টানা চারটি ট্রেডিং সেশনে বিটকয়েনের দরপতন ঘটেছে; আজ এটির মূল্য 2.2% পর্যন্ত কমে $76,563-এ নেমে এসেছে। পাশাপাশি, ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাসেটগুলোর ক্ষেত্রে বিদ্যমান অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে বিটকয়েনের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী মোমেন্টাম বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার কারণে এই সপ্তাহে জ্বালানি তেলের দর ব্যারেলপ্রতি $105 ছাড়িয়ে গেছে। এটি সেইসব বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে যারা ফেডারেল রিজার্ভের আর্থিক নীতিমালা নমনীয় হওয়ার প্রত্যাশায় ছিলেন; কারণ জ্বালানির উচ্চমূল্যের ফলে স্টক ও বন্ডের মার্কেটের ওপর নেতিবাচক প্রভাবের পাশাপাশি মুদ্রাস্ফীতির বৃদ্ধির আশঙ্কাও বেড়ে যাচ্ছে—যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষে উপেক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ে। ঠিক এ কারণেই 'প্রডিউসার প্রাইস ইনডেক্স' (উৎপাদক মূল্য সূচক)-এর সর্বশেষ ফলাফলের ইঙ্গিত—যেখানে আগস্ট মাসে মাসিক ভিত্তিতে 0.4% এবং বার্ষিক 5.4% বৃদ্ধির চিত্র উঠে এসেছে—উপেক্ষা না করে বরং বৃহস্পতিবার স্টক মার্কেটে দরপতনের চাপ আরও ত্বরান্বিত হয়েছে।
বিটকয়েনের বর্তমান দরপতন নতুন কোনো কাঠামোগত ধসের ইঙ্গিত নয়, বরং এই দরপতনের মাত্রা এটির মূল্যের স্বাভাবিক ও বিস্তৃত ট্রেডিং রেঞ্জের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে; ফেব্রুয়ারি মাসের শুরু থেকেই বিটকয়েনের মূল্য মূলত $60,000 থেকে $80,000-এর মধ্যে ওঠানামা করছে, যা অক্টোবরের প্রায় $126,000-এর রেকর্ড মূল্যের চেয়ে অনেক নিচে। তা সত্ত্বেও, $80,000-এর ওপর অবস্থান ধরে রাখার বারবার ব্যর্থ প্রচেষ্টা এটাই প্রমাণ করে যে, মার্কিন বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে অসামঞ্জস্যপূর্ণ চাহিদার কারণে সাম্প্রতিক পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াটি অব্যাহত রাখা কতটা কঠিন হয়ে পড়েছে।
আমি আপনাকে মনে করিয়ে দিতে চাই যে, আগস্টের শেষের দিকে বিটকয়েনের মূল্যের তীব্র উত্থানের ফলে পারপেচুয়াল ফিউচার্সে রেকর্ড পরিমাণ শর্ট পজিশনের লিকুইডেশন কার্যক্রমের সূত্রপাত হয়েছিল এবং তারপর থেকে এই অ্যাসেটের মূল্য ক্রমাগত কমছে। সুতরাং, বর্তমান দরপতনের একটি অংশ নতুন কোনো নেতিবাচক মৌলিক খবরের কারণে নয়, বরং পূর্ববর্তী উত্থানের চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করা শর্ট-স্কুইজ প্রভাবের স্বাভাবিক অবসানেরই প্রতিফলন।
