যখন MACD সূচকটি জিরো লাইনের বেশ নিচে নেমে গিয়েছিল তখন এই পেয়ারের মূল্য 1.1257-এর লেভেল টেস্ট করেছিল, যা এই পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী হওয়ার সম্ভাবনাকে সীমিত করেছিল।
গতকাল দুটি ধাপে ইউরোর দরপতন ঘটেছিল এবং প্রতিটি ধাপেই কোনো না কোনোভাবে ইউরোর ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল। দিনের শুরুতে ট্রেডাররা ফ্রান্সের পরিস্থিতির দিকে দৃষ্টিপাত করেছে, যেখানে ২০২৭ সালের বাজেট অনুমোদনকে কেন্দ্র করে পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক সংকটে দেখা দেয়। বাজেট নিয়ে মতপার্থক্যের ফলে দেশটির আর্থিক স্থিতিশীলতা এবং সেই সাথে ইউরোর প্রতি আস্থার ওপর গুরুতর প্রভাব পড়ার আশঙ্কায় ট্রেডাররা ইউরো বিক্রি করে প্রতিক্রিয়া জানান। দিনের দ্বিতীয়ার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রতিবেদনগুলো প্রাধান্য পায় এবং তা ইউরোর বিপক্ষে কাজ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রে জবলেস ক্লেইমসের প্রাথমিক আবেদনের সংখ্যা 1,000 কমে 198,000-এ নেমে আসে—এটি একটি সাধারণ নির্দেশক: এই সংখ্যা যত কম হয়, শ্রমবাজার ততটাই শক্তিশালী বলে বিবেচিত হয়। পরবর্তীতে প্রকাশিত সেপ্টেম্বরের ISM ম্যানুফ্যাকচারিং প্রতিবেদনে সূচকটি 54.5-এ দাঁড়ায় (আগস্টে যা ছিল 54.6); সূচকটি টানা নবম মাসের মতো 50-এর উপরে অবস্থান করল, যা উক্ত খাতে প্রবৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়—যদিও সূচকটির সার্বিক গতিশীলতায় কিছুটা মন্থরতা লক্ষ্য করা গেছে।
আজ মুদ্রাস্ফীতির প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে ইউরোর ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ রয়েছে; দিনের প্রথমার্ধে ইউরোজোনের সেপ্টেম্বরের CPI বা ভোক্তা মূল্য সূচক সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। এবার 'হেডলাইন' সিপিআই বেড়ে 3.7%-এ পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, আর ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে অধিক গুরুত্বপূর্ণ 'কোর' সিপিআই (খাদ্য ও জ্বালানিমূল্য বাদ দিয়ে হিসাবকৃত মুদ্রাস্ফীতি) 2.5%-এ পৌছাবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ মূল্যস্ফীতির দীর্ঘস্থায়ী চাপ মূল্যায়নের সময় ইসিবি খাদ্য ও জ্বালানি বাদ দিয়ে 'কোর' মুদ্রাস্ফীতির ওপরই মূলত নজর দেয়। যদি প্রকাশিত প্রতিবেদনের ফলাফল প্রত্যাশা ছাড়িয়ে যায়, তবে বিনিয়োগকারীরা ইসিবির সুদের হার বৃদ্ধির উচ্চ সম্ভাবনার বিষয়টি বিবেচনায় নিতে শুরু করবেন; আর মুদ্রানীতি কঠোর করার প্রত্যাশা সাধারণত সংশ্লিষ্ট কারেন্সিকে শক্তিশালী করে তোলে। আমার বিশ্বাস, ফ্রান্সের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ২০২৭ সালের বাজেট অনুমোদনের জেরে ইউরো যে নেতিবাচক পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছে, আজকের আসন্ন মুদ্রাস্ফীতি সংক্রান্ত পরিসংখ্যান তা কিছুটা হলেও পুষিয়ে নিতে সহায়তা করতে পারে।
দৈনিক কৌশল হিসেবে, আমি মূলত পরিকল্পনা #1 এবং #2 বাস্তবায়নের উপর নির্ভর করব।
পরিকল্পনা 1: আজ যখন ইউরোর মূল্য 1.1283-এর লেভেলে বৃদ্ধির লক্ষ্যে 1.1266-এর (চার্টে সবুজ লাইন দ্বারা চিহ্নিত) লেভেলে পৌঁছাবে, তখন আপনি ইউরোর লং পজিশন ওপেন করতে পারেন। মূল্য 1.1283-এর লেভেলে গেলে, আমি লং পজিশন ক্লোজ করার পরিকল্পনা করছি এবং এন্ট্রি পয়েন্ট থেকে বিপরীত দিকে 30-35 পিপসের মুভমেন্টের উপর নির্ভর করে ইউরোর শর্ট পজিশন ওপেন করব। আজ শুধুমাত্র আসন্ন প্রতিবেদনের ইতিবাচক ফলাফল প্রকাশিত হলে ইউরোর মূল্য বৃদ্ধি পেতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ: এই পেয়ারের লং পজিশন ওপেন করার আগে, নিশ্চিত করুন যে MACD সূচকটি জিরো লাইনের উপরে রয়েছে এবং সেখান থেকে উপরের দিকে উঠতে শুরু করেছে।
পরিকল্পনা 2: আজ MACD সূচকটি ওভারসোল্ড জোনে থাকা অবস্থায় মূল্য পরপর দুইবার 1.1246-এর লেভেল টেস্টের ক্ষেত্রে আমি ইউরোর লং পজিশন ওপেন করার পরিকল্পনা করছি। এটি এই পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী হওয়ার সম্ভাবনাকে সীমিত করবে এবং মূল্যকে বিপরীতমুখী করে ঊর্ধ্বমুখী করবে। আমরা 1.1266 এবং 1.1283-এর বিপরীতমুখী লেভেলের দিকে এই পেয়ারের দর বৃদ্ধির প্রত্যাশা করতে পারি।
সেল সিগন্যালপরিকল্পনা 1: EUR/USD পেয়ারের মূল্য 1.1246-এর (চার্টে লাল লাইন) লেভেলে পৌঁছানোর পর আমি ইউরোর শর্ট পজিশন ওপেন করার করার পরিকল্পনা করছি। সেলারদের জন্য মূল লক্ষ্যমাত্রা হবে 1.1218-এর লেভেল, যেখানে মূল্য পৌঁছালে আমি সেল পজিশন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছি এবং এন্ট্রি পয়েন্ট থেকে বিপরীত দিকে 20-25 পিপসের মুভমেন্টের উপর নির্ভর করে ইউরোর বাই পজিশন ওপেন করব। আজ আসন্ন প্রতিবেদনের দুর্বল ফলাফল প্রকাশিত হলে এই পেয়ারের উপর চাপ ফিরে আসতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ: শর্ট পজিশন ওপেন করার আগে, নিশ্চিত করুন যে MACD সূচকটি জিরো লাইনের নিচে রয়েছে এবং এর নিচে নামতে শুরু করেছে।
পরিকল্পনা 2: MACD সূচকটি ওভারবট জোনে থাকা অবস্থায় মূল্য পরপর দুইবার 1.1266-এর লেভেল টেস্টের ক্ষেত্রে আমি আজ ইউরোর শর্ট পজিশন ওপেন করতে যাচ্ছি। এটি এই পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার সম্ভাবনাকে সীমিত করবে এবং মূল্যকে বিপরীতমুখী করে নিম্নমুখী করবে। আমরা 1.1246 এবং 1.1218-এর বিপরীতমুখী লেভেলের দিকে এই পেয়ারের দরপতনের আশা করতে পারি।