যখন MACD সূচকটি জিরো লাইনের নিচের দিকে নামতে শুরু করেছিল তখন এই পেয়ারের মূল্য 1.1187-এর লেভেল টেস্ট করেছিল, যা ইউরোর সেল পজিশন ওপেন করার জন্য একটি সঠিক এন্ট্রি পয়েন্ট নিশ্চিত করেছিল। ফলে এই পেয়ারের 20 পিপস দরপতন ঘটেছে।
গতকাল বিকেলে প্রকাশিত ফেডারেল রিজার্ভের বৈঠকের কার্যবিবরণীতে বড় কোনো চমক দেখা যায়নি, বরং আগের পরিস্থিতিকেই নিশ্চিত করেছে—আর এটাই হলো মূল বিষয়। সেপ্টেম্বরের বৈঠকের কার্যবিবরণীতে অপ্রত্যাশিত কিছু ছিল না: ১৯ জন অংশগ্রহণকারীর সবাই সুদের হার 3.75–4.00%-এ উন্নীত করার পক্ষে ভোট দিয়েছেন এবং তাঁদের অধিকাংশই বছরের শেষ নাগাদ আরও একবার সুদের হার বাড়ানোর প্রত্যাশা করছেন। ইউরোজোনের ক্ষেত্রে ফেডারেল রিজার্ভের এই কঠোর অবস্থান এক উভয়সংকট সৃষ্টি করেছে; কারণ ভোক্তা চাহিদার দুর্বলতা এবং 3.8% মূল্যস্ফীতির প্রেক্ষাপটে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংককে বাড়তি পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে—যাদের সুদের হার 2.50%-এ বজায় রয়েছে।
আজ ইউরোর মূল্যের মুভমেন্ট নির্ধারণের মতো অভ্যন্তরীণ কোনো প্রভাবক নেই, তাই ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কার্যক্রম ও পদক্ষেপের দিকেই সবার নজর থাকবে। আজ দিনের প্রথমার্ধে জার্মানির ট্রেড ব্যালেন্স সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে এবং ইউরোগ্রুপের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। তবে ট্রেড ব্যালেন্স সংক্রান্ত পরিসংখ্যান খুব কমই কোনো কারেন্সির মূল্যের গতিপথ পরিবর্তন ঘটায় এবং অর্থমন্ত্রীদের বৈঠকে সাধারণত কেবল সাধারণ বিবৃতিই দেওয়া হয়ে থাকে। তাই ট্রেডাররা মূলত ইসিবির নীতিনির্ধারকরা পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে কী বলেন, সেদিকেই মনোযোগ দেবে।
গতকাল সন্ধ্যার পরিস্থিতির সাথে বর্তমান পরিস্থিতির পার্থক্যটি বেশ লক্ষণীয়। ফেডারেল রিজার্ভের বৈঠকের কার্যবিবরণীতে মুদ্রাস্ফীতি ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার ঝুঁকির বিষয়ে সর্বসম্মত মত ও দৃঢ় আস্থা প্রকাশ পেয়েছে। একই সময়ে, ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংককে 3.8% মুদ্রাস্ফীতির বিপরীতে দুর্বল ভোগ্যব্যয়ের বিষয়টি সামাল দিতে হচ্ছে (আগস্ট মাসে ইউরোজোনের খুচরা বিক্রয় সূচক মাত্র 0.1% বৃদ্ধি পেয়েছে)। ইসিবি যদি হকিশ বা কঠোর অবস্থান গ্রহণের ইঙ্গিত দেয়, তবে ইউরোর কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে; কারণ ট্রেডাররা তখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর মধ্যকার নীতিগত ব্যবধান কমে আসছে বলে বিবেচনা করবে। সম্প্রতি ইউরোর মূল্য ২০২৫ সালের মে মাসের পর সর্বনিম্ন লেভেলে নেমে যাওয়ায়, ইসিবির অবস্থান অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট ও জোরালো হওয়া প্রয়োজন।
