NZD/USD পেয়ারের মূল্যের বিশ্লেষণ ও পূর্বাভাস। সুদের হার ক্ষেত্রে RBNZ-এর ডোভিশ বা নমনীয় নীতি কিউই কারেন্সিকে দুর্বল করছে

NZD/USD কারেন্সি পেয়ারের মূল্য গতকালকের ট্রেডিং রেঞ্জের মধ্যেই অবস্থান করছে। অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে মন্থরতার কারণে সুদের হার বৃদ্ধির বিষয়ে রিজার্ভ ব্যাংক অফ নিউজিল্যান্ডের ডোভিশ বা নমনীয় অবস্থানের ফলে নিউজিল্যান্ড ডলার তুলনামূলকভাবে দুর্বল হয়েছে।

এর বিপরীতে, মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ মুদ্রানীতির ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে হকিশ বা কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে এবং গত সপ্তাহে সুদের হার বৃদ্ধির পর এ বছর আরও একবার তা বাড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে। ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার পাশাপাশি এই পরিস্থিতি মার্কিন ডলারের চাহিদা বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং NZD/USD-এর ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।

নর্ডিয়ার বিশ্লেষকরা মার্কিন অর্থনৈতিক পরিস্থিতির স্থিতিশীলতার ওপর জোর দিচ্ছেন; সেখানে মুদ্রাস্ফীতির চাপ কমার কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না এবং শ্রমবাজারও বেশ শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। তাঁদের মতে, এই পরিস্থিতি মুদ্রানীতি আরও কঠোর করার যৌক্তিকতাকেই জোরালো করে তোলে। নর্ডিয়া সুদের হার আরও দুইবার বাড়ানোর পূর্বাভাস বহাল রেখেছে, তবে একই সঙ্গে সতর্ক করেছে যে, শেষ পর্যন্ত ফেডারেল রিজার্ভকে হয়তো বর্তমান প্রত্যাশার চেয়েও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হতে পারে।

ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠী সৌদি আরবের রিয়াদের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সাথে পুনরায় আলোচনা শুরুর জন্য ইরান সাতটি শর্ত দিয়েছে; এর মধ্যে রয়েছে সামরিক অভিযানের সমাপ্তি, জব্দকৃত সম্পদ অবমুক্তকরণ এবং ইরানি বন্দরগুলোর ওপর থেকে সামুদ্রিক অবরোধ প্রত্যাহারকরণ। এই ঘটনাপ্রবাহ ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি বজায় রেখেছে এবং মার্কিন ডলারকে শক্তিশালী করছে।

একই সাথে, সৌদি আরবের তেল রপ্তানি কার্যক্রম পুনরায় শুরু হওয়ায় অপরিশোধিত তেলের দর কমেছে, যা লাগামহীন মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা কিছুটা প্রশমিত করেছে। এর ফলে মার্কিন সরকারি বন্ডের ইয়েল্ড বা লভ্যাংশ গত সপ্তাহে বহু-বছরের সর্বোচ্চ স্তর থেকে নিচে নেমে এসেছে এবং তীব্রভাবে মার্কিন ডলার ক্রয়ের প্রবণতাও সীমিত হয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠেয় বৈঠকের আগে ট্রেডাররা সতর্ক অবস্থান বজায় রেখেছেন; এই বৈঠকের ফলাফল 'কিউই' (নিউজিল্যান্ড ডলার)-সহ ওশেনিয়া অঞ্চলের কারেন্সিগুলোর ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

স্বল্পমেয়াদী পূর্বাভাস: NZD/USD-এর মূল্যের বিয়ারিশ বা নিম্নমুখী প্রবণতা বজায় রয়েছে এবং 0.5700-এর রাউন্ড সাপোর্ট লেভেলটি ব্রেক করে দরপতনের ঝুঁকি রয়েছে। এই পেয়ারের মূল্য এই লেভেলটি স্পষ্টভাবে ব্রেক করে নিম্নমুখী হলে 0.5680–0.5670-এর কাছাকাছি অবস্থিত পরবর্তী সাপোর্ট লেভেলের দিকে দরপতনের সম্ভাবনা উন্মুক্ত হবে।

ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার ক্ষেত্রে, তাৎক্ষণিক রেজিস্ট্যান্স হিসেবে 0.5760 এবং পরবর্তীতে 0.5800-এর রাউন্ড লেভেল রয়েছে। এর উপরে মুভিং এভারেজগুলো (যার মধ্যে 200-ডে SMA অন্তর্ভুক্ত) উল্লেখযোগ্য রেজিস্ট্যান্স হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে; এই পেয়ারের মূল্য এই রেজিস্ট্যান্সগুলো অতিক্রম করতে পারলে মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ বুল বা ক্রেতাদের কাছে চলে আসবে। বর্তমানে অসিলেটরগুলো নেগেটিভ জোনে রয়েছে এবং মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ বিয়ার বা বিক্রেতাদের হাতেই রয়েছে; তবে RSI সূচক ওভারসোল্ড জোনের কাছাকাছি অবস্থান করায় এই পেয়ারের মূল্যের কারেক্টিভ বাউন্সের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।