গতকাল, মার্কিন স্টক সূচকগুলোতে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার সাথে লেনদেন শেষ হয়েছে। S&P 500 সূচক 0.46% বৃদ্ধি পেয়েছে, যখন নাসডাক 100 সূচক 0.45% বৃদ্ধি পেয়েছে। ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল এভারেজ সূচক 0.56% বৃদ্ধি পেয়েছে।
অস্থির এক ট্রেডিং সেশনে এশীয় স্টক সূচকের ফিউচারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। MSCI এশিয়া প্যাসিফিক সূচকটি এক পর্যায়ে 1.2% পর্যন্ত বেড়েছিল, তবে দিনশেষে সেই অর্জিত প্রবৃদ্ধির বড় অংশই বিলীন হয়ে যায়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে একটি নির্দেশক হিসেবে বিবেচিত দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি সূচকে উল্লেখযোগ্য ওঠানামা দেখা গেছে: সূচকটি প্রথমে 1.8% বৃদ্ধি পায়, এরপর 1.9% পড়ে যায় এবং শেষ পর্যন্ত সামান্য 0.3% বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে দৈনিক সেশন শেষ হয়।
এশিয়ার মার্কেটে মূল আলোচনার বিষয় ছিল জাপানি কারেন্সি 'ইয়েন', যেটির দর টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বৃদ্ধি পেয়েছে। কারেন্সির মূল্যের এই উল্লেখযোগ্য উত্থান দেশটির কর্তৃপক্ষের সম্ভাব্য হস্তক্ষেপের বিষয়ে জল্পনা-কল্পনা উসকে দিয়েছে। উল্লেখ্য, বুধবার ব্যাংক অফ জাপানের একজন বোর্ড সদস্য অস্বাভাবিক মাত্রায় বা দফায় দফায় সুদের হার বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেওয়ার পরই ইয়েনের দর বাড়তে শুরু করে। বর্তমানে 'ওভারনাইট সোয়াপ' মার্কেটে হিসাব অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে সুদের হার ২৫ বেসিস পয়েন্ট বৃদ্ধির বিষয়টি নিশ্চিত বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে; অন্যদিকে, এখনই ৫০ বেসিস পয়েন্ট বৃদ্ধির সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ বলে মনে করা হচ্ছে। স্মরণ করা যেতে পারে যে, ব্যাংক অব জাপানের গভর্নর কাজুও উয়েদা মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির ঝুঁকির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে কার্যত সেপ্টেম্বরে সুদের হার বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।
জ্বালানি তেলের মূল্যের তিন দিনব্যাপী ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার অবস্থান ঘটেছে, যা মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের উপর কিছুটা চাপ উপশম করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের উপর নতুন হামলার সম্ভাবনা স্বল্পস্থায়ী হতে পারে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণ করে বলে পুনর্ব্যক্ত করার পরে ব্রেন্ট ক্রুডের দর ব্যারেল প্রতি 1.3% কমে $94.35-এ নেমে এসেছে। 10-বছর মেয়াদী মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের ইয়েল্ড বা লভ্যাংশ এক বেসিস পয়েন্ট কমে 4.77%-এ নেমে এসেছে, এবং মার্কিন ডলার সূচক দ্বিতীয় টানা সেশনের মতো 0.2% কমেছে। স্বর্ণের দর 0.9% বেড়ে আউন্স প্রতি প্রায় $4,420-এ স্থির হয়েছে।
তেলের পাশাপাশি কমোডিটি মার্কেতের ওপরও নিবিড় নজর রাখা প্রয়োজন। ইউরোপীয় প্রাকৃতিক গ্যাসের ফিউচারের দর টানা চতুর্থ দিনের মতো বেড়েছে এবং তা ২০২৩ সালের শুরুর দিকের সর্বোচ্চ পর্যায়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। শীত মৌসুমের আগে ইউরোপে গ্যাস মজুত সক্ষমতার মাত্র ৬৫ শতাংশ পূর্ণ থাকায় বিষয়টি বিশেষ উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিল্পে ব্যবহৃত ধাতুর দামও বেড়েছে; বিশেষ করে লন্ডনের মার্কেটে তামার দর সাম্প্রতিক সর্বোচ্চ মূল্যের চেয়ে টনপ্রতি $300-এ কম ব্যবধানে লেনদেন করা হচ্ছে।
এখন ট্রেডাররা শুক্রবার প্রকাশিতব্য মার্কিন কর্মসংস্থান সংক্রান্ত প্রতিবেদনের দিকে নজর দিচ্ছে, যা মার্কিন অর্থনীতি এবং মুদ্রানীতির ভবিষ্যৎ গতিপথ সম্পর্কে নতুন ইঙ্গিত দেবে।
টেকনিক্যাল প্রেক্ষাপট অনুযায়ী S&P 500 সূচকের ক্রেতাদের প্রধান কাজ হবে সূচকটির মূল্যের $7,679-এর নিকটতম রেজিস্ট্যান্স অতিক্রম করানো। এটি আরও উর্ধ্বমুখী প্রবণতা নিশ্চিত করবে এবং $7,698-এর দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা উন্মুক্ত করবে। সূচকটির দর $7,718-এর উপর ধরে রাখাও ক্রেতাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর ফলে তাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে। যদি ঝুঁকি গ্রহণের প্রবণতা কমে গিয়ে দরপতন হয়, তাহলে সূচকটির দর $7,656-এ থাকা অবস্থায় ক্রেতাদের সক্রিয় হতে হবে। এই লেভেল ব্রেক করে নিম্নমুখী হলে সূচকটির মূল্য দ্রুত $7,633-এ নেমে যেতে পারে এবং $7,607 পর্যন্ত দরপতনের সম্ভাবনা রয়েছে।