মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ প্রায় যুদ্ধ-পূর্ববর্তী পর্যায়ে ফিরে আসার ইঙ্গিত এবং হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে সৌদি আরবের পাইপলাইনে পুনরায় তেল পরিবহন শুরুর প্রেক্ষাপটে, গতকাল এক সপ্তাহের মধ্যে জ্বালানি তেলের বড় ধরনের দরপতনের পর আজও নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে।
পূর্ববর্তী সেশনে 1.7% দরপতনের পর বর্তমানে সর্বাধিক ট্রেডিং হওয়া ব্রেন্ট গ্রেডের অপরিশোধিত তেলের কন্ট্র্যাক্ট ব্যারেলপ্রতি $96-এর কাছাকাছি ট্রেডিং হচ্ছে; অন্যদিকে ডব্লিউটিআই-এর দর কমে $89-এর নিচে নেমে এসেছে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল রপ্তানির ১০ দিনের গড় পরিমাণ পুনরুদ্ধার হয়ে দৈনিক প্রায় ১৭.৫ মিলিয়ন ব্যারেলে পৌঁছেছে, যা যুদ্ধ-পূর্ববর্তী পর্যায়ের প্রায় ৯৮ শতাংশের সমান।
আগেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, সৌদি আরব ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল সরবরাহ পুনরায় চালু হয়েছে এবং সরবরাহের পরিমাণ দৈনিক অন্তত ৩.৫ মিলিয়ন ব্যারেলে উন্নীত হয়েছে—যা পাইপলাইনটির মোট সক্ষমতার প্রায় অর্ধেক। এছাড়া, জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ঝুঁকি সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালী দিয়ে গোপনে পরিচালিত জাহাজের মাধ্যমে তেলের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে; এটি সেই আশঙ্কা দূর করতে সহায়তা করছে যে হয়তো এই সমুদ্রপথটি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে কোনো সমঝোতা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানির রেকর্ড মূল্য নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্প প্রশাসন ডিজেল রপ্তানির ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে—এমন সম্ভাবনার কারণেও তেলের দরপতন ঘটেছে। তবে অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, ওয়াশিংটন এমন কোনো পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা থেকে বিরত থাকবে যা বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহকে আরও সংকুচিত করে ফেলতে পারে। তা সত্ত্বেও, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে পুনরায় সরবরাহ বিঘ্ন ঘটার ঝুঁকি এবং সীমিত লজিস্টিক সক্ষমতার কারণে তেলের দাম চড়া থাকবে।
গোল্ডম্যান শ্যাক্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সপ্তাহে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল রপ্তানি (গোপনে পরিচালিত তথাকথিত 'শ্যাডো শিপমেন্ট' বা গোপন চালানসহ) বেড়ে দৈনিক প্রায় ২৩.৩ মিলিয়ন ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে—যা ২০২৫ সালের গড় রপ্তানি পরিমাণের সমান।
গতকাল শিল্প-খাতের অর্থায়নে পরিচালিত আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউট জানিয়েছে যে, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের মজুত ১ মিলিয়ন ব্যারেল বেড়েছে, যা জ্বালানি তেলের মূল্য ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে। আজ এ সংক্রান্ত সরকারি মজুত-বিষয়ক প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে।
জ্বালানি তেলের মূল্যের বর্তমান টেকনিক্যাল চিত্র অনুযায়ী, ক্রেতাদের জ্বালানি তেলের মূল্যকে নিকটস্থ রেজিস্ট্যান্স $92-এ নিয়ে যেতে হবে। এতে করে জ্বালানি তেলের মূল্যের $96-এর লক্ষ্যমাত্রার দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে, যা ব্রেক করে ঊর্ধ্বমুখী হওয়া বিশেষভাবে চ্যালেঞ্জিং হবে। পরবর্তী লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে $100 এরিয়া নির্ধারণ করা যেতে পারে। যদি তেলের দরপতন হয়, তাহলে মূল্য $89-এ থাকা অবস্থায় বিক্রেতারা মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করবে। তারা সফল হলে এই রেঞ্জ ব্রেক করে মূল্য নিম্নমুখী হলে সেটি বুলিশ পজিশনের উপর উল্লেখযোগ্য আঘাত হিসেবে বিবেচিত হবে এবং তেলের মূল্য $87 পর্যন্ত নেমে যেতে পারে, যেখানে পরবর্তীতে $83 পর্যন্ত দরপতনের সম্ভাবনাও রয়েছে।