মঙ্গলবার অল্প কয়েকটি সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে এবং সেগুলোর কোনোটিই বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ নয়। ইউরোজোনে 'কনজিউমার কনফিডেন্স ইনডেক্স' (ভোক্তা আস্থা সূচক) এবং যুক্তরাষ্ট্রে এডিপি কর্মসংস্থান সংক্রান্ত সাপ্তাহিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। উভয় প্রতিবেদনই স্বল্প গুরুত্বসম্পন্ন এবং এগুলোর ফলাফলের প্রভাবে মার্কেটে উল্লেখযোগ্য কোনো প্রতিক্রিয়া সৃষ্টির সম্ভাবনা কম। সামগ্রিকভাবে এই সপ্তাহে উল্লেখযোগ্য কোনো প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে না; তাই উভয় কারেন্সি পেয়ারের মূল্যের উল্লেখযোগ্য মুভমেন্ট শুরু হলে তা সম্ভবত সপ্তাহের দ্বিতীয়ার্ধে প্রকাশিতব্য কোনো প্রতিবেদনের প্রভাবেই ঘটবে।
ফান্ডামেন্টাল ইভেন্টের বিশ্লেষণ:মঙ্গলবারের ফান্ডামেন্টাল ইভেন্টগুলোর মধ্যে বেশ কয়েকজন ফেডারেল রিজার্ভ কর্মকর্তার বক্তব্য নির্ধারিত রয়েছে - বিশেষত টমাস বারকিন এবং জন উইলিয়ামস। যাইহোক, গত সপ্তাহেই ফেডের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে, সর্বসম্মতভাবে মূল সুদের হার বৃদ্ধি করা হয়েছে, এবং বেশিরভাগ ফেড সদস্যরা ডট-প্লটের পূর্বাভাস অনুযায়ী চলতি বছর শেষের আগে কমপক্ষে আরও একবার সুদের হার বৃদ্ধির আশা করছে। সুতরাং, ফেডের অবস্থান ইতোমধ্যেই স্পষ্ট। বর্তমানে, ফেড সদস্যদের বক্তৃতার চেয়ে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি এবং আসন্ন অর্থনৈতিক প্রতিবেদন দ্বারা কারেন্সি মার্কেট বেশি প্রভাবিত হবে।
ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এখনও বেশ নেতিবাচক। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা হচ্ছে না; হরমুজ প্রণালী আংশিকভাবে বন্ধ রয়েছে; ইরান-সমর্থিত হুথি বাহিনী সৌদি আরবের উপর নৌ-অবরোধ অব্যাহত রেখেছে এবং দেশটির স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শীঘ্রই ইরানের বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে, যদিও তা কী হবে সে ব্যাপারে কেউ কিছু জানে না। আমরা এখনও স্বল্পমেয়াদে ইরান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক সমাধানের খুব একটা সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছি না।
উপসংহার:চলতি সপ্তাহের দ্বিতীয় দিনের ট্রেডিংয়ে উভয় কারেন্সি পেয়ারের আবারও কারেকশনের প্রচেষ্টা পরিলক্ষিত হতে পারে। আজ ইউরো 1.1461–1.1474 এবং পাউন্ড 1.3380–1.3386 রেঞ্জের মধ্যে ট্রেড করা যেতে পারে। আজ কোনো গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট নির্ধারিত না থাকায় আবারও মার্কেটে স্বল্প মাত্রার ভোলাট্যালিটি বা অস্থিরতা বজায় থাকতে পারে।
ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:সিগনালের শক্তি: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।ট্রেডিংয়ের সময়সূচী: ইউরোপীয় সেশন শুরু থেকে মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ট্রেড ওপেন করুন এবং এরপর সকল ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করে ফেলুন।MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।চার্টে কী কী রয়েছে:সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।