USD/JPY: নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেডিংয়ের সহজ টিপস, ১ অক্টোবর। গতকালের ফরেক্স ট্রেডের বিশ্লেষণ

জাপানি ইয়েন ট্রেডিংয়ের বিশ্লেষণ ও টিপস

যখন MACD সূচকটি জিরো লাইনের নিচের দিকে নামতে শুরু করেছিল তখন এই পেয়ারের মূল্য 156.90-এর লেভেল টেস্ট করেছিল, যা মার্কিন ডলারের সেল পজিশন ওপেন করার জন্য সঠিক এন্ট্রি পয়েন্ট নিশ্চিত করেছিল। তবে এই পেয়ারের তীব্র দরপতন ঘটেনি।

আজ প্রকাশিত তৃতীয় প্রান্তিকের 'টানকান' প্রতিবেদনে মিশ্র ফলাফল দেখা গেছে। বড় আকারের উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক মনোভাবভিত্তিক এই সূচকটি আগের প্রান্তিকের 22 থেকে বেড়ে 24-এ উন্নীত হলেও তা 25-এর পূর্বাভাস স্পর্শ করতে পারেনি। পরিষেবা খাতের ফলাফল অপেক্ষাকৃত দুর্বল ছিল; এক্ষেত্রে সূচকটি 37 থেকে কমে 35-এ নেমে আসে, যেখানে 36-এর পূর্বাভাস ছিল। বিভিন্ন খাতের বড় কোম্পানিগুলোর মূলধনী ব্যয়ের সূচকটিও হতাশাজনক ছিল—প্রত্যাশা ছিল 12.3% এবং আগের হার ছিল 11.5%, কিন্তু বাস্তবে তা 11.3%-এ পৌঁছেছে। ভবিষ্যৎ-কেন্দ্রিক সূচকগুলোতেও মিশ্র ফলাফল দেখা গেছে দিয়েছে—বড় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গি 17 থেকে বেড়ে 21-এ পৌঁছালেও তা 22-এর পূর্বাভাস পূরণ করতে পারেনি; অন্যদিকে, অ-উৎপাদনকারী খাতের ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গি প্রত্যাশা অনুযায়ী 30-এ স্থির ছিল (আগের হার ছিল 28)। সেপ্টেম্বরের ম্যানুফ্যাকচারিং পিএমআই ঠিক পূর্বাভাস ও আগের মাসের ফলাফলের সমান অর্থাৎ 54.1-এ অবস্থান করেছে, যা নতুন কোনো তথ্য প্রদান করেনি।

এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইয়েনের দর দ্রুত কমে যায়। আমার মতে, এর কারণ কোনো একটি নির্দিষ্ট সূচক নয়, বরং সামগ্রিক ফলাফল—প্রায় সবকটি 'টানকান' সূচকই পূর্বাভাসের চেয়ে কম ছিল। ট্রেডাররা একে এমন একটি ইঙ্গিত হিসেবে দেখছে যে, জাপানের বড় কোম্পানিগুলো প্রত্যাশার চেয়েও বেশি সতর্ক অবস্থান বজায় রেখেছে। বিশেষ করে মূলধনী ব্যয়ের ধীরগতি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ; কারণ সাধারণত এই সূচকটিই বিনিয়োগ কার্যক্রমের গতিপথ নির্ধারণ করে এবং সূচকটির মন্থরতা অভ্যন্তরীণ চাহিদার পুনরুদ্ধারের গতি সম্পর্কে আস্থাকে কমিয়ে দেয়। USD/JPY-এর ক্ষেত্রে এই পরিস্থিতি ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত রাখার একটি কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, বিশেষ করে যখন ম্যানুফ্যাকচারিং পিএমআই প্রতিবেদনের ফলাফল পূর্বাভাসের সাথে মিলে যাওয়ায় বিপরীতমুখী কোনো প্রভাব সৃষ্টি হয়নি।

