স্বর্ণের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতার সাথেই চলতি সপ্তাহটি শেষ হতে যাচ্ছে এবং এটির মূল্য একটি বিস্তৃত সাইডওয়েজ চ্যানেলের মধ্যে অবস্থান করতে পারে, কারণ জ্বালানির উচ্চ মূল্য এবং মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধির উদ্বেগের ফলে বন্ডের ইয়েল্ড বা লভ্যাংশ বেড়েছে এবং ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বৃদ্ধি করবে এমন প্রত্যাশা জোরদার হয়েছে। আজ প্ল্যাটিনামের দর সামান্য বেড়েছে, অন্যদিকে প্যালাডিয়ামের দরপতন ঘটেছে।
শুক্রবার স্বর্ণের মূল্য প্রতি আউন্স $4,300-এর দিকে কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও তা গত শুক্রবারের তুলনায় প্রায় 2% নিচে অবস্থান করছে। গত দুদিনে 7%-এরও বেশি মূল্য বৃদ্ধির পর জ্বালানি তেলের কিছুটা দরপতন ঘটেছে; কারণ উভয়পক্ষের আলোচকরা এমন একটি পর্যায়ক্রমিক চুক্তির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছেন যার আওতায় তেহরান হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেবে এবং ওয়াশিংটনও ইরানের নৌ-বন্দরের অবরোধ তুলে নেবে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে জ্বালানি তেলের মূল্য এবং ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার আরও বৃদ্ধির প্রত্যাশা স্বর্ণের মূল্যের ওঠানামায় মূল ভূমিকা পালন করেছে; উল্লেখ্য, সুদের হার বা ঋণের খরচ বৃদ্ধি সাধারণত এমন অ্যাসেটের জন্য নেতিবাচক যা থেকে কোনো নিয়মিত আয় (যেমন সুদ বা লভ্যাংশ) পাওয়া যায় না। সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে জ্বালানি তেলের দর বৃদ্ধি এবং সরকারি ঋণের পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের জেরে সৃষ্ট মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কায় বৃহস্পতিবার মার্কিন ট্রেজারি মার্কেটে ব্যাপক সেলিং প্রেশার দেখা দেয়—যা স্বর্ণের জন্য আরেকটি প্রতিকূল বিষয়। ফলে বন্ডের ইয়েল্ড বা লভ্যাংশ বৃদ্ধি, জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য এবং অর্থনৈতিক প্রতিবেদনের শক্তিশালী ফলাফল—এসব কিছুই একই সাথে স্বর্ণের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বন্ডের ইয়েল্ড বা লভ্যাংশ বাড়তে থাকলে স্বর্ণের ওপর চাপ অব্যাহত থাকলেও অবাক হওয়ার কিছু নেই, যদিও এই মূল্যবান ধাতুটির মূল্যের দীর্ঘমেয়াদী প্রবণতার কোনো পরিবর্তন হয়নি।
স্বল্পমেয়াদে—ভবিষ্যতে স্বর্ণের মূল্য বৃদ্ধির কাঠামোগত কারণ থাকা সত্ত্বেও—ট্রেডাররা যতক্ষণ না ফেডারেল রিজার্ভের সম্ভাব্য নীতিমালার ওপর আস্থা বা মার্কিন ডলারের দরপতন নিয়ে নতুন কোনো উদ্বেগের সম্মুখীন হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত স্বর্ণের মূল্যের খুব একটা ওঠানামা না হয়ে সাইডওয়েজ রেঞ্জভিত্তিক মুভমেন্টের সম্ভাবনা রয়েছে।
সেপ্টেম্বর মাসজুড়ে ফেডারেল রিজার্ভের নীতিমালা সংক্রান্ত প্রত্যাশা বারবার পরিবর্তিত হওয়া সত্ত্বেও, স্বর্ণের মূল্য মূলত আউন্সপ্রতি $4,300-এর কাছাকাছি একটি সীমিত রেঞ্জের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। স্বল্পমেয়াদে বিভিন্ন নেতিবাচক পরিস্থিতি সত্ত্বেও অনেক বিনিয়োগকারী এখনও মনে করেন যে, স্বর্ণের মূল্য ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাবে এবং বিনিয়োগ পোর্টফোলিওতে এটি তার ঐতিহ্যবাহী নিরাপদ বিনিয়োগের ভূমিকা পুনরায় ফিরে পাবে।
আমার মতে, বর্তমানে স্বর্ণের ক্ষেত্রে মূল সমস্যাটি হলো নতুন কোনো প্রভাবক বা উদ্দীপকের অভাব। আলোচনার জেরে ইরান-কেন্দ্রিক ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকির কারণে সৃষ্ট জ্বালানি তেলের বাড়তি মূল্য কমে আসছে; পাশাপাশি ট্রেজারি বন্ডের ইয়েল্ড বা লভ্যাংশ এখন আর সাময়িক কোনো বৃদ্ধি নয়, বরং উচ্চহারেই স্থিতিশীল হয়ে পড়েছে—যা এখন এক নতুন স্বাভাবিক অবস্থায় পরিণত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে, যতক্ষণ না হরমুজ প্রণালী সংক্রান্ত আলোচনা ব্যর্থ হচ্ছে কিংবা সুদের হার বাড়ানোর বিষয়ে ফেডারেল রিজার্ভের দৃঢ় অবস্থান নিয়ে মার্কেটে অনিশ্চয়তার অবকাশ তৈরি হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত স্বর্ণের মূল্য $4,200–4,400-এর রেঞ্জের মধ্যেই আটকে থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
স্বর্ণের বর্তমান টেকনিক্যাল চিত্র অনুযায়ী, ক্রেতাদের স্বর্ণের মূল্যকে নিকটতম রেজিস্ট্যান্স $4,304-এ পুনরুদ্ধার করতে হবে। এতে করে স্বর্ণের মূল্যের $4,372-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে; যা ব্রেক করে ঊর্ধ্বমুখী হওয়া তুলনামূলকভাবে কঠিন হবে। পরবর্তী লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে $4,424 এরিয়া নির্ধারণ করা যেতে পারে। দরপতনের ক্ষেত্রে স্বর্ণের মূল্য $4,249 লেভেলে থাকা অবস্থায় বিক্রেতারা মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করবে। যদি তারা সফল হয়, এই রেঞ্জ ব্রেক করে স্বর্ণের মূল্য নিম্নমুখী হলে সেটি বুলিশ পজিশনগুলোর উপর উল্লেখযোগ্য আঘাত হিসেবে বিবেচিত হবে এবং স্বর্ণের মূল্য $4,186-এ নেমে যেতে পারে, ও পরবর্তীতে সম্ভবত $4,156 পর্যন্ত দরপতন হতে পারে।