যখন MACD সূচকটি জিরো লাইনের নিচের দিকে নামতে শুরু করেছিল তখন এই পেয়ারের মূল্য 1.1615-এর লেভেল টেস্ট করেছিল, যা ইউরোর সেল পজিশন ওপেন করার জন্য সঠিক এন্ট্রি পয়েন্ট নিশ্চিত করেছিল। ফলে এই পেয়ারের মূল্য 1.1595-এর লেভেলে নেমে যায়।সেখান থেকে রিবাউন্ডের ক্ষেত্রে লং পজিশন ওপেন করার ফলে মার্কেট থেকে আরও প্রায় 20 পিপস মুনাফা করা সম্ভব হয়েছিল।
আগস্ট মাসের মার্কিন কর্মসংস্থান বিষয়ক প্রতিবেদনের ফলাফল ট্রেডারদের চমকে দিয়েছে এবং মার্কিন ডলারের দর বৃদ্ধি ঘটিয়েছে। প্রত্যাশিত 55,000-এর বিপরীতে নন-ফার্ম পেরোলের সংখ্যা 162,000 বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ ছিল সংশোধিত ফলাফল: জুলাই মাসের পরিসংখ্যান ঋণাত্মক থেকে ধনাত্মক পর্যায়ে উন্নীত করা হয়েছে, যার ফলে শ্রমবাজার দুর্বল হয়ে পড়া সংক্রান্ত যে ধারণাটি তৈরি হয়েছিল, তা চোখের সামনেই ধূলিসাৎ হয়ে গেছে। জুলাই মাসের প্রতিবেদনের হতাশাজনক ফলাফলই মূলত ফেডারেল রিজার্ভের আর্থিক নীতিমালা নমনীয়করণ সংক্রান্ত আলোচনার মূল ভিত্তি ছিল, আর এখন সেই যুক্তিটিই আর ধোপে টিকছে না। এর ফলে ইউরো কিছুটা দরপতনের শিকার হয়েছে, কারণ শ্রমবাজারের ইতিবাচক পরিস্থিতি পরিলক্ষিত হলে ফেডারেল রিজার্ভ নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণের ক্ষেত্রে বাড়তি স্বাধীনতা পায়। আমার মতে, ওয়ালার এবং উইলিয়ামসের মতো নীতিনির্ধারকদের জন্য—যারা কর্মসংস্থান খাতের দুর্বল পরিস্থিতির কারণে নমনীয় অবস্থান নিয়েছিলেন—এই প্রতিবেদনটি সেক্ষেত্রে একটি বড় ধাক্কা ছিল। তবে আমার দৃষ্টিতে, ১১ই সেপ্টেম্বর মুদ্রাস্ফীতি বিষয়ক প্রতিবেদন প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত EUR/USD পেয়ার চাপের মুখেই থাকবে; একমাত্র মার্কিন ভোক্তা মূল্য সূচক (CPI) হ্রাস পেলে ইউরোর অনুকূল পরিস্থিতি ফিরে আসতে পারে।
আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন ওপর ভিত্তি করেই ইউরোর দৈনিক ট্রেডিং কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। আজ জার্মানির শিল্প উৎপাদন এবং সেনটিক্স বিনিয়োগকারী আস্থা সূচকের পাশাপাশি, ইউরোজোনের দ্বিতীয় প্রান্তিকের সংশোধিত জিডিপি ও কর্মসংস্থান সংক্রান্ত পরিসংখ্যানও প্রকাশিত হবে। এক্ষেত্রে জিডিপি ও কর্মসংস্থান সংক্রান্ত প্রতিবেদন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; কারণ এগুলোর মাধ্যমেই অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার বা দৃঢ়তার বিষয়টি নিশ্চিত বা নাকচ হয় এবং তা ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরবর্তী অবস্থান নির্ধারণে প্রভাব ফেলে। অন্যদিকে, শিল্প উৎপাদন এবং সেনটিক্স সূচককে আমি অপেক্ষাকৃত স্বল্প গুরুত্বসম্পন্ন সূচক হিসেবেই বিবেচনা করি, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির চিত্রকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে সহায়তা করে।
