শুক্রবার খুব বেশি সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে না, তবে যে কয়েকটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে, তার প্রায় প্রতিটিই মার্কেটের মুভমেন্ট নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। প্রথমেই ইউরোজোনে সেপ্টেম্বরের মুদ্রাস্ফীতির প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। উল্লেখ্য যে, ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুদ্রানীতি মুদ্রাস্ফীতি প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর করে—এবং ইসিবি বর্তমানে হকিশ বা কঠোর অবস্থান গ্রহণ করলেও ট্রেডাররা বিষয়টি খুব একটা আমলে নিচ্ছে না। তা সত্ত্বেও, এই প্রতিবেদনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এরপর যুক্তরাষ্ট্র নন-ফার্ম পেরোল এবং বেকারত্বের হার সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে; এই দুটি প্রতিবেদনই স্থানীয় ও বৈশ্বিক উভয় ক্ষেত্রেই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার পরিস্থিতি যদি আবারও মন্থর হয়ে পড়ে, তবে ফেডারেল রিজার্ভ কর্তৃক হকিশ বা কঠোর অবস্থান গ্রহণের ব্যাপারে ট্রেডারদের প্রত্যাশা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। তবে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ট্রেডাররা অন্যান্য সব বিষয় উপেক্ষা করে মার্কিন ডলার ক্রয় অব্যাহত রেখেছে।
ফান্ডামেন্টাল ইভেন্টের বিশ্লেষণ:শুক্রবার গুরুত্বপূর্ণ ফান্ডামেন্টাল ইভেনবটের মধ্যে ফেড কর্মকর্তা লরি লোগান এবং বেশ কয়েকজন ইসিবি প্রতিনিধিদের (বিশেষ করে ভুজিচ ও সিপোলোনে) বক্তব্য উল্লেখযোগ্য; তবে বর্তমানে ইউরো বা মার্কিন ডলারের এক্সচেঞ্জ রেটের ওপর এই ধরনের বক্তব্য খুব একটা প্রভাব ফেলছে না। উল্লেখ্য যে, এই সপ্তাহেই ফেডের জন উইলিয়ামস বলেছিলেন যে নতুন করে আর্থিক নীতিমালা কঠোর করার ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো করার কোনো প্রয়োজন নেই—যা মার্কিন ডলারের ওপর কোনোই প্রভাব ফেলেনি।
ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখনও বেশ উদ্বেগজনক রয়েছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো আলোচনা হচ্ছে না। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন যে, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে তাঁর প্রতিনিধি দল ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে অত্যন্ত ফলপ্রসূ বৈঠক করেছে এবং মার্কিন কংগ্রেস নির্বাচনের পর একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে। এমন আশাব্যঞ্জক ফলাফলের ওপর ট্রেডারদের কোনো আস্থা নেই। সপ্তাহান্তে ট্রাম্প ইরানের শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। কংগ্রেস নির্বাচনের পর তিনি হয়তো পুনরায় সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেন—কারণ (যেমনটা ধারণা করা হচ্ছে) কোনো চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শূন্যের কোঠায়। সংঘাত অব্যাহত রয়েছে এবং যেকোনো মুহূর্তে আবার যুদ্ধ শুরু হতে পারে।
চলতি সপ্তাহের শেষদিনের ট্রেডিংয়ে উভয় কারেন্সি পেয়ারের মন্থর দরপতন অব্যাহত থাকতে পারে, কারণ এই নিম্নমুখী প্রবণতা এখন আর মৌলিক, ভূ-রাজনৈতিক বা সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটের ওপর নির্ভর করছে না । আজ ইউরো 1.1198–1.1218 ও 1.1267–1.1275 এরিয়ায় এবং পাউন্ড 1.3175–1.3180 রেঞ্জের মধ্যে ট্রেড করা যেতে পারে। আজও মার্কেটে উচ্চমাত্রার ভোলাটালিটি বা অস্থিরতা দেখা যেতে পারে।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।