বিটকয়েন এবং ইথেরিয়ামের মূল্য আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে এবং একটি পূর্ণাঙ্গ বুলিশ প্রবণতা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। ডিজিটাল অ্যাসেট মার্কেটে এই আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধির সুনির্দিষ্ট কারণগুলো এখনও নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না, যদিও দিনশেষে এর মূলে রয়েছে সেই চিরাচরিত চাহিদা ও জোগানের বিষয়টি। চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় ক্রিপ্টো অ্যাসেটের দামও বেড়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই চাহিদা বাড়ল, তা ঘটনা ঘটার পরেও বলা কঠিন। কৌতূহলজাগানিয়া বিষয় হলো, ক্রিপ্টো জগতের সাম্প্রতিক দুটি বড় ঘটনাই নেতিবাচক ছিল। কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো (বিশেষ করে ফেডারেল রিজার্ভ) মুদ্রানীতি কঠোর করতে শুরু করেছে, যার ফলে ব্যাংক আমানত ও সরকারি বন্ডের মতো নিরাপদ বিনিয়োগের চাহিদা বাড়ছে। এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রে ডিজিটাল অ্যাসেটে বিনিয়োগ নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে আনা 'ক্ল্যারিটি অ্যাক্ট' বিলটি আবারও কংগ্রেসে পাস হতে ব্যর্থ হয়েছে। যৌক্তিকভাবে বিচার করলে, এমন পরিস্থিতিতে ক্রিপ্টো মার্কেটে ধস নামার কথা ছিল, অথচ এর পরিবর্তে এক নতুন ও ব্যাপক ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তবে আমরা আগেই সতর্ক করেছিলাম যে, এ ধরনের পাম্প বা মূল্যবৃদ্ধির জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ বা যৌক্তিকতার প্রয়োজন হয় না।
এদিকে, বিলিয়নিয়ার ও বিনিয়োগকারী টিম ড্রেপার ডিজিটাল স্বর্ণে বিনিয়োগের বিষয়ে অনাগ্রহ দেখানোর জন্য অ্যাপল ও মেটার সমালোচনা করেছেন। ড্রেপার বলেন, বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো তাদের মূলধনের অবমূল্যায়ন ও আর্থিক অস্থিতিশীলতা থেকে রক্ষা করতে বিটকয়েন এবং অন্যান্য ডিজিটাল অ্যাসেট কিনতে পারে। তিনি আরও সতর্ক করেন যে, সরকারি ব্যয় ও রাষ্ট্রীয় ঋণের ঊর্ধ্বগতি মার্কিন ডলারের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান রাজস্ব নীতি চরম মুদ্রাস্ফীতির দিকে নিয়ে যেতে পারে এবং ফেডারেল রিজার্ভ নতুন করে অর্থ ছাপাতে বাধ্য হতে পারে। তিনি আরও যোগ করেন যে, উচ্চ ফেডারেল সুদের হার ঋণ গ্রহণের খরচ বাড়িয়ে দেবে, যা মানুষের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস করবে এবং যুক্তরাষ্ট্রে আর্থিক সংকট সৃষ্টি করবে।
ড্রেপারের মতে, এ থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় হলো বিটকয়েন। তিনি মনে করেন, বিটকয়েনকে কেবলই একটি অস্থিতিশীল বিনিয়োগের মাধ্যম হিসেবে দেখা উচিত নয়, বরং এটিকে মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে সুরক্ষাকবচ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। এই বিশেষজ্ঞ মনে করেন, বাণিজ্যিক ব্যাংকের তুলনায় ক্রিপ্টো-তে সঞ্চয় ধরে রাখা অনেক বেশি নিরাপদ; তাছাড়া ভবিষ্যতে কোয়ান্টাম কম্পিউটার বিটকয়েন নেটওয়ার্ককে যতটা দ্রুত অকার্যকর করতে পারবে, তার চেয়ে অনেক দ্রুত প্রচলিত আর্থিক ব্যবস্থাকে ভেঙে ফেলতে সক্ষম হবে। তবে মেটা, মাইক্রোসফট এবং অ্যাপলের মতো কোম্পানিগুলো ক্রিপ্টো রিজার্ভ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে কোনো আগ্রহ দেখাচ্ছে না, যা ড্রেপারকে হতাশ করেছে। অবশ্য উল্লেখ্য যে, বিশ্বের বৃহত্তম প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো সম্ভবত ভালো করেই জানে তারা কী করছে। ড্রেপার নিজেও বিটকয়েনের একজন সমর্থক ও বিনিয়োগকারী; তাই এই অ্যাসেটটির মূল্যবৃদ্ধির সাথে তাঁর ব্যক্তিগত স্বার্থ জড়িত থাকার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। স্বাভাবিকভাবেই, তাঁর মতে সবারই বিটকয়েন কেনা উচিত, যাতে এই অ্যাসেটের মূল্য বৃদ্ধি অব্যাহত থাকে এবং প্রাথমিক বিনিয়োগকারীরা লাভবান হতে পারেন।