আমার মতে, ইউরোর ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। সংশোধিত পরিসংখ্যানের ফলাফল যদি পূর্বাভাসের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হয় এবং কোনো অপ্রত্যাশিত ফলাফল না দেখা যায়, তাহলে EUR/USD-এর ওপর পুনরায় চাপ সৃষ্টি হতে পারে—বিশেষ করে নন ফার্ম পেরোল প্রতিবেদনের অপ্রত্যাশিতভাবে শক্তিশালী ফলাফল প্রকাশের পর মার্কিন ডলারের দর বেড়ে গেলে। একমাত্র উল্লেখযোগ্যভাবে ইতিবাচক ও অপ্রত্যাশিত ফলাফলই এখন ইউরোকে জোরালোভাবে সহায়তা করতে পারে; অন্যথায়, ফলাফল নিরপেক্ষ হলে মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ মার্কিন ডলারের ট্রেডারদের হাতেই থাকবে। এই পরিসংখ্যান প্রকাশের আগ পর্যন্ত আমি ইউরোর মূল্যের মন্থর মুভমেন্ট বজায় থাকারই প্রত্যাশা করছি।
দৈনিক কৌশল হিসেবে, আমি মূলত পরিকল্পনা #1 এবং #2 বাস্তবায়নের উপর নির্ভর করব।
পরিকল্পনা 1: আজ যখন ইউরোর মূল্য 1.1637-এর লেভেলে বৃদ্ধির লক্ষ্যে 1.1619-এর (চার্টে সবুজ লাইন দ্বারা চিহ্নিত) লেভেলে পৌঁছাবে, তখন আপনি ইউরোর লং পজিশন ওপেন করতে পারেন। মূল্য 1.1637-এর লেভেলে গেলে, আমি লং পজিশন ক্লোজ করার পরিকল্পনা করছি এবং এন্ট্রি পয়েন্ট থেকে বিপরীত দিকে 30-35 পিপসের মুভমেন্টের উপর নির্ভর করে ইউরোর শর্ট পজিশন ওপেন করব। আজ শুধুমাত্র আসন্ন প্রতিবেদনের ইতিবাচক ফলাফল প্রকাশিত হলে ইউরোর মূল্য বৃদ্ধি পেতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ: এই পেয়ারের লং পজিশন ওপেন করার আগে, নিশ্চিত করুন যে MACD সূচকটি জিরো লাইনের উপরে রয়েছে এবং সেখান থেকে উপরের দিকে উঠতে শুরু করেছে।
পরিকল্পনা 2: আজ MACD সূচকটি ওভারসোল্ড জোনে থাকা অবস্থায় মূল্য পরপর দুইবার 1.1608-এর লেভেল টেস্টের ক্ষেত্রে আমি ইউরোর লং পজিশন ওপেন করার পরিকল্পনা করছি। এটি এই পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী হওয়ার সম্ভাবনাকে সীমিত করবে এবং মূল্যকে বিপরীতমুখী করে ঊর্ধ্বমুখী করবে। আমরা 1.1619 এবং 1.1637-এর বিপরীতমুখী লেভেলের দিকে এই পেয়ারের দর বৃদ্ধির প্রত্যাশা করতে পারি।
সেল সিগন্যালপরিকল্পনা 1: EUR/USD পেয়ারের মূল্য 1.1608-এর (চার্টে লাল লাইন) লেভেলে পৌঁছানোর পর আমি ইউরোর শর্ট পজিশন ওপেন করার করার পরিকল্পনা করছি। সেলারদের জন্য মূল লক্ষ্যমাত্রা হবে 1.1589-এর লেভেল, যেখানে মূল্য পৌঁছালে আমি সেল পজিশন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছি এবং এন্ট্রি পয়েন্ট থেকে বিপরীত দিকে 20-25 পিপসের মুভমেন্টের উপর নির্ভর করে ইউরোর বাই পজিশন ওপেন করব। আজ আসন্ন প্রতিবেদনের দুর্বল ফলাফল প্রকাশিত হলে এই পেয়ারের উপর চাপ ফিরে আসতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ: শর্ট পজিশন ওপেন করার আগে, নিশ্চিত করুন যে MACD সূচকটি জিরো লাইনের নিচে রয়েছে এবং এর নিচে নামতে শুরু করেছে।
পরিকল্পনা 2: MACD সূচকটি ওভারবট জোনে থাকা অবস্থায় মূল্য পরপর দুইবার 1.1619-এর লেভেল টেস্টের ক্ষেত্রে আমি আজ ইউরোর শর্ট পজিশন ওপেন করতে যাচ্ছি। এটি এই পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার সম্ভাবনাকে সীমিত করবে এবং মূল্যকে বিপরীতমুখী করে নিম্নমুখী করবে। আমরা 1.1608 এবং 1.1589-এর বিপরীতমুখী লেভেলের দিকে এই পেয়ারের দরপতনের আশা করতে পারি।