্তাহিক টাইমফ্রেমের দিকে লক্ষ্য করছে আমরা এমন কিছু পর্যায়ের চিহ্নিত করতে পারি যখন মার্কিন ডলারের দর বৃদ্ধি পেয়েছে। এক্ষেত্রে মূলত দুটি পর্যায় বিশেষভাবে লক্ষণীয়: ২০২৩ সালের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর এবং ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর। এই দুটি পর্যায়ই মূলত মূল প্রবণতার বিপরীতে সাময়িক কারেকশনের অংশ। তবে এই সময়গুলোতে মার্কিন ডলারের দর অন্তত চোখে পড়ার মতো বৃদ্ধি পেয়েছিল। অথচ গত এক বছরে মার্কিন ডলারের দর বৃদ্ধির চেয়ে বরং দরপতনের প্রবণতাই বেশি দেখা গেছে। বিষয়টি বিশেষ করে তাৎপর্যপূর্ণ এই কারণে যে, ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ফেডারেল রিজার্ভের মুদ্রানীতি বিষয়ক ট্রেডারদের প্রত্যাশা—উভয়ই মার্কিন ডলারের অনুকূলে ছিল। এর বিপরীতে, ইউরোর পক্ষে থাকা অনেক বিষয়কেই ট্রেডাররা উপেক্ষা করেছে।
সুতরাং, অনুকূল পরিস্থিতি থাকা সত্ত্বেও, দীর্ঘমেয়াদে মার্কিন ডলার কেবল একটি সাধারণ কারেক্টিভ পুলব্যাকের চেয়ে বেশি কিছু দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে। আমরা বুঝি যে 4-ঘণ্টার টাইমফ্রেমে টেকনিক্যাল চিত্রটি কিছুটা ভিন্ন মনে হতে পারে। দেখে মনে হতে পারে যে মার্কিন ডলারের দর সারা বছর ধরেই ঊর্ধ্বমুখী ছিল। তবে বাস্তবে বিষয়টি তেমন নয়; তাই বিশ্লেষণ সবসময় হায়ার টাইমফ্রেম থেকেই শুরু করা উচিত। ২০২২ সাল থেকে EUR/USD পেয়ারের মূল্যের একটি ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা তৈরি হচ্ছে এবং তা এখনও শেষ হয়নি। ফলে, দীর্ঘমেয়াদে আমরা ইউরোর ক্ষেত্রে কেবল মূল্য বৃদ্ধির প্রত্যাশাই করছি। অবশ্য ট্রাম্প বিশ্বজুড়ে আরও কয়েকটি যুদ্ধ শুরু করতে পারেন, তবে এ ধরনের ঘটনা আগে থেকে অনুমান করা সম্ভব নয়।
মার্কিন ডলারের মৌলিক পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। গত সপ্তাহে, মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ তাদের QE কর্মসূচি সম্প্রসারণের ঘোষণা দিয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় দীর্ঘমেয়াদী বন্ড—যার ইয়েল্ড বা লভ্যাংশের হার ২০০৭ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে—সেগুলো পুনঃক্রয়ের মাধ্যমে মার্কেটে প্রচুর লিকুইডিটি সরবরাহ করা হচ্ছে। এখন থেকে জাতীয় ঋণের সুদ ও অন্যান্য দায় মেটাতে মার্কিন সরকারকে বছরে প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় করতে হবে। ট্রাম্পের আমলে যুক্তরাষ্ট্রের মোট ঋণের পরিমাণ ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। কেবল এই একটি তথ্যই মার্কিন ডলারের ক্রমাগত দরপতনের জন্য যথেষ্ট। গত সপ্তাহের অন্যান্য ঘটনা বিশ্লেষণ করার প্রয়োজনও আমরা বোধ করছি না, কারণ ট্রেডিংয়ের ওপর সেগুলোর কোনো প্রভাব পড়েনি। যুক্তরাষ্ট্রে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো মূলত স্বল্প গুরুত্বসম্পন্ন ছিল; অন্যদিকে ফেডারেল রিজার্ভের বৈঠকের কার্যবিবরণী মূলত একটি আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া ছিল, যা মূল বৈঠকের তিন সপ্তাহ পর প্রকাশিত হয়। ফলে এই প্রতিবেদন প্রকাশের সময় এতে থাকা তথ্যগুলো কিছুটা পুরনো হয়ে যায়। আমরা এখনও মনে করি যে, আগামী মাসগুলোতে ফেডারেল রিজার্ভ আর্থিক নীতিমালা কঠোর করবে না এবং মার্কিন ডলারের দর বৃদ্ধির পক্ষে কোনো কারণ আমরা দেখছি না।
