বুধবার GBP/USD কারেন্সি পেয়ারের মূল্য এই সপ্তাহের মধ্যে প্রথমবারের মতো তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী মুভমেন্ট প্রদর্শন করেছে। যদিও 'শক্তিশালী' শব্দটি এক্ষেত্রে কিছুটা বাড়িয়ে বলা হয়েছে বলে মনে হতে পারে, তবুও এই সপ্তাহে 50 পিপসের মুভমেন্টকেও বেশ উল্লেখযোগ্য মুভমেন্ট হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের 'ডিউরেবল গুডস অর্ডার' সংক্রান্ত প্রতিবেদনের প্রভাবে ব্রিটিশ পাউন্ডের মূল্য কমে 1.3587-এ নেমে এলেও, অ্যাসেন্ডিং চ্যানেলের উপস্থিতি প্রমাণ করে যে এটির মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা এখনও বজায় রয়েছে। এই সপ্তাহে যুক্তরাজ্যে কোনো অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি এবং বৃহস্পতিবারও এমন কোনো প্রতিবেদন প্রকাশের কথা নেই; ফলে ট্রেডারদের শুক্রবার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। আগামীকাল যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল রিজার্ভের কর্মকর্তা কেভিন ওয়ার্শ বক্তব্য রাখবেন এবং বার্ষিক 'নন-ফার্ম পেরোল' প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। যদিও মুদ্রানীতি নিয়ে ওয়ার্শের কাছ থেকে কোনো নাটকীয় বা অভাবনীয় বক্তব্যের আশা করা হচ্ছে না, তবে 'নন-ফার্ম পেরোল' প্রতিবেদনটির এমন কোনো উল্লেখযোগ্য ফলাফল আসার সম্ভাবনা রয়েছে যা অনেক ট্রেডারকেই চমকে দিতে পারে।
GBP/USD পেয়ারের 5M চার্টবুধবার 5-মিনিটের টাইমফ্রেমে দুটি 'সেল সিগন্যাল' গঠিত হয়েছিল। প্রথমে পাউন্ডের মূল্য 1.3631-1.3641 এরিয়া অতিক্রম করে এবং এরপর আবার সেখান থেকে বাউন্স ব্যাক করে। সিগন্যালগুলো একে অপরের অনুরূপ হওয়ায় নতুন ট্রেডাররা একটি 'সেল পজিশন' ওপেন করার সুযোগ পেয়েছিলেন। মার্কিন ট্রেডিং সেশনের সময় এই পেয়ারের মূল্য 1.3587-1.3598 এরিয়ার মধ্যে অবস্থিত নিকটতম লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছায়।
বৃহস্পতিবার কীভাবে ট্রেডিং করতে হবে:ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে GBP/USD পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় রয়েছে। আমাদের মতে, স্থানীয় কারণগুলো পাউন্ডকে সহায়তা না করলেও এটির মূল্য বৃদ্ধির প্রবণতা অব্যাহত থাকবে। সাপ্তাহিক টাইমফ্রেমে এই পেয়ারের মূল্য সাইডওয়েজ চ্যানেলের লোয়ার বাউন্ডারি থেকে আপার বাউন্ডারির দিকে উঠতে শুরু করেছে এবং এই মুভমেন্ট এখনও সম্পন্ন হয়নি। মার্কেটে সেপ্টেম্বরে ফেড কর্তৃক সুদের হার বৃদ্ধির প্রত্যাশা বিলীন হতে শুরু করেছে, কারণ সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রকাশিত সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদনের ফলাফল মার্কিন ডলারের উপর চাপ সৃষ্টি করেছে। শুধুমাত্র ঘন্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে অ্যাসেন্ডিং চ্যানেলের নিচে এই পেয়ারের মূল্য়ের কনসলিডেশন হলে এই পেয়ারের দরপতনের প্রত্যাশা করা যেতে পারে।
বৃহস্পতিবার, এই পেয়ারের মূল্য 1.3587-1.3598 এরিয়ার নিচে স্থিতিশীল হলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.3456-1.3476-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। অন্যদিকে এই পেয়ারের মূল্য 1.3587-1.3598 এরিয়া থেকে বাউন্স করলে লং পজিশন ওপেন করা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.3631-1.3641 ও 1.3695-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
5-মিনিটের টাইমফ্রেমে ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে: 1.3259-1.3267, 1.3319-1.3331, 1.3380-1.3386, 1.3456-1.3476, 1.3587-1.3598, 1.3631-1.3641, 1.3695, এবং 1.3741। বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্যে কোনো উল্লেখযোগ্য প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে না বা কোনো ইভেন্টও নির্ধারিত নেই; অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে কেবল ডিউরেবল গুডস অর্ডার সংক্রান্ত সংক্রান্ত একটি সাধারণ প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। ফলে, এই কারেন্সি পেয়ারের মূল্যের অস্থিরতার মাত্রা আবারও সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসতে পারে।
ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:সিগনালের শক্তি: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।ট্রেডিংয়ের সময়সূচী: ইউরোপীয় সেশন শুরু থেকে মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ট্রেড ওপেন করুন এবং এরপর সকল ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করে ফেলুন।MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।চার্টে কী কী রয়েছে:সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।