ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রয়েছে ও জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে: হরমুজ প্রণালী অবরোধের সাথে মার্কেট যেভাবে মানিয়ে নিল

আজ ব্রেন্ট গ্রেডের অপরিশোধিত তেলের দর 1.1 শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি $91.51-এ পৌঁছেছে এবং $92-এর কাছাকাছি অবস্থান করছে; অন্যদিকে, সোমবার 2.8 শতাংশ বৃদ্ধির পর ডব্লিউটিআই গ্রেডের তেলের দর 1.4 শতাংশ বেড়ে $86.99-এ দাঁড়িয়েছে।

প্রায় এক মাসের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রথম পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে: মার্কিন বাহিনী হরমুজ প্রণালীর একটি দ্বীপে আক্রমণ চালায় এবং এর জবাবে ইরান সংযুক্ত আরব আমিরাত ও জর্ডানে হামলা করে। উল্লেখ্য, অত্যন্ত অস্থিতিশীল একটি মাস পার করার পর তেলের মূল্যের কেবল প্রতীকী মুভমেন্টের মধ্য দিয়ে আগস্ট মাসটি শেষ হয়; এই সময়ে যুদ্ধ অবসানের বিক্ষিপ্ত প্রচেষ্টার (যার মধ্যে ইরানের অর্থনীতিকে দুর্বল করার ব্যাপারে মার্কিন প্রতিশ্রুতিও অন্তর্ভুক্ত ছিল) মাঝে তেলের মূল্য ওঠানামা করছিল। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই সংঘাতের ফলে আমেরিকার সামরিক শক্তি ক্ষয়ের আশঙ্কাকে উড়িয়ে দিয়ে সার্বিক পরিস্থিতির ব্যাপারে "আমাদের জন্য তুলনামূলকভাবে ছোট একটি যুদ্ধ" হিসেবে অভিহিত করেন।

ইরানি হামলায় জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন বিমানঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল; তবে স্থানীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, কোনো ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার আগেই ক্ষেপণাস্ত্রগুলোকে মাঝপথে আটকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়। সোমবার ট্রাম্প ঘোষণা দেন যে মার্কিন বাহিনীর ওপর হামলার জবাব দেওয়া হবে, যা নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি করেছে।

অনেক বিশেষজ্ঞই জ্বালানি তেলের দর আরও বাড়ার পূর্বাভাস দিচ্ছেন, কারণ অদূর ভবিষ্যতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে স্বাভাবিক নৌ-চলাচল পুনরায় শুরু হওয়ার কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। উল্লেখযোগ্য যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বেশ কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তা মনে করছেন যে এই সংঘাত আরও কয়েক মাস ধরে চলতে পারে।

বর্তমান পরিস্থিতির সবচেয়ে কৌতূহলোদ্দীপক দিকটি হলো এই অবরোধের সাথে মার্কেটের মানিয়ে নেওয়ার বিষয়টি। হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল রপ্তানি অব্যাহত রয়েছে; অনেক সময় শনাক্তকরণ এড়াতে ট্যাঙ্কারগুলোর ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রেখে এই কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কুয়েত ও ইরাকসহ পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের উৎপাদনকারীরা ক্রমাগত তেল রপ্তানি চালিয়ে যাচ্ছে। তা সত্ত্বেও, এই প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর ওপর সবসময়ই হামলার ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে।

পাশাপাশি, জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির মূল কেন্দ্রবিন্দু অপরিশোধিত তেল থেকে সরে এসে পরিশোধিত জ্বালানি পণ্যের দিকে স্থানান্তরিত হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধের ফলে অপরিশোধিত তেলের তুলনায় পরিশোধিত জ্বালানি পণ্যের—বিশেষ করে ডিজেলের—দর অনেক দ্রুতগতিতে বাড়ছে। উল্লেখ্য যে, যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেল থেকে ডিজেল উৎপাদনের মার্জিন সম্প্রতি ব্যারেলপ্রতি $100 ছাড়িয়ে গেছে, যা একটি ঐতিহাসিক রেকর্ড।

জ্বালানি তেলের মূল্যের বর্তমান টেকনিক্যাল চিত্র অনুযায়ী, ক্রেতাদের জ্বালানি তেলের মূল্যকে নিকটস্থ রেজিস্ট্যান্স $87.10-এ নিয়ে যেতে হবে। এতে করে জ্বালানি তেলের মূল্যের $89.54-এর লক্ষ্যমাত্রার দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে, যা ব্রেক করে ঊর্ধ্বমুখী হওয়া বিশেষভাবে চ্যালেঞ্জিং হবে। পরবর্তী লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে $92.54 এরিয়া নির্ধারণ করা যেতে পারে। যদি তেলের দরপতন হয়, তাহলে মূল্য $84.39-এ থাকা অবস্থায় বিক্রেতারা মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করবে। তারা সফল হলে এই রেঞ্জ ব্রেক করে মূল্য নিম্নমুখী হলে সেটি বুলিশ পজিশনের উপর উল্লেখযোগ্য আঘাত হিসেবে বিবেচিত হবে এবং তেলের মূল্য $81.53 পর্যন্ত নেমে যেতে পারে, যেখানে পরবর্তীতে $78.70 পর্যন্ত দরপতনের সম্ভাবনাও রয়েছে।