আজ ট্রেডাররা মার্কিন ভোক্তা মূল্য সূচক (সিপিআই) সংক্রান্ত প্রতিবেদনের দিকে মনোযোগ দেবে। আশা করা হচ্ছে যে গ্যাসোলিনের মূল্য বৃদ্ধির কারণে কোর ইনফ্লেশন কিছুটা বাড়লেও হেডলাইন ইনফ্লেশন তুলনামূলকভাবে মাঝারি মাত্রায় বাড়বে। ফেডের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে ১৫-১৬ সেপ্টেম্বরের বৈঠকে সুদের হার সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত সরাসরি এই প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর করতে পারে। আমার মতে, মার্কিন মুদ্রাস্ফীতি প্রতিবেদনই মার্কেটের জন্য আসল পরীক্ষা হতে যাচ্ছে: তেলের মূল্য বৃদ্ধি এবং ক্রমাগত মূল মুদ্রাস্ফীতির বৃদ্ধি শেষ পর্যন্ত ফেডকে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করতে বাধ্য করতে পারে, অন্যদিকে মুদ্রাস্ফীতি কমে বিটকয়েনের মূল্য প্রায় $80,000-এর লেভেল টেস্ট করতে পারে, যা কয়েক মাস ধরেই গুরুত্বপূর্ণ রেজিস্ট্যান্স হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ট্রেডিংয়ের পরামর্শ
বিটকয়েন
ক্রেতারা বর্তমানে বিটকয়েনের মূল্যকে $78,500-এর লেভেলে ফেরানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, যার ফলে এটির মূল্য সরাসরি $80,200 পর্যন্ত পৌঁছে যেতে পারে দেবে এবং $81,900-এ পৌঁছানোর সম্ভাবনা উন্মুক্ত হবে; এই লেভেল ব্রেক করে মূল্য ঊর্ধ্বমুখী হলে মার্কেটে পুনরায় বুলিশ প্রবণতা শুরু হয়েছে বলে সংকেত পাওয়া যাবে। দরপতনের ক্ষেত্রে বিটকয়েনের মূল্য $77,200-এ থাকা অবস্থায় ক্রেতারা সক্রিয় হবে বলে আশা করা হচ্ছে রয়েছে। বিটকয়েনের মূল্য ঐ এরিয়ার নিচে নেমে গেলে এটির মূল্য দ্রুত $75,300-এর দিকে নেমে যেতে পারে এবং পরবর্তীতে $72,800 পর্যন্ত দরপতন হতে পারে।
ইথেরিয়াম
ইথেরিয়ামের মূল্য $2,501-এর উপরে স্থিতিশীল হলে সরাসরি $2,573 পর্যন্ত যাওয়ার সম্ভাবনা উন্মুক্ত হবে। পরবর্তীতে ইথেরিয়ামের মূল্য $2,624-এর দিকে যেতে পারে; যা ব্রেক করে ঊর্ধ্বমুখী হলে সেটি বুলিশ প্রবণতা শক্তিশালী হওয়ার এবং ক্রেতাদের আগ্রহ ফিরে আসার সংকেত হিসেবে বিবেচিত হবে। দরপতনের ক্ষেত্রে মূল্য $2,444-এ থাকা অবস্থায় ক্রেতারা সক্রিয় হবে বলে প্রত্যাশা করা যায়। ঐ এরিয়ার নিচে নেমে গেলে ETH-এর মূল্য দ্রুত $2,385-এর দিকে নেমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পরবর্তীতে $2,320 পর্যন্ত দরপতনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যায়।
চার্টে কী কী রয়েছে
লাল লাইনগুলো সাপোর্ট এবং রেজিস্ট্যান্স লেভেলগুলো নির্দেশ করে, যেখানে মূল্যের মুভমেন্ট থেমে যেতে পারে বা তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হতে পারে।সবুজ লাইনটি 50‑দিনের মুভিং এভারেজ নির্দেশ করে।নীল লাইনটি 100‑দিনের মুভিং এভারেজ নির্দেশ করে।লাইম লাইনটি 200‑দিনের মুভিং এভারেজ নির্দেশ করে।মূল্য এই মুভিং এভারেজগুলোর যেকোনোটি টেস্ট বা ক্রস করলে প্রায়শই মুভমেন্ট থেমে যায় বা মার্কেটে নতুন মুভমেন্ট শুরু হয়।