বুধবার GBP/USD পেয়ারের মূল্যের খুব সামান্য অস্থিরতার সাথে ধীরগতিতে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় ছিল। দিনজুড়ে যুক্তরাজ্য বা যুক্তরাষ্ট্রে কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি বা কোনো ইভেন্টও ছিল না, ফলে মার্কেটে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টির মতো বিশেষ কোনো বিষয় ছিল না। সত্যি বলতে, ট্রেডাররা গত কয়েক মাস ধরেই বেশিরভাগ প্রতিবেদন উপেক্ষা করে আসছে এবং কেবল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্টগুলোর দিকে—বিশেষ করে ফেডারেল রিজার্ভের নীতিমালার সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর—প্রতিই মনোযোগ দিচ্ছে। এই সপ্তাহে ট্রেডাররা মূলত শুক্রবার প্রকাশিতব্য যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রাস্ফীতি প্রতিবেদনের ওপর মনোযোগ দেবে। আজ ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইউরোজোনের বিষয়ে তাদের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করবে; তবে সুদের হার বৃদ্ধি (যে ব্যাপারে ট্রেডাররা আগে থেকেই প্রস্তুত রয়েছে বা মার্কেটে 'প্রাইসড-ইন' হয়েছে) সত্ত্বেও দিনের মধ্যে যে ইউরো বা পাউন্ডের মূল্যের বড় ধরনের মুভমেন্টের কোনো নিশ্চয়তা নেই। আগেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ট্রেডাররা মূলত ফেডারেল রিজার্ভের নীতি এবং বৈশ্বিক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলোর ওপরই বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। বিভিন্ন টাইমফ্রেমে টেকনিক্যাল বিশ্লেষণ এবং বৈশ্বিক মৌলিক পরিস্থিতি বিচারে, মধ্যমেয়াদে স্টার্লিংয়ের দর বৃদ্ধির ভালো সম্ভাবনা রয়েছে।
GBP/USD পেয়ারের 5M চার্টবুধবার 5-মিনিটের টাইমফ্রেমে এই পেয়ারের মূল্য ঊর্ধ্বমুখী বা নিম্নমুখী হওয়ার চেয়ে মূলত সাইডওয়েজ রেঞ্জের মধ্যেই মুভমেন্ট পরিলক্ষিত হয়েছে, তাই কোনো ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়নি। নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেডে এন্ট্রি করার মতো কোনো উপযুক্ত ভিত্তি ছিল না।
বৃহস্পতিবার কীভাবে ট্রেডিং করতে হবে:ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কারেকশনের অংশ হিসেবে শুরু হওয়া GBP/USD পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতা সম্ভবত শীঘ্রই শেষ হতে পারে। আমাদের মতে, মধ্যমেয়াদে পাউন্ডের মূল্য বৃদ্ধির প্রবণতা অব্যাহত থাকা উচিত, যদিও বর্তমানে কারেকশন অব্যাহত রয়েছে। সাপ্তাহিক টাইমফ্রেমে এই পেয়ারের মূল্য সাইডওয়েজ চ্যানেলের লোয়ার বাউন্ডারি থেকে আপার বাউন্ডারির দিকে উঠতে শুরু করেছে এবং এই মুভমেন্ট এখনও সম্পন্ন হয়নি। ফলে, আমরা এই পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকার প্রত্যাশা করছি।
বৃহস্পতিবার, এই পেয়ারের মূল্য 1.3587–1.3598 এরিয়া থেকে বাউন্স করলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.3456–1.3476-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। অন্যদিকে এই পেয়ারের মূল্য 1.3456–1.3476 এরিয়া থেকে বাউন্স করলে লং পজিশন ওপেন করা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.3587-1.3598-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
5-মিনিটের টাইমফ্রেমে ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে: 1.3259–1.3267, 1.3319–1.3331, 1.3380–1.3386, 1.3456–1.3476, 1.3587–1.3598, 1.3631–1.3641, 1.3695, 1.3741। বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্য বা যুক্তরাষ্ট্রে কোনো উল্লেখযোগ্য প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে না বা কোনো ইভেন্টও নির্ধারিত নেই; যুক্তরাষ্ট্রে কেবল সাপ্তাহিক জবলেস ক্লেইমস এবং নিউ হোম সেলস সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে, যেগুলোর প্রতি ট্রেডাররা সম্ভবত খুব একটা গুরুত্ব দেবে না। ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈঠকই একমাত্র ইভেন্ট যা তাত্ত্বিকভাবে পাউন্ডের মূল্যের মুভমেন্ট ঘটাতে পারে।
ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:সিগনালের কার্যকারিতা: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই কার্যকর হিসেবে বিবেচনা করা হয়।ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।ট্রেডিংয়ের সময়সূচী: ইউরোপীয় সেশন শুরু থেকে মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ট্রেড ওপেন করুন এবং এরপর সকল ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করে ফেলুন।MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।চার্টে কী কী রয়েছে:সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।