আমার ধারণা, ইয়েনের এত দ্রুত ও লক্ষণীয়ভাবে দরপতনের কারণে জাপানি কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে কারেন্সি মার্কেটে হস্তক্ষেপের বিষয়টি আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। সম্প্রতি USD/JPY এক্সচেঞ্জ রেটের একমুখী ও তীব্র ওঠানামা—বিশেষ করে মনস্তাত্ত্বিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন লেভেলের কাছাকাছি—জাপানের অর্থ মন্ত্রণালয়কে মৌখিক সতর্কবার্তা দিতে প্ররোচিত করেছে। আমার মতে, ইয়েনের বিপরীতে মার্কিন ডলারের লং পজিশন ওপেন করার সময় ট্রেডারদের এই ঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনায় রাখা উচিত; কারণ এই কারেন্সি পেয়ারের মূল্য 160-এর লেভেলের কাছাকাছি পৌঁছালে কারেন্সি মার্কেটে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা প্রবল হয়ে উঠবে।

দৈনিক কৌশল হিসেবে, আমি মূলত পরিকল্পনা #1 এবং #2 বাস্তবায়নের উপর নির্ভর করব।

বাই সিগন্যাল

পরিকল্পনা 1: আজ এই পেয়ারের মূল্য 158.84-এর (চার্টে গাঢ় সবুজ লাইন) লেভেলে বৃদ্ধির লক্ষ্যে 158.41-এর (চার্টে সবুজ লাইন) এন্ট্রি পয়েন্টে পৌঁছালে আমি USD/JPY পেয়ারের লং পজিশন ওপেন করার পরিকল্পনা করছি। এই পেয়ারের মূল্য প্রায় 158.84-এর লেভেলে পৌঁছালে, আমি লং পজিশন ক্লোজ করব এবং বিপরীত দিকে শর্ট পজিশন ওপেন করব (এই লেভেল থেকে বিপরীত দিকে 30-35 পিপস মুভমেন্টের প্রত্যাশা করছি)। USD/JPY পেয়ারের কারেকশন এবং উল্লেখযোগ্য পুলব্যাকের সময় এই পেয়ারের লং পজিশন ওপেন করা উচিত হবে। গুরুত্বপূর্ণ! এই পেয়ারের লং পজিশন ওপেন করার আগে, নিশ্চিত করুন যে MACD সূচকটি জিরো লাইনের উপরে রয়েছে এবং সেখান থেকে সবেমাত্র উপরে উঠতে শুরু করেছে।

পরিকল্পনা 2: আজ MACD সূচকটি ওভারসোল্ড জোনে থাকা অবস্থায় মূল্য পরপর দুইবার 158.10-এর লেভেল টেস্টের ক্ষেত্রে আমি USD/JPY পেয়ারের লং পজিশন ওপেন করার পরিকল্পনা করছি। এটি এই পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী হওয়ার সম্ভাবনাকে সীমিত করবে এবং মূল্যকে বিপরীতমুখী করে ঊর্ধ্বমুখী দিকে নিয়ে যাবে। আমরা 158.41 এবং 158.84-এর বিপরীতমুখী লেভেলের দিকে এই পেয়ারের দর বৃদ্ধির প্রত্যাশা করতে পারি।

সেল সিগন্যাল

পরিকল্পনা 1: আজ এই পেয়ারের মূল্য শুধুমাত্র 158.10-এর (চার্টে হালকা লাল লাইন) লেভেল অতিক্রম করে নিম্নমুখী হওয়ার পর USD/JPY পেয়ারের শর্ট পজিশন ওপেন করার পরিকল্পনা করছি, যা এই পেয়ারের দ্রুত দরপতনের দিকে নিয়ে যাবে। সেলারদের জন্য মূল লক্ষ্যমাত্রা হবে 157.72-এর লেভেল (গাঢ় লাল লাইন), যেখানে আমি শর্ট পজিশন ক্লোজ করতে যাচ্ছি এবং অবিলম্বে বিপরীত দিকে লং পজিশন ওপেন করতে যাচ্ছি, সেই লেভেল থেকে বিপরীত দিকে 20-25 পিপস রিবাউন্ডের আশা করছি। আজ যেকোনো সময় এই পেয়ারের সেলাররা সক্রিয় হতে পারে, তাঁদের শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে যেকোনো ইঙ্গিত দরকার। গুরুত্বপূর্ণ! এই পেয়ারের শর্ট পজিশন ওপেন করার আগে, নিশ্চিত করুন যে MACD সূচকটি জিরো লাইনের নিচে রয়েছে এবং সবেমাত্র জিরো লাইনের নিচে নামতে শুরু করেছে।

