গত সপ্তাহে GBP/USD কারেন্সি পেয়ারের মূল্যও বেশ ভালোই বৃদ্ধি পেয়েছে, যার মূল কৃতিত্ব মার্কিন ট্রেজারি বিভাগকে দেয়া যায়। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ কর্তৃক গৃহীত সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য ছিল দীর্ঘমেয়াদী বন্ডের ইয়েল্ড বা লভ্যাংশ কমানো, কিন্তু সেই লক্ষ্য পুরোপুরি অর্জিত হয়নি। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, এটি আদৌ অর্জিত হবে না। তবে এটি মার্কিন ডলারের জন্য একটি বড় ধাক্কা ছিল। এখানে মূল বিষয়টি দীর্ঘমেয়াদী ট্রেজারি বন্ড ক্রয় বৃদ্ধি পাওয়া নয়, বরং ট্রেজারি বিভাগের পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ বা সতর্কবার্তা দেওয়াটাই আসল বিষয়। মার্কিন অর্থনীতির সবসময়ই ঋণ করা মূলধনের প্রয়োজন হয় এবং স্বাভাবিকভাবেই, ঋণের খরচ বা সুদ পরিশোধের ব্যয় যত কম হয়, ততই ভালো। বর্তমানে ১০-বছর ও ৩০-বছর মেয়াদী ট্রেজারি বন্ডের সুদের হার গত প্রায় ২০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ফেডারেল বাজেটের ওপর চাপ বাড়ছে এবং জাতীয় ঋণের পরিমাণও বৃদ্ধি পাচ্ছে—অথচ ডোনাল্ড ট্রাম্প আপাতদৃষ্টিতে সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিস্থিতির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু দুই বছর আগে ট্রাম্প কী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা নিয়ে কারই বা মাথাব্যথা আছে? এখন সবকিছুর জন্য জো বাইডেনকেই দায়ী করা হচ্ছে।
তবে এটি উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, মার্কিন ডলারের দরপতনের পেছনে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের সিদ্ধান্তই একমাত্র কারণ ছিল না। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে আমরা লক্ষ্য করছি যে, GBP/USD কারেন্সি পেয়ারের মূল্য একটি দীর্ঘমেয়াদী 'সাইডওয়েজ চ্যানেলের' মধ্যে ওঠানামা করছে। যখনই এই পেয়ারের মূল্য এই সাইডওয়েজ চ্যানেলের লোয়ার বাউন্ডারি টেস্ট করেছে, তখনই আমরা চ্যানেলটির আপার বাউন্ডারির দিকে মূল্যবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছি। দুই মাস ধরে চলা এই মুভমেন্টের পরেও, আপার বাউন্ডারিতে পৌঁছাতে এখনও প্রায় 80-100 পিপস বাকি রয়েছে। তাহলে কি ব্রিটিশ পাউন্ডের আরও দরপতনের আশঙ্কা করা উচিত? আমাদের মতে, না। প্রথমত, মার্কেটের এই 'ফ্ল্যাট রেঞ্জভিত্তিক মুভমেন্ট' কোনো চিরস্থায়ী বিষয় নয়; সাপ্তাহিক টাইমফ্রেমে হলেও এর অবসান ঘটবেই। দ্বিতীয়ত, মার্কিন ডলারের মূল্যবৃদ্ধির জন্য আর কী কী কারণ বা প্রভাবক অবশিষ্ট আছে? দুই মাস আগেও আমরা নিজেদের এই প্রশ্নটি করেছিলাম, যখন সাইডওয়েজ চ্যানেলের লোয়ার বাউন্ডারি ব্রেক করে এই পেয়ারের মূল্য নিচে নেমে যাওয়ার ঝুঁকি ছিল। বর্তমানে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। সেই সময় ট্রেডাররা ফেডারেল রিজার্ভের মুদ্রানীতি কঠোর হওয়ার বিষয়ে আশাবাদী ছিল এবং ধারণা করা হয়েছিল যে ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি কিছু সময়ের জন্য মার্কিন ডলারকে সহায়তা করবে। একই সাথে, তখন ট্রেজারি বিভাগ থেকেও কোনো সতর্কবার্তা আসেনি। এমতাবস্থায়, 1.3150-1.3780 রেঞ্জের মধ্যে থাকা এই সাইডওয়েজ চ্যানেলের আপার বাউন্ডারি ব্রেক করে মূল্য উপরে উঠে যাওয়ার সম্ভাবনাই এখন অনেক বেশি।
ব্রিটিশ পাউন্ডের মৌলিক বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে দেখা গেছে যে, গত সপ্তাহে যুক্তরাজ্যে মুদ্রাস্ফীতির হার বেড়ে ২.৯%-এ পৌঁছেছে। এর ফলে ব্যাংক অফ ইংল্যান্ড কর্তৃক মুদ্রানীতি কঠোর করার সম্ভাবনা কিছুটা বেড়েছে—উল্লেখ্য যে, ব্যাংক অব ইংল্যান্ড ট্রাম্পের নির্দেশনাধীন নয়। মুদ্রাস্ফীতি যদি ক্রমাগত বাড়তে থাকে, তাহলে ব্যাংক অফ ইংল্যান্ড সত্যিই মূল সুদের হার বাড়িয়ে দিতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের পরিস্থিতি অবশ্য ভিন্ন; তাদের ওপর সব দিক থেকে চাপ আসছে—সেখানে মুদ্রাস্ফীতি কমছে, শ্রমবাজার আবারও অস্থির হয়ে উঠছে এবং জাতীয় ঋণ বেড়ে যাওয়ায় ট্রাম্প মূল সুদের হার কমানোর আহ্বান জানাচ্ছেন। এমতাবস্থায়, আমাদের ধারণা—অর্থনীতি বা শ্রমবাজারের ক্ষতি করার চেয়ে ফেডারেল রিজার্ভ সম্ভবত মুদ্রাস্ফীতির বিষয়টিকেই ছাড় দেবে।
