বুধবার EUR/USD কারেন্সি পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত ছিল এবং দিনের মধ্যে আরও 70 পিপস দরপতন ঘটে। উল্লেখ্য যে, দিনের কোনো ইভেন্টই বা প্রকাশিত কোনো প্রতিবেদনই তাত্ত্বিকভাবে ইউরোর এই দরপতনের কারণ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। জার্মানি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিজনেস অ্যাক্টিভিটি সংক্রান্ত সূচকগুলোর ফলাফল পূর্বাভাসের চেয়েও ইতিবাচক ছিল। তবুও ট্রেডাররা এগুলোর প্রতি তেমন কোনো গুরুত্ব দেয়নি—তবে এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই, কারণ এর আগে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক দুইবার আর্থিক নীতিমালা কঠোর করার পদক্ষেপকেও ট্রেডাররা উপেক্ষা করেছিল। মূলত সন্ধ্যার দিকে যুক্তরাষ্ট্রে বিজনেস অ্যাক্টিভিটি সংক্রান্ত সূচকগুলো প্রকাশিত হয়েছিল , তাই দিনের বেলায় মার্কিন ডলারের যে মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে, তার সাথে এগুলোর কোনো সম্পর্ক ছিল না। ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা হ্রাস এবং ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কোনো চুক্তির আশায় মার্কিন ডলারের দর বৃদ্ধি পেয়েছে? এ ধরনের ঘটনা তো নিরাপদ বিনিয়োগ মাধ্যম হিসেবে মার্কিন ডলারের চাহিদা কমানোর কথা, বাড়ানোর কথা নয়। সুতরাং, ট্রেডাররা মূলত ফেডারেল রিজার্ভের আর্থিক নীতিমালা কঠোর হওয়ার বিষয়টির ওপর ভিত্তি করেই মার্কিন ডলার ক্রয় অব্যাহত রেখেছে। টানা তৃতীয় সপ্তাহের মতো এমনটা ঘটছে—অবশ্য কেভিন ওয়ার্শের প্রতিটি বক্তব্যের সময়ই যে নিয়মিতভাবে মার্কিন ডলারের দর বৃদ্ধি পেতে দেখা যায়, সেটিকে এই হিসাবের বাইরেই রাখতে হবে।
EUR/USD পেয়ারের 5M চার্টবুধবার 5-মিনিটের টাইমফ্রেমে দিনের শেষভাগে মাত্র একটি ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়েছিল। এই পেয়ারের মূল্য 1.1366–1.1377-এর সাপোর্ট এরিয়ায় পৌঁছে সেখান থেকে রিবাউন্ড করে; এর ফলে ট্রেডাররা লং পজিশন ওপেন করার সুযোগ পান, এই আশায় যে বৃহস্পতিবার এই কারেন্সি পেয়ারের মূল্য কিছুটা বৃদ্ধি পাবে। তবে মনে রাখা প্রয়োজন যে, মঙ্গলবার 1.1461–1.1474 এরিয়ায় দুটি সেল সিগন্যাল গঠিত হয়েছিল, যা দিনের শেষভাগে মুনাফা এনে দিয়েছিল।
বৃহস্পতিবার কীভাবে ট্রেডিং করতে হবে:ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে, EUR/USD পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে যা এখন পূর্ণাঙ্গ প্রবণতায় রূপ নিয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোর ঘটনাপ্রবাহ বিবেচনায়, হঠাৎ করেই ইউরোর ব্যাপক দরপতন ঘটবে —এমনটা মনে করার কোনো কারণ নেই; তবে ট্রেডাররা এখন মূলত ফেডারেল রিজার্ভের গৃহীত নীতিমালা ওপর মনোযোগ দিচ্ছে, যা এখন মার্কিন ডলারের জন্য উল্লেখযোগ্যভাবে অনুকূল হয়ে উঠেছে। মার্কেটের ট্রেডাররা অন্যান্য সকল বিষয় উপেক্ষা করে চলেছে।
বৃহস্পতিবার, যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.1366–1.1377 এরিয়ার নিচে কনসলিডেট করে, তাহলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.1267–1.1275-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। এই পেয়ারের মূল্য 1.1366–1.1377 এরিয়া থেকে রিবাউন্ড করলে লং পজিশন ওপেন করা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.1461–1.1474-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
5-মিনিটের টাইমফ্রেমে, ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা উচিত: 1.1267–1.1275, 1.1366–1.1377, 1.1461–1.1474, 1.1527–1.1531, 1.1584–1.1594, 1.1655–1.1665, 1.1745–1.1754। বৃহস্পতিবার জার্মানিতে বিজনেস ক্লাইমেট ইনডেক্স এবং যুক্তরাষ্ট্রে জবলেস ক্লেইমস সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদনের ফলাফল যদি আবারও মার্কিন ডলারের দর বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে, তবে আমরা খুব একটা অবাক হব না।
ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:সিগনালের শক্তি: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।ট্রেডিংয়ের সময়সূচী: ইউরোপীয় সেশন শুরু থেকে মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ট্রেড ওপেন করুন এবং এরপর সকল ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করে ফেলুন।MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।চার্টে কী কী রয়েছে:সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।