মঙ্গলবার XAU/USD পেয়ারের মূল্যের কিছুটা পুনরুদ্ধার পরিলক্ষিত হচ্ছে এবং বর্তমানে এই পেয়ারের মূল্য আউন্সপ্রতি $4,150-এর সামান্য নিচে অবস্থান করছে। তবে প্রতিকূল মৌলিক পরিস্থিতির কারণে স্বর্ণের দর $4,100-এর কাছাকাছি পর্যায়েই অবস্থান করছে।
মুদ্রানীতির ব্যাপারে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের হকিশ বা কঠোর অবস্থান, মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের উচ্চ ইয়েল্ড এবং ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি—এসব কারণে মার্কিন ডলারের দর দুই মাসের সর্বোচ্চ অবস্থানের কাছাকাছি রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে স্বর্ণের মূল্য বৃদ্ধির সম্ভাবনা সীমিত হয়ে পড়েছে এবং উল্লেখযোগ্যভাবে মূল্য বৃদ্ধির প্রত্যাশায় নতুন পজিশন ওপেন করার ক্ষেত্রে সতর্কতা বজায় রাখার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
ফেডারেল রিজার্ভের গভর্নর অ্যাড্রিয়ানা কুগলার এআই খাত এবং ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকির সাথে সম্পর্কিত দীর্ঘস্থায়ী মুদ্রাস্ফীতির চাপের ওপর জোর দিয়ে ফেড কর্তৃক হকিশ বা কঠোর অবস্থান বজায় রাখার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেছেন। এফএক্সএস স্পিচট্র্যাকারে তাঁর বক্তব্য ৬.৯-এর বেসলাইন ছাড়িয়ে 10-এর মধ্যে 7 স্কোর পেয়েছে, যা আগামী মাসগুলোতেও মুদ্রাস্ফীতির চাপ অব্যাহত থাকার ইঙ্গিত দেয়। কুগলার উল্লেখ করেন যে, সুদের হারের ভবিষ্যৎ পরিবর্তন মুদ্রাস্ফীতি প্রতিবেদন এবং শ্রম বাজারের পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে। তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন যে, এআই-এর মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির ফলে তা মুদ্রাস্ফীতি কমাতে সহায়তা করতে পারে ঠিকই, কিন্তু বর্তমানে মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য তা যথেষ্ট দ্রুত কাজ করবে না। এফএক্সএস ফেড সেন্টিমেন্ট ইনডেক্স 0.63 পয়েন্ট কমে 146.89-এ নেমে এসেছে, যা হকিশ বা কঠোর অবস্থানের ক্ষেত্রে কিছুটা শিথিলতা নির্দেশ করে; তবে ফেডের অবস্থান এখনও স্পষ্টভাবে হকিশ বা কঠোরই রয়ে গেছে। এর অর্থ হলো, ট্রেডারদের প্রত্যাশায় কিছুটা ভাটা পড়া সত্ত্বেও, ভবিষ্যতে সুদের হার বৃদ্ধি বা উচ্চ পর্যায়ে হার বজায় রাখার বিষয়টি মার্কিন ডলারের মূল্য বৃদ্ধি করতে সহায়তা করবে।
এরই মধ্যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামরিক সংঘাতের অবসান এবং তেহরানের দাবি পূরণ সাপেক্ষে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরানের শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। পাশাপাশি, পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু পদক্ষেপের বিনিময়ে ইরানকে নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি ও অবরুদ্ধ সম্পদ ছাড়ের প্রস্তাব দেওয়ার যে খবর ছড়িয়েছিল, ট্রাম্প তাও অস্বীকার করেছেন। ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় অপরিশোধিত তেলের দাম চড়া রয়েছে, যা মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বন্ডের ইয়েল্ড বা লভ্যাংশ বহু বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের দিকে উঠে এসেছে।
XAU/USD পেয়ারের বড় কোনো পজিশন ওপেন করার আগে ট্রেডারদের জন্য এই সপ্তাহে প্রকাশিতব্য যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।
বুধবার ফেডারেল রিজার্ভেরনিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকা মুদ্রাস্ফীতির অন্যতম প্রধান সূচক 'পার্সোনাল কনজাম্পশন এক্সপেন্ডিচার্স' প্রাইস ইনডেক্স এবং দ্বিতীয় প্রান্তিকের চূড়ান্ত জিডিপি প্রতিবেদন প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার আইএসএম ম্যানুফ্যাকচারিং পিএমআই প্রকাশিত হবে, তবে ট্রেডাররা মূলত শুক্রবার প্রকাশিতব্য যুক্তরাষ্ট্রের নন-ফার্ম পেরোল প্রতিবেদনের ওপর মনোযোগ দেবে। এছাড়া, ফেডের প্রভাবশালী সদস্যদের বক্তব্যও মার্কেটে প্রভাব ফেলবে। এসব বিষয় মার্কিন ডলারের চাহিদাকে প্রভাবিত করবে এবং স্বর্ণের মূল্যের উল্লেখযোগ্য মোমেন্টাম সঞ্চারিত হবে।
টেকনিক্যাল দৃষ্টিকোণ অনুযায়ী, 200-ডে এক্সপোনেনশিয়াল মুভিং এভারেজ (EMA)-এর নিচে নেমে যাওয়ার পর XAU/USD পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতা বজায় রয়েছে। অসিলেটরগুলোর নেগেটিভ জোনে অবস্থান করায় মার্কেটে বাজারে বিয়ার বা বিক্রেতাদের আধিপত্য দেখা যাচ্ছে। $4,100-এর রাউন্ড লেভেলটি সাপোর্ট হিসেবে কাজ করছে। নিকটতম রেজিস্ট্যান্স হিসেবে রয়েছে 4170–4200 লেভেল। তবে, নিম্নমুখী প্রবণতা কমে আসার আগে প্রধান রেজিস্ট্যান্স লেভেলগুলো হলো গুরুত্বপূর্ণ মুভিং এভারেজসমূহ, যার মধ্যে 200-ডে EMA অন্তর্ভুক্ত। অসিলেটরগুলো নেগেটিভ জোনে অবস্থান করায় মার্কেটে বিয়ার বা বিক্রেতাদের আধিপত্য দেখা যাচ্ছে।
নিচের টেবিলে গত ৭ দিনে প্রধান কারেন্সিগুলোর বিপরীতে মার্কিন ডলারের এক্সচেঞ্জ রেটে শতাংশভিত্তিক পরিবর্তন দেখানো হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ান ডলারের বিপরীতে মার্কিন ডলারের দর সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।