২৪ সেপ্টেম্বর কোন ইভেন্টগুলোর উপর মনোযোগ দেওয়া উচিত? নতুন ট্রেডারদের জন্য ফান্ডামেন্টাল ইভেন্টের বিশ্লেষণ

সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদনের বিশ্লেষণ:

বৃহস্পতিবার অল্প কয়েকটি সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে এবং সেগুলোর কোনোটিই খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। সেইসাথে ট্রেডাররা প্রায় সকল সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদন উপেক্ষা করে প্রতিদিনই মার্কিন ডলার কিনছে। তাই জার্মানির বিজনেস ক্লাইমেট বা যুক্তরাষ্ট্রের জবলেস ক্লেইমের মতো সম্পূর্ণ স্বল্প গুরুত্বসম্পন্ন প্রতিবেদনগুলোর ফলাফল মার্কেটে কোনো প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করবে—এমনটা আশা করা যায় না। মনে রাখা প্রয়োজন যে, ট্রেডাররা এখনও শুধুমাত্র ফেডারেল রিজার্ভের মুদ্রানীতির ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে এবং অন্য সব বিষয় উপেক্ষা করছে। ইউরো ও পাউন্ডের বর্তমান দরপতনকে কোনোভাবেই যৌক্তিক বা সঙ্গত বলা যায় না।

ফান্ডামেন্টাল ইভেন্টের বিশ্লেষণ:

বৃহস্পতিবারের উল্লেখযোগ্য ফান্ডামেন্টাল ইভেন্টগুলোর মধ্যে ফেডারেল রিজার্ভের প্রতিনিধি থমাস বার্কিন, ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সদস্য ইসাবেল শ্নাবেল ও ফিলিপ লেন এবং ব্যাংক অফ ইংল্যান্ডের সদস্য স্বাতী ধিংরা ও সারাহ ব্রিডেনের বক্তব্য নির্ধারিত রয়েছে। উল্লেখ্য যে, গত সপ্তাহেই ফেডারেল রিজার্ভের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে; সেখানে সর্বসম্মতিক্রমে মূল সুদের হার বাড়ানো হয়েছে এবং ডট প্লটের পূর্বাভাস অনুযায়ী ফেডের অধিকাংশ সদস্যই চলতি বছরের শেষ নাগাদ আরও অন্তত একবার সুদের হার বৃদ্ধির প্রত্যাশা করছেন। সুতরাং, এ মুহূর্তে ফেডারেল রিজার্ভের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট। ইসিবি এবং ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের অবস্থানও বেশ স্পষ্ট। ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতির প্রেক্ষাপটে ইসিবি কঠোর মুদ্রানীতি অব্যাহত রাখতে প্রস্তুত। একই কারণে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডও মুদ্রানীতি কঠোর করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে এখন এই তথ্যগুলোর খুব একটা গুরুত্ব নেই, কারণ ট্রেডাররা কোনো নির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই মার্কিন ডলার ক্রয় করে চলেছে।

ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিও খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো আলোচনা হচ্ছে না; যদিও ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ইরানি প্রতিনিধিদের সাথে মার্কিন প্রতিনিধিদলের অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে এবং মার্কিন কংগ্রেস নির্বাচনের পর একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে। তবে এমন ইতিবাচক ফলাফলের বিষয়ে ট্রেডারদের মধ্যে কোনো আস্থা নেই। মনে রাখা প্রয়োজন যে, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা হ্রাস পেলে মার্কিন ডলারের দরপতন ঘটে। অথচ গত তিন সপ্তাহ ধরে মার্কিন ডলারের দর ক্রমাগত বাড়ছে।

উপসংহার:

চলতি সপ্তাহের চতুর্থ দিনের ট্রেডিংয়ে উভয় কারেন্সি পেয়ারের মন্থর দরপতন অব্যাহত থাকতে পারে, কারণ এই নিম্নমুখী প্রবণতা এখন আর মৌলিক, ভূ-রাজনৈতিক বা সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটের ওপর নির্ভর করছে না । আজ ইউরো 1.1366–1.1377 এবং পাউন্ড 1.3259–1.3267 এবং 1.3175–1.3180 রেঞ্জের মধ্যে ট্রেড করা যেতে পারে।

ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:সিগনালের শক্তি: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।ট্রেডিংয়ের সময়সূচী: ইউরোপীয় সেশন শুরু থেকে মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ট্রেড ওপেন করুন এবং এরপর সকল ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করে ফেলুন।MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।চার্টে কী কী রয়েছে:সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।

ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।