বৃহস্পতিবারও অত্যন্ত স্বল্প মাত্রার অস্থিরতার মধ্য দিয়ে GBP/USD কারেন্সি পেয়ারের ট্রেডিং পরিলক্ষিত হয়েছে। এই সপ্তাহে ব্রিটিশ পাউন্ডের মূল্য কিছুটা কারেকশনের মধ্য দিয়ে গেলেও এটির সামগ্রিক ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতাটি কিন্তু বাধাগ্রস্ত হয়নি। ফলে, ব্রিটিশ মুদ্রার মূল্য যেকোনো মুহূর্তে আবারও বাড়তে শুরু করতে পারে। নতুন ট্রেডারদের আমরা পরামর্শ দেব যে তারা যেন কোনো সুনির্দিষ্ট ভিত্তি ছাড়াই নতুন 'বাই পজিশন' ওপেন না করেন। এই সপ্তাহে ট্রেডারদের মনে এমন ধারণা তৈরি হতে পারে যে মার্কিন ডলারের দরপতন হওয়াটা অনিবার্য—তবে তাদের কেভিন ওয়ার্শের বক্তব্য এবং নন-ফার্ম পেরোল প্রতিবেদন প্রকাশের জন্য অপেক্ষা করা উচিত। সেইসাথে আমরা মনে করিয়ে দিতে চাই যে, ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান যেকোনো কিছুই বলতে পারেন এবং তা আগে থেকে অনুমান করা অসম্ভব। ট্রেডাররা তাঁর বক্তব্যকে কীভাবে গ্রহণ করবে, সেটাও অনিশ্চিত। তাই আজ মার্কিন ডলারের দর বৃদ্ধির সম্ভাবনাকেও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তবে মার্কিন ডলারের আরও দরপতনের সম্ভাবনাই বেশি। সাধারণত নন-ফার্ম পেরোলের প্রাথমিক পরিসংখ্যান পরবর্তীতে সংশোধন করে নিম্নমুখী করা হয় এবং বর্তমানে ট্রেডারদের কাছে ওয়ার্শের গ্রহণযোগ্যতা খুব একটা বেশি নয়।
GBP/USD পেয়ারের 5M চার্টবৃহস্পতিবার 5-মিনিটের টাইমফ্রেমে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি 'সেল সিগন্যাল' গঠিত হয়েছিল। 'আনুষ্ঠানিকভাবে' বলার কারণ হলো, মার্কেটে আবারও অত্যন্ত স্বল্প মাত্রার অস্থিরতা বজায় ছিল এবং সিগন্যালটি গঠিত হওয়ার পর এই পেয়ারের মূল্য সঠিক দিকে 20 পিপস মুভমেন্টও প্রদর্শন করতে পারেনি।
শুক্রবার কীভাবে ট্রেডিং করতে হবে:ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে GBP/USD পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় রয়েছে। আমাদের মতে, স্থানীয় কারণগুলো পাউন্ডকে সহায়তা না করলেও এটির মূল্য বৃদ্ধির প্রবণতা অব্যাহত থাকবে। সাপ্তাহিক টাইমফ্রেমে এই পেয়ারের মূল্য সাইডওয়েজ চ্যানেলের লোয়ার বাউন্ডারি থেকে আপার বাউন্ডারির দিকে উঠতে শুরু করেছে এবং এই মুভমেন্ট এখনও সম্পন্ন হয়নি। মার্কেটে সেপ্টেম্বরে ফেড কর্তৃক সুদের হার বৃদ্ধির প্রত্যাশা বিলীন হতে শুরু করেছে, কারণ সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রকাশিত সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদনের ফলাফল মার্কিন ডলারের উপর চাপ সৃষ্টি করেছে। শুধুমাত্র ঘন্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে অ্যাসেন্ডিং চ্যানেলের নিচে এই পেয়ারের মূল্য়ের কনসলিডেশন হলে এই পেয়ারের দরপতনের প্রত্যাশা করা যেতে পারে।
শুক্রবার, এই পেয়ারের মূল্য 1.3587-1.3598 এরিয়ার নিচে স্থিতিশীল হলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.3456-1.3476-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। অন্যদিকে এই পেয়ারের মূল্য 1.3587-1.3598 এরিয়া থেকে বাউন্স করলে লং পজিশন ওপেন করা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.3631-1.3641 ও 1.3695-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
5-মিনিটের টাইমফ্রেমে ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে: 1.3259-1.3267, 1.3319-1.3331, 1.3380-1.3386, 1.3456-1.3476, 1.3587-1.3598, 1.3631-1.3641, 1.3695, এবং 1.3741। শুক্রবার, যুক্তরাজ্যে কোন উল্লেখযোগ্য প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে না বা কোনো ইভেন্টের পরিকল্পনাও নেই, চলতি সপ্তাহ জুড়েই একই পরিস্থিতি বিরাজ করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে, আজ বার্ষিক নন-ফার্ম পে-রোল প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে এবং ফেডের চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শের বক্তৃতা অনুষ্ঠিত হবে।
ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:সিগনালের শক্তি: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।ট্রেডিংয়ের সময়সূচী: ইউরোপীয় সেশন শুরু থেকে মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ট্রেড ওপেন করুন এবং এরপর সকল ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করে ফেলুন।MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।চার্টে কী কী রয়েছে:সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।