যখন MACD সূচকটি জিরো লাইনের বেশ উপরে উঠে গিয়েছিল তখন এই পেয়ারের মূল্য 1.1580-এর লেভেল টেস্ট করেছিল, যা এই পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার সম্ভাবনাকে সীমিত করেছিল। 1.1580-এর দ্বিতীয় টেস্টের ক্ষেত্রে ইউরোর সেল সিগন্যালের পরিকল্পনা 2 বাস্তবায়ন করার সুযোগ পাওয়া যায়, তবে এই পেয়ারের দরপতন ঘটেনি।
আগস্ট মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি খাতে মাত্র 38,000 কর্মসংস্থান সৃষ্টি হওয়ার (যা জানুয়ারি মাসের পর থেকে সর্বনিম্ন) ফলে ADP প্রতিবেদনের দুর্বল ফলাফল মার্কিন ডলারের দরপতন ঘটিয়েছে। সরকারি প্রতিবেদন প্রকাশের আগে এই সূচকটি শ্রমবাজারের পরিস্থিতির একটি প্রাথমিক চিত্র হিসেবে কাজ করে; আর এর দুর্বল ফলাফল ফেডারেল রিজার্ভের নীতিমালা কিছুটা নমনীয় হওয়ার প্রত্যাশাকে আরও জোরালো করেছে। প্রতিবেদনের গঠনবিন্যাস এই দুর্বলতাকেই আরও স্পষ্ট করে তুলেছে, কারণ পণ্য উৎপাদন খাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টির হার ঋণাত্মক পর্যায়ে নেমে গিয়েছিল এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির প্রায় পুরোটাই এসেছিল শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা খাত থেকে। মার্কিন ডলারের এই দরপতনের সুযোগ নিয়ে ইউরোর দর বৃদ্ধি পেয়েছে এবং EUR/USD কারেন্সি পেয়ারের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে।
আজ দিনের প্রথমার্ধে ইউরোর মূল্যের মুভমেন্ট মূলত ইউরোপীয় অঞ্চলের বিভিন্ন অর্থনৈতিক প্রতিবেদন ওপর নির্ভর করবে; এর মধ্যে রয়েছে চূড়ান্ত সার্ভিস ও কম্পোজিট পিএমআই এবং প্রডিউসার প্রাইস ইনডেক্স (PPI)। পিএমআই সূচকগুলো লিডিং ইন্ডিকেটর বা অগ্রগামী নির্দেশক হিসেবে বিবেচিত হয়, কারণ এগুলো ব্যবসায়িক পরিস্থিতির পরিবর্তন সবার আগে প্রতিফলিত করে; অন্যদিকে, প্রডিউসার প্রাইস বা উৎপাদক পর্যায়ে পণ্যের মূল্যস্তর থেকে মূল্যস্ফীতির চাপ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। এই উভয় সূচকই ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আর্থিক নীতিমালা সংক্রান্ত প্রত্যাশা এবং তার মাধ্যমে ইউরোর এক্সচেঞ্জ রেটকে সরাসরি প্রভাবিত করে। ইউরোর জন্য পরিস্থিতি ইতিবাচক, কারণ এই অঞ্চলে মুদ্রাস্ফীতি ইতোমধ্যেই বেড়েছে এবং আসন্ন অর্থনৈতিক প্রতিবেদনগুলোর শক্তিশালী ফলাফল প্রকাশিত হলে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক হকিশ বা কঠোর অবস্থান গ্রহণের প্রত্যাশা আরও জোরালো করবে। প্রডিউসার প্রাইস বা উৎপাদক পর্যায়ে পণ্যের দামের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি পেলে এবং পিএমআই সূচক বৃদ্ধি পেলে তা মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইউরোর দর বৃদ্ধি ঘটাতে পারে, যা ১০ই সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠেয় বৈঠকে ইসিবি কর্তৃক সুদের হার বাড়ানোর বিষয়ে ট্রেডারদের প্রত্যাশাকে আরও জোরালো ভিত্তি দেবে।