২৪ আগস্ট পর্যন্ত গত ৫ দিনের ট্রেডিংয়ে EUR/USD কারেন্সি পেয়ারের গড় ভোলাট্যালিটি ছিল 54 পিপস, যা 'স্বাভাবিক' হিসেবে বিবেচিত হয়। আমরা আশা করছি যে, সোমবার এই পেয়ারের মূল্য 1.1623 এবং 1.1731-এর মধ্যে ওঠানামা করবে। হায়ার লিনিয়ার রিগ্রেশন চ্যানেলটি নিম্নমুখী প্রবণতা দেখাচ্ছে, যা নির্দেশ করে যে বিয়ারিশ প্রবণতা এখনও বজায় রয়েছে—যদিও সামগ্রিক প্রবণতা ইতোমধ্যে পরিবর্তিত হয়েছে। CCI সূচকটি আবারও ওভারবট জোনে প্রবেশ করেছে, যা নতুন করে পুলব্যাকের সম্ভাবনার ব্যাপারে সতর্কবার্তা দিচ্ছে।
নিকটতম সাপোর্ট লেভেল:S1 – 1.1658
S2 – 1.1597
S3 – 1.1536
নিকটতম রেজিস্ট্যান্স লেভেল:R1 – 1.1719
R2 – 1.1780
R3 – 1.1841
ট্রেডিংয়ের পরামর্শ:4-ঘণ্টার টাইমফ্রেমে EUR/USD পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে, যা হায়ার টাইমফ্রেমে বৈশ্বিক ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার একটি নতুন পর্যায়ের সূচনা হতে পারে। মার্কিন ডলারের ক্ষেত্রে সামগ্রিক মৌলিক পরিস্থিতি নেতিবাচক থাকলেও, ভূ-রাজনৈতিক কারণ এবং পরবর্তীতে ফেডারেল রিজার্ভের কঠোর বা 'হকিশ' ০অবস্থান মার্কিন ডলারকে শক্তিশালী সমর্থন জুগিয়েছিল। তবে বর্তমানে এই বিষয়গুলো আর ডলারকে সহায়তা করছে না। যখন এই পেয়ারের মূল্য মুভিং এভারেজের নিচে অবস্থান করে, তখন শর্ট পজিশন ওপেন করার কথা বিবেচনা করা যেতে পারে, যেখানে কারেকশনের অংশ হিসেবে মূল্যের 1.1597-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।অন্যদিকে, এই পেয়ারের মূল্য মুভিং এভারেজ লাইনের উপরে অবস্থানকালে 1.1719 এবং 1.1731-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে 'লং পজিশন' প্রাসঙ্গিক থাকবে।
চিত্রের ব্যাখ্যা:লিনিয়ার রিগ্রেশন চ্যানেল বর্তমান প্রবণতা নির্ধারণে সহায়তা করে। যদি উভয় চ্যানেলই একই দিক নির্দেশ করে, তবে বর্তমান প্রবণতাটি শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা যায়;মুভিং এভারেজ লাইনটি (সেটিংস 20,0, স্মুথড) স্বল্পমেয়াদী প্রবণতা এবং বর্তমানে কোন দিকে ট্রেডিং পরিচালনা করা উচিত, তা নির্দেশ করে;মারে লেভেলগুলো হলো মূল্যের মুভমেন্টের ও কারেকশনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা;ভোলাট্যালিটি লেভেল (লাল লাইন) মূল্যের বর্তমান অস্থিরতার পরিমাপের ওপর ভিত্তি করে সম্ভাব্য 'প্রাইস চ্যানেল' নির্দেশ করে, যার মধ্যে এই পেয়ারের মূল্য আগামী দিনগুলোতে ওঠানামা করবে।CCI ইন্ডিকেটর যখন 'ওভারসোল্ড' জোনে (-250-এর নিচে) অথবা 'ওভারবট' জোনে (+250-এর উপরে) প্রবেশ করে, তখন তা নির্দেশ করে যে ট্রেন্ড রিভার্সাল বা প্রবণতার পরিবর্তন আসন্ন।