সুতরাং, ব্রিটিশ পাউন্ডের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত রাখার জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছুই এর রয়েছে। আর মার্কিন ডলারের সামনে দরপতন ছাড়া অন্য কোনো পথ খোলা নেই। অবশ্য এই মুভমেন্ট একমুখী হবে না; স্বল্প ও দীর্ঘ—উভয় মেয়াদে মাঝে মাঝে ডলারের মূল্যের কারেকশন ঘটবে। আর গত চার বছর ধরেই এমনটি ঘটে আসছে।
গত ৫ দিনের ট্রেডিংয়ে GBP/USD পেয়ারের মূল্যের গড় ভোলাট্যালিটি ছিল 61 পিপস। GBP/USD পেয়ারের ক্ষেত্রে এই মানটিকে "স্বাভাবিক" হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সোমবার, ২৪ আগস্ট, আমরা 1.3581 এবং 1.3703 লেভেলের মধ্যবর্তী রেঞ্জের মধ্যে মুভমেন্টের প্রত্যাশা করছি। হায়ার লিনিয়ার রিগ্রেশন চ্যানেলটি উপরের দিকে সরে গেছে, যা এই পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। CCI ইন্ডিকেটরটি তৃতীয়বারের মতো 'ওভারবট' জোনে প্রবেশ করেছে, যা আবারও সম্ভাব্য কারেকশনের বিষয়ে সতর্কবার্তা দিচ্ছে।
নিকটতম সাপোর্ট লেভেল:S1 – 1.3611
S2 – 1.3550
S3 – 1.3489
নিকটতম রেজিস্ট্যান্স লেভেল:R1 – 1.3672
R2 – 1.3733
R3 – 1.3794
ট্রেডিংয়ের পরামর্শ:GBP/USD কারেন্সি পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় রয়েছে। ট্রাম্পের গৃহীত নীতিমালা মার্কিন অর্থনীতির ওপর অব্যাহতভাবে চাপ সৃষ্টি করছে, তাই আমরা দীর্ঘমেয়াদে মার্কিন ডলারের দর বৃদ্ধির আশা করছি না। ভূ-রাজনৈতিক কারণে ২০২৬ সালটি এখন পর্যন্ত মার্কিন ডলারের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক ছিল, তবে সবকিছুরই একটা শেষ থাকে। সাপ্তাহিক টাইমফ্রেমে, চার বছর ধরে চলা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার কাঠামোর মধ্যে 1.3150 এবং 1.3780-এর মধ্যে ফ্ল্যাট রেঞ্জভিত্তিক মুভমেন্ট বজায় রয়েছে, যা মধ্যমেয়াদে ব্রিটিশ পাউন্ডের মূল্য বৃদ্ধি অব্যাহত থাকার সুযোগ করে দিচ্ছে। এই পেয়ারের মূল্য যখন মুভিং এভারেজের উপরে অবস্থান করবে, তখন এই পেয়ারের মূল্যের 1.3672 এবং 1.3703-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে 'লং পজিশন' ওপেন করার কথা বিবেচনা করা যেতে পারে। আর যদি এই পেয়ারের মূল্য মুভিং এভারেজ লাইনের নিচে থাকে, তবে 'শর্ট পজিশন' ওপেন করা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.3489 এবং 1.3428-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
চিত্রের ব্যাখ্যা:লিনিয়ার রিগ্রেশন চ্যানেল বর্তমান প্রবণতা নির্ধারণে সহায়তা করে। যদি উভয় চ্যানেলই একই দিক নির্দেশ করে, তবে বর্তমান প্রবণতাটি শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা যায়;মুভিং এভারেজ লাইনটি (সেটিংস 20,0, স্মুথড) স্বল্পমেয়াদী প্রবণতা এবং বর্তমানে কোন দিকে ট্রেডিং পরিচালনা করা উচিত, তা নির্দেশ করে;মারে লেভেলগুলো হলো মূল্যের মুভমেন্টের ও কারেকশনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা;ভোলাট্যালিটি লেভেল (লাল লাইন) মূল্যের বর্তমান অস্থিরতার পরিমাপের ওপর ভিত্তি করে সম্ভাব্য 'প্রাইস চ্যানেল' নির্দেশ করে, যার মধ্যে এই পেয়ারের মূল্য আগামী দিনগুলোতে ওঠানামা করবে।CCI ইন্ডিকেটর যখন 'ওভারসোল্ড' জোনে (-250-এর নিচে) অথবা 'ওভারবট' জোনে (+250-এর উপরে) প্রবেশ করে, তখন তা নির্দেশ করে যে ট্রেন্ড রিভার্সাল বা প্রবণতার পরিবর্তন আসন্ন।