দৈনিক কৌশল হিসেবে, আমি মূলত পরিকল্পনা #1 এবং #2 বাস্তবায়নের উপর নির্ভর করব।
পরিকল্পনা 1: আজ যখন ইউরোর মূল্য 1.1238-এর লেভেলে বৃদ্ধির লক্ষ্যে 1.1211-এর (চার্টে সবুজ লাইন দ্বারা চিহ্নিত) লেভেলে পৌঁছাবে, তখন আপনি ইউরোর লং পজিশন ওপেন করতে পারেন। মূল্য 1.1238-এর লেভেলে গেলে, আমি লং পজিশন ক্লোজ করার পরিকল্পনা করছি এবং এন্ট্রি পয়েন্ট থেকে বিপরীত দিকে 30-35 পিপসের মুভমেন্টের উপর নির্ভর করে ইউরোর শর্ট পজিশন ওপেন করব। আজ শুধুমাত্র আসন্ন প্রতিবেদনের ইতিবাচক ফলাফল প্রকাশিত হলে ইউরোর মূল্য বৃদ্ধি পেতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ: এই পেয়ারের লং পজিশন ওপেন করার আগে, নিশ্চিত করুন যে MACD সূচকটি জিরো লাইনের উপরে রয়েছে এবং সেখান থেকে উপরের দিকে উঠতে শুরু করেছে।
পরিকল্পনা 2: আজ MACD সূচকটি ওভারসোল্ড জোনে থাকা অবস্থায় মূল্য পরপর দুইবার 1.1191-এর লেভেল টেস্টের ক্ষেত্রে আমি ইউরোর লং পজিশন ওপেন করার পরিকল্পনা করছি। এটি এই পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী হওয়ার সম্ভাবনাকে সীমিত করবে এবং মূল্যকে বিপরীতমুখী করে ঊর্ধ্বমুখী করবে। আমরা 1.1211 এবং 1.1238-এর বিপরীতমুখী লেভেলের দিকে এই পেয়ারের দর বৃদ্ধির প্রত্যাশা করতে পারি।
সেল সিগন্যালপরিকল্পনা 1: EUR/USD পেয়ারের মূল্য 1.1191-এর (চার্টে লাল লাইন) লেভেলে পৌঁছানোর পর আমি ইউরোর শর্ট পজিশন ওপেন করার করার পরিকল্পনা করছি। সেলারদের জন্য মূল লক্ষ্যমাত্রা হবে 1.1167-এর লেভেল, যেখানে মূল্য পৌঁছালে আমি সেল পজিশন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছি এবং এন্ট্রি পয়েন্ট থেকে বিপরীত দিকে 20-25 পিপসের মুভমেন্টের উপর নির্ভর করে ইউরোর বাই পজিশন ওপেন করব। আজ আসন্ন প্রতিবেদনের দুর্বল ফলাফল প্রকাশিত হলে এই পেয়ারের উপর চাপ ফিরে আসতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ: শর্ট পজিশন ওপেন করার আগে, নিশ্চিত করুন যে MACD সূচকটি জিরো লাইনের নিচে রয়েছে এবং এর নিচে নামতে শুরু করেছে।
পরিকল্পনা 2: MACD সূচকটি ওভারবট জোনে থাকা অবস্থায় মূল্য পরপর দুইবার 1.1211-এর লেভেল টেস্টের ক্ষেত্রে আমি আজ ইউরোর শর্ট পজিশন ওপেন করতে যাচ্ছি। এটি এই পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার সম্ভাবনাকে সীমিত করবে এবং মূল্যকে বিপরীতমুখী করে নিম্নমুখী করবে। আমরা 1.1191 এবং 1.1167-এর বিপরীতমুখী লেভেলের দিকে এই পেয়ারের দরপতনের আশা করতে পারি।