স্পট মার্কেটের চাহিদা বনাম ফিউচার্স মার্কেটের চাহিদা

বিটকয়েন এবং ইথেরিয়ামের মূল্য আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে এবং একটি পূর্ণাঙ্গ বুলিশ বা উর্ধ্বমুখী প্রবণতা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। ডিজিটাল অ্যাসেটের এই নতুন ও আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধির সুনির্দিষ্ট কারণ কী, তা এখনও নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। অবশ্য দিনশেষে বিষয়টি সরবরাহ ও চাহিদার ওপরই নির্ভর করে; চাহিদা বেড়েছে, তাই মূল্যও বেড়েছে। তবে চাহিদা কেন বাড়ল, তা ঘটনা ঘটার পরেও বলা কঠিন। উল্লেখ্য যে, ক্রিপ্টো জগতের সর্বশেষ দুটি বড় ঘটনা নেতিবাচক ছিল। কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো (বিশেষ করে ফেডারেল রিজার্ভ) মুদ্রানীতি কঠোর করতে শুরু করেছিল, যার ফলে ব্যাংক আমানত ও সরকারি বন্ডের মতো নিরাপদ বিনিয়োগের চাহিদা বেড়ে যায়। এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রে ডিজিটাল অ্যাসেটে বিনিয়োগ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে আনা 'ক্ল্যারিটি অ্যাক্ট' বিলটি আবারও কংগ্রেসে পাস হতে ব্যর্থ হয়েছে। যৌক্তিকভাবে দেখলে, ক্রিপ্টো মার্কেটে নতুন করে এমন ব্যাপক উত্থানের পরিবর্তে বরং দরপতন হওয়ার কথা ছিল। তবে আমরা আগেই সতর্ক করেছিলাম যে, এ ধরনের মূল্যবৃদ্ধির জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট কারণের প্রয়োজন হয় না এবং কোনো যৌক্তিকতাও থাকে না।

এদিকে, বিশেষজ্ঞরা লক্ষ্য করেছেন যে ইথেরিয়াম ও বিটকয়েনের সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধির দুটি ধাপ মূলত 'লিভারেজড ফিউচারস পজিশন'-এর কারণেই ঘটেছে। সহজ কথায়, ট্রেডাররা মার্জিন বা ঋণের সুবিধা নিয়ে লং পজিশন ওপেন করছেন। এ ধরনের পজিশন ঝুঁকিপূর্ণ; কারণ অ্যাসেটের মূল্য যদি বিপরীতমুখী হয়, তবে ফোর্সড লিকুইডেশন হওয়ার প্রবল আশঙ্কা থাকে। ফিউচারস ট্রেডিংয়ের তুলনায় স্পট ট্রেডিং আলাদা, কারণ এখানে আপনি সরাসরি মূল অ্যাসেটটি কেনেন এবং কোনো লিভারেজের সুবিধা ব্যবহার করেন না। তাই আপনি যদি $90,000-এ বিটকয়েন কেনেন এবং মূল্য কমে $50,000-এ নেমে আসে, তবুও স্পট ট্রেডারের ক্ষেত্রে মার্জিন কলের কোনো ঝুঁকি থাকে না। কিন্তু ফিউচার্স পজিশনের ক্ষেত্রে খুব দ্রুতই মার্জিন কল আসতে পারে। তখন কী ঘটে? বিপুল সংখ্যক লিভারেজড পজিশন ফোর্সড ক্লোজ হয়ে যায়, যার ফলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চাহিদা কমে যায় এবং মূল্য আরও বড় রেঞ্জের মধ্যে আটকে যায়। এ কারণেই মার্কেটের বিদ্যমান প্রবণতা কতটা স্থিতিশীল ও টেকসই হবে, তা মূলত স্পট ট্রেডিং ভলিউমের ওপরই নির্ভর করে।

তবে, স্পট মার্কেটে বিটকয়েন এবং ইথেরিয়ামের চাহিদা কমই রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন যে, স্পট মার্কেটের চাহিদা যদি ফিউচার্স মার্কেটের চাহিদার সাথে তাল মিলিয়ে চলে এবং তাকে সমর্থন করে, তবেই আরও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার সম্ভাবনা থাকে। আমরা আগেই বলেছি যে, ১৬ই আগস্ট থেকে এখন পর্যন্ত বিটকয়েনের মূল্যের উত্থানকে অনেকটাই একটি পাম্প বা কারসাজি বলে মনে হচ্ছে। যদি মার্কেটে বেশিরভাগ পজিশন লিভারেজে ওপেন করা হয়, তবে এটি মার্কেট-মেকার বা হোয়েলদের জন্য একটি স্বর্গরাজ্য, কারণ সামান্য মূল্য হ্রাসও ফোর্সড লিকুইডেশনের একটি ঢেউ তৈরি করতে পারে। আমরা যেমন আগে উল্লেখ করেছি, বিটকয়েনকে সম্পূর্ণরূপে বিকেন্দ্রীভূত অ্যাসেট হিসেবে বিবেচনা করা যায় না — এটির মূল্য বড় বড় ফান্ড এবং ট্রেডারদের দ্বারা প্রভাবিত হতে পারে।