বিটকয়েনের মূল্যের একটি নতুন বুলিশ বা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা শুরু হওয়ার সকল সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। বরাবরের মতোই এই প্রবণতাটি এমন একটি পাম্প দিয়ে শুরু হচ্ছে যার কোনো সুনির্দিষ্ট বা স্পষ্ট কারণ নেই। ফেড সুদের হার কমানো শুরু করেনি এবং ক্ল্যারিটি অ্যাক্টও পাস হয়নি। স্বল্পমেয়াদে, দৈনিক টাইমফ্রেমে, বিয়ারিশ FVG-এর কাছাকাছি বিটকয়েনের মূল্যের প্রতিক্রিয়া পরিলক্ষিত হওয়ায় এটির দরপতন হতে পারে। আমরা ট্রেডারদের এটাও মনে করিয়ে দিচ্ছি যে, দৈনিক কনসলিডেশন চ্যানেলের বাইরে বর্তমান ব্রেকআউটটি একটি ডেভিয়েশন হতে পারে — হ্যাঁ, একটি গভীর ডেভিয়েশন, কিন্তু তবুও এটি ডেভিয়েশন। যদি তাই ঘটে, তাহলে বিটকয়েনের মূল্য আবারও $57,500-এর দিকে পতনের শিকার হতে পারে। 4-ঘণ্টার টাইমফ্রেমে, সাম্প্রতিকতম বুলিশ FVG থেকে লং পজিশন ওপেন করার কথা বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে, আমরা বর্তমানে একটি কারেকশনের সম্ভাবনাই বেশি বলে মনে করছি।
দৈনিক টাইমফ্রেমে, মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ইথারিয়ামের টেকনিক্যাল চিত্র নাটকীয়ভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। এখন ইথারের মূল্যের একটি নতুন ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা শুরু হতে পারে। তবে, ট্রেডারদের প্রাথমিকভাবে সাপ্তাহিক চার্টের উপর ভিত্তি করে পজিশন ওপেন করা উচিত, যেখানে ইথারের মূল্য $4,800-এর দিকে যেতে পারে, যা পাঁচ বছরব্যাপী বিদ্যমান একটি সাইডওয়েজ চ্যানেলের আপার বাউন্ডারি। দৈনিক চার্টে, প্রথম বিয়ারিশ FVG-তে উল্লেখযোগ্য কোনো প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়নি; তবে পরবর্তী FVG-এর ক্ষেত্রে প্রতিক্রিয়া দেখা যেতে পারে। বিটকয়েনও নিকটতম বিয়ারিশ FVG ফিল-আপ করেছে, তাই অদূর ভবিষ্যতে উভয় ক্রিপ্টোকারেন্সির মূল্যের হয়তো কারেকশন শুরু হতে পারে। উভয় ডিজিটাল অ্যাসেটের ক্ষেত্রেই সাম্প্রতিক এই মূল্যবৃদ্ধি মূলত এক ধরণের 'পাম্প' বা কৃত্রিম উত্থানের ফল। বর্তমানে এই ক্রিপ্টোকারেন্সিগুলোর আরও মূল্যবৃদ্ধির চেয়ে দরপতনের মৌলিক কারণগুলোই বেশি শক্তিশালী।
চার্টের ব্যাখাCHOCH—ট্রেন্ড স্ট্রাকচারের ব্রেক।
লিকুইডিটি—স্টপ লস এবং পেন্ডিং অর্ডার, যা মার্কেট মেকাররা তাদের পজিশন বিল্ড করার কাজে ব্যবহার করেন।
FVG—প্রাইস ইনএফিসিয়েন্সি এরিয়া, যার মধ্য দিয়ে মূল্য দ্রুত মুভমেন্ট প্রদর্শন যখন মার্কেটে বায়ার বা সেলার কোনো এক পক্ষ সক্রিয় না থাকে; মূল প্রবণতা বজায় রাখার স্বার্থে মূল্য প্রায়শই এই এরিয়ায় ফিরে আসে এবং সেখানে প্রতিক্রিয়া প্রদর্শন করে।
IFVG—ইনভার্টেড ফেয়ার-ভ্যালু গ্যাপ। এই এরিয়ায় ফিরে আসার সময় মূল্য কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায় না, বরং জোরালো গতিতে তা ব্রেক করে বেরিয়ে যায় এবং পরবর্তীতে বিপরীত দিক থেকে পুনরায় সেই লেভেলটি রিটেস্ট করে।
OB—অর্ডার ব্লক: এমন একটি ক্যান্ডেল যেখানে একজন মার্কেট মেকার লিকুইডিটি সংগ্রহ করতে এবং বিপরীত দিকে একটি পজিশন বিল্ড করতে মার্কেটে এন্ট্রি করেছিলেন।