পরিকল্পনা 2: আজ MACD সূচকটি ওভারবট জোনে থাকাকালীন সময় মূল্য পরপর দুইবার 158.41-এর লেভেল টেস্টের ক্ষেত্রে আমি USD/JPY পেয়ারের শর্ট পজিশন ওপেন করার পরিকল্পনা করছি। এটি এই পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার সম্ভাবনাকে সীমিত করবে এবং মূল্যকে বিপরীতমুখী করে নিম্নমুখী করবে। আমরা 158.10 এবং 157.72-এর বিপরীতমুখী লেভেলের দিকে এই পেয়ারের দরপতনের আশা করতে পারি।

চার্টে কী আছে:হালকা সবুজ লাইন – এন্ট্রি প্রাইস নির্দেশ করে যেখানে এই ট্রেডিং ইন্সট্রুমেন্ট ক্রয় করা যেতে পারে।গাঢ় সবুজ লাইন – টেক-প্রফিট (TP) অর্ডার সেট করা যেতে পারে বা এটি ম্যানুয়ালি মুনাফা নির্ধারণ করার জন্য সম্ভাব্য লক্ষ্যমাত্রা নির্দেশ করে, কারণ এই লেভেলের উপরে আরও দর বৃদ্ধির সম্ভাবনা নেই। হালকা লাল লাইন – এন্ট্রি প্রাইস নির্দেশ করে যেখানে এই ট্রেডিং ইন্সট্রুমেন্ট বিক্রয় করা যেতে পারে।গাঢ় লাল লাইন – টেক-প্রফিট (TP) অর্ডার সেট করা যেতে পারে বা এটি ম্যানুয়ালি মুনাফা নির্ধারণ করার জন্য সম্ভাব্য লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে, কারণ এই লেভেলের নিচে আরও দরপতনের সম্ভাবনা নেই।মার্কেটে এন্ট্রি নেওয়ার সময় ওভারবট এবং ওভারসোল্ড জোন মূল্যায়নের জন্য MACD সূচক ব্যবহার করা উচিত।নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ:নতুন ফরেক্স ট্রেডারদের মার্কেটে এন্ট্রি নেওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। মূল্যের তীব্র ওঠানামা এড়ানোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক প্রতিবেদন প্রকাশের আগে মার্কেটে এন্ট্রি না করাই উত্তম। যদি আপনি সংবাদ প্রকাশের সময় ট্রেডিং করার সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে লোকসানের সম্ভাবনা হ্রাসের জন্য অবশ্যই স্টপ-লস অর্ডার ব্যবহার করুন। স্টপ-লস অর্ডার ছাড়া ট্রেডিং করলে দ্রুত আপনার সম্পূর্ণ ডিপোজিট শেষ হয়ে যেতে পারে, বিশেষত যদি আপনি অর্থ ব্যবস্থাপনার নীতিমালা উপেক্ষা করেন এবং বেশি ভলিউমে ট্রেড করেন।মনে রাখবেন, সফল ট্রেডিংয়ের জন্য একটি সুসংগঠিত ট্রেডিং পরিকল্পনা থাকা আবশ্যক, ঠিক যেমনটি উপরে নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমান বাজার পরিস্থিতির উপর ভিত্তি করে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলে সেটি দৈনিক ভিত্তিতে ট্রেড করা ট্রেডারদের জন্য লোকসানের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।