শুক্রবার EUR/USD কারেন্সি পেয়ারের মূল্যের এমন ধরনের মুভমেন্ট পরিলক্ষিত হয়েছে যার কারণ ব্যাখ্যা করা কঠিন। ওই দিন যুক্তরাষ্ট্রে নন-ফার্ম পেরোল ও বেকারত্বের হার সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় এবং ইউরোজোনে সেপ্টেম্বরের মুদ্রাস্ফীতি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। বিস্তারিত আলোচনায় না গিয়েও নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদনের ফলাফলই ইউরোর অনুকূলে ছিল। মার্কিন শ্রমবাজার সংক্রান্ত প্রতিবেদনের আবারও হতাশাজনক ফলাফল দেখা গিয়েছে এবং বেকারত্ব বেড়েছে; অন্যদিকে ইউরোজোনের মুদ্রাস্ফীতি পূর্বাভাসের চেয়ে বেশি ছিল, যার ফলে এ বছর ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক তৃতীয়বারের মতো আর্থিক নীতিমালা কঠোর করার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গিয়েছে। ট্রেডাররা এতে কেমন প্রতিক্রিয়া দেখাল? কার্যত কোনো প্রতিক্রিয়া-ই দেখা যায়নি। সারাদিনে ইউরোর মূল্য মাত্র 10 পিপসের মতো বেড়েছিল এবং সোমবার রাতের মধ্যেই আবার শান্তভাবে দরপতন শুরু হয়। আগেই যেমনটা বলা হয়েছে, ট্রেডাররা ইউরোর জন্য ইতিবাচক বিষয়গুলোকে বিবেচনায় নিতে এবং ইউরো কিনতে নারাজ। কেবল মার্কিন ডলারের দর বাড়ছে—এবং তা যেকোনো অজুহাতেই বাড়ছে।
EUR/USD পেয়ারের 5M চার্টশুক্রবার 5-মিনিটের টাইমফ্রেমে বেশ কয়েকটি ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়েছিল, যার সাথে সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটের কোনো সঙ্গতি ছিল না। ইউরোপীয় সেশনের সময় এই পেয়ারের মূল্য 1.1267–1.1275 এরিয়া থেকে বাউন্স করে বেশ ভালোই দরপতনের শিকার হয়; কিন্তু মার্কিন সেশনে দুটি সিগন্যাল গঠিত হলেও উভয়ই ভুল প্রমাণিত হয়। এই পেয়ারের মূল্য শক্তিশালীভাবে ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার পরিবর্তে আমরা বরং আরও অস্থিরতা এবং অযৌক্তিক ট্রেডিং সিগন্যাল লক্ষ্য করেছি।
সোমবার কীভাবে ট্রেডিং করতে হবে:ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে, EUR/USD পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে যা এখন পূর্ণাঙ্গ প্রবণতায় রূপ নিয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোর ঘটনাপ্রবাহ বিবেচনায়, হঠাৎ করেই ইউরোর ব্যাপক দরপতন ঘটবে—এমনটা আমরা মনে করছি না; তবে ট্রেডাররা এখনও মার্কিন ডলার ক্রয় করে যাচ্ছে এবং যেকোনো ইভেন্ট ও প্রতিবেদন উপেক্ষা করে চলেছে।
সোমবার, এই পেয়ারের মূল্য 1.1267–1.1275 এরিয়া থেকে রিবাউন্ড করলে অথবা 1.1198–1.1218 এরিয়ার নিচে কনসলিডেট করলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারেন। এই পেয়ারের মূল্য 1.1198–1.1218 এরিয়া থেকে বাউন্স করলে লং পজিশন ওপেন করা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.1267–1.1275-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
5-মিনিটের টাইমফ্রেমে, ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা উচিত: 1.1132–1.1140, 1.1198–1.1218, 1.1267–1.1275, 1.1366–1.1377, 1.1461–1.1474, 1.1527–1.1531, 1.1584–1.1594, 1.1655–1.1665। সোমবার গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন হিসেবে মার্কিন ISM সার্ভিসেস ইনডেক্স প্রকাশিত হবে। তবে শুক্রবার এই বিষয়টি আবারও প্রমাণিত হয়েছে যে, ট্রেডাররা ইউরোর জন্য যেকোনো ইতিবাচক বিষয় বা প্রতিবেদনের প্রতি সাড়া দিচ্ছে না এবং EUR/USD পেয়ার বিক্রির প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে।
ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:সিগনালের শক্তি: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।ট্রেডিংয়ের সময়সূচী: ইউরোপীয় সেশন শুরু থেকে মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ট্রেড ওপেন করুন এবং এরপর সকল ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করে ফেলুন।MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।চার্টে কী কী রয়েছে:সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।