দৈনিক কৌশল হিসেবে, আমি মূলত পরিকল্পনা #1 এবং #2 বাস্তবায়নের উপর নির্ভর করব।
পরিকল্পনা 1: আজ যখন ইউরোর মূল্য 1.1622-এর লেভেলে বৃদ্ধির লক্ষ্যে 1.1603-এর (চার্টে সবুজ লাইন দ্বারা চিহ্নিত) লেভেলে পৌঁছাবে, তখন আপনি ইউরোর লং পজিশন ওপেন করতে পারেন। মূল্য 1.1622-এর লেভেলে গেলে, আমি লং পজিশন ক্লোজ করার পরিকল্পনা করছি এবং এন্ট্রি পয়েন্ট থেকে বিপরীত দিকে 30-35 পিপসের মুভমেন্টের উপর নির্ভর করে ইউরোর শর্ট পজিশন ওপেন করব। আজ শুধুমাত্র আসন্ন প্রতিবেদনের ইতিবাচক ফলাফল প্রকাশিত হলে ইউরোর মূল্য বৃদ্ধি পেতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ: এই পেয়ারের লং পজিশন ওপেন করার আগে, নিশ্চিত করুন যে MACD সূচকটি জিরো লাইনের উপরে রয়েছে এবং সেখান থেকে উপরের দিকে উঠতে শুরু করেছে।
পরিকল্পনা 2: আজ MACD সূচকটি ওভারসোল্ড জোনে থাকা অবস্থায় মূল্য পরপর দুইবার 1.1590-এর লেভেল টেস্টের ক্ষেত্রে আমি ইউরোর লং পজিশন ওপেন করার পরিকল্পনা করছি। এটি এই পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী হওয়ার সম্ভাবনাকে সীমিত করবে এবং মূল্যকে বিপরীতমুখী করে ঊর্ধ্বমুখী করবে। আমরা 1.1603 এবং 1.1622-এর বিপরীতমুখী লেভেলের দিকে এই পেয়ারের দর বৃদ্ধির প্রত্যাশা করতে পারি।
সেল সিগন্যালপরিকল্পনা 1: EUR/USD পেয়ারের মূল্য 1.1590-এর (চার্টে লাল লাইন) লেভেলে পৌঁছানোর পর আমি ইউরোর শর্ট পজিশন ওপেন করার করার পরিকল্পনা করছি। সেলারদের জন্য মূল লক্ষ্যমাত্রা হবে 1.1570-এর লেভেল, যেখানে মূল্য পৌঁছালে আমি সেল পজিশন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছি এবং এন্ট্রি পয়েন্ট থেকে বিপরীত দিকে 20-25 পিপসের মুভমেন্টের উপর নির্ভর করে ইউরোর বাই পজিশন ওপেন করব। আজ আসন্ন প্রতিবেদনের দুর্বল ফলাফল প্রকাশিত হলে এই পেয়ারের উপর চাপ ফিরে আসতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ: শর্ট পজিশন ওপেন করার আগে, নিশ্চিত করুন যে MACD সূচকটি জিরো লাইনের নিচে রয়েছে এবং এর নিচে নামতে শুরু করেছে।
পরিকল্পনা 2: MACD সূচকটি ওভারবট জোনে থাকা অবস্থায় মূল্য পরপর দুইবার 1.1603-এর লেভেল টেস্টের ক্ষেত্রে আমি আজ ইউরোর শর্ট পজিশন ওপেন করতে যাচ্ছি। এটি এই পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার সম্ভাবনাকে সীমিত করবে এবং মূল্যকে বিপরীতমুখী করে নিম্নমুখী করবে। আমরা 1.1590 এবং 1.1570-এর বিপরীতমুখী লেভেলের দিকে এই পেয়ারের দরপতনের আশা করতে পারি।