BTC/USD-এর ট্রেডিংয়ের পরামর্শ

বিটকয়েনের মূল্যের একটি নতুন বুলিশ বা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা শুরু হওয়ার সকল সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। বরাবরের মতোই এই প্রবণতাটি এমন একটি পাম্প দিয়ে শুরু হচ্ছে যার কোনো সুনির্দিষ্ট বা স্পষ্ট কারণ নেই। ফেড সুদের হার কমানো শুরু করেনি এবং ক্ল্যারিটি অ্যাক্টও পাস হয়নি। স্বল্পমেয়াদে, দৈনিক টাইমফ্রেমে, বিয়ারিশ FVG-এর কাছাকাছি বিটকয়েনের মূল্যের প্রতিক্রিয়া পরিলক্ষিত হওয়ায় এটির দরপতন হতে পারে। আমরা ট্রেডারদের এটাও মনে করিয়ে দিচ্ছি যে, দৈনিক কনসলিডেশন চ্যানেলের বাইরে বর্তমান ব্রেকআউটটি একটি ডেভিয়েশন হতে পারে — হ্যাঁ, একটি গভীর ডেভিয়েশন, কিন্তু তবুও এটি ডেভিয়েশন। যদি তাই ঘটে, তাহলে বিটকয়েনের মূল্য আবারও $57,500-এর দিকে পতনের শিকার হতে পারে। 4-ঘণ্টার টাইমফ্রেমে, সাম্প্রতিকতম বুলিশ FVG থেকে লং পজিশন ওপেন করার কথা বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে, আমরা বর্তমানে একটি কারেকশনের সম্ভাবনাই বেশি বলে মনে করছি।

ETH/USD-এর ট্রেডিংয়ের পরামর্শ

দৈনিক টাইমফ্রেমে, মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ইথারিয়ামের টেকনিক্যাল চিত্র নাটকীয়ভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। এখন ইথারের মূল্যের একটি নতুন ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা শুরু হতে পারে। তবে, ট্রেডারদের প্রাথমিকভাবে সাপ্তাহিক চার্টের উপর ভিত্তি করে পজিশন ওপেন করা উচিত, যেখানে ইথারের মূল্য $4,800-এর দিকে যেতে পারে, যা পাঁচ বছরব্যাপী বিদ্যমান একটি সাইডওয়েজ চ্যানেলের আপার বাউন্ডারি। দৈনিক চার্টে, প্রথম বিয়ারিশ FVG-তে উল্লেখযোগ্য কোনো প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়নি; তবে পরবর্তী FVG-এর ক্ষেত্রে প্রতিক্রিয়া দেখা যেতে পারে। বিটকয়েনও নিকটতম বিয়ারিশ FVG ফিল-আপ করেছে, তাই অদূর ভবিষ্যতে উভয় ক্রিপ্টোকারেন্সির মূল্যের হয়তো কারেকশন শুরু হতে পারে। উভয় ডিজিটাল অ্যাসেটের ক্ষেত্রেই সাম্প্রতিক এই মূল্যবৃদ্ধি মূলত এক ধরণের 'পাম্প' বা কৃত্রিম উত্থানের ফল। বর্তমানে এই ক্রিপ্টোকারেন্সিগুলোর আরও মূল্যবৃদ্ধির চেয়ে দরপতনের মৌলিক কারণগুলোই বেশি জোরালো।

চার্টের ব্যাখা

CHOCH—ট্রেন্ড স্ট্রাকচারের ব্রেক।

লিকুইডিটি—স্টপ লস এবং পেন্ডিং অর্ডার, যা মার্কেট মেকাররা তাদের পজিশন বিল্ড করার কাজে ব্যবহার করেন।

FVG—প্রাইস ইনএফিসিয়েন্সি এরিয়া, যার মধ্য দিয়ে মূল্য দ্রুত মুভমেন্ট প্রদর্শন যখন মার্কেটে বায়ার বা সেলার কোনো এক পক্ষ সক্রিয় না থাকে; মূল প্রবণতা বজায় রাখার স্বার্থে মূল্য প্রায়শই এই এরিয়ায় ফিরে আসে এবং সেখানে প্রতিক্রিয়া প্রদর্শন করে।

IFVG—ইনভার্টেড ফেয়ার-ভ্যালু গ্যাপ। এই এরিয়ায় ফিরে আসার সময় মূল্য কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায় না, বরং জোরালো গতিতে তা ব্রেক করে বেরিয়ে যায় এবং পরবর্তীতে বিপরীত দিক থেকে পুনরায় সেই লেভেলটি রিটেস্ট করে।

OB—অর্ডার ব্লক: এমন একটি ক্যান্ডেল যেখানে একজন মার্কেট মেকার লিকুইডিটি সংগ্রহ করতে এবং বিপরীত দিকে একটি পজিশন বিল্ড করতে মার্কেটে এন্ট্রি করেছিলেন।