বুধবার অল্প কয়েকটি সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। মূলত, একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের 'কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স' (CPI) বা ভোক্তা মূল্য সূচক প্রকাশিত হবে, যা ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। উল্লেখ্য যে, ফেডারেল রিজার্ভ উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে মনোযোগী হলেও প্রতিটি বৈঠকেই মূল সুদের হার বাড়াতে প্রস্তুত নয়। মূল্যস্ফীতি বেড়ে 3.6% বা তার বেশি হলে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক দ্বিতীয়বারের মতো মুদ্রানীতি কঠোর করার সিদ্ধান্তের আরও কাছাকাছি পৌঁছে যেতে পারে। আমাদের মতে, ফেডারেল রিজার্ভ কর্তৃক ভবিষ্যতে কঠোর আর্থিক নীতিমালার বিষয়টি ট্রেডাররা আগেই বিবেচনায় নিয়ে রেখেছে; তবে গত এক মাসে মার্কিন ডলারের দর বৃদ্ধির জন্য খুব সামান্য অনুঘটকই যথেষ্ট ছিল। তাই, মূল্যস্ফীতি 3.6%-এর বেশি হলে তা ইউরো ও পাউন্ডের আরও দরপতন ঘটাতে পারে।
ফান্ডামেন্টাল ইভেন্টের বিশ্লেষণ:বুধবারের গুরুত্বপূর্ণ ফান্ডামেন্টাল ইভেন্টগুলোর মধ্যে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিন লাগার্ডের দুটি বক্তব্য অনুষ্ঠিত হবে। ইউরোজোনে প্রকাশিত সর্বশেষ মুদ্রাস্ফীতি প্রতিবেদনটির ফলাফল হতাশাজনক ছিল—মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে 3.8%-এ পৌঁছেছে—যার ফলে এখনও ইসিবির হাতে এই বছরেই তৃতীয়বারের মতো আর্থিক নীতিমালা কঠোর করার সুযোগ রয়েছে। দুর্ভাগ্যবশত, মুদ্রানীতির ক্ষেত্রে লাগার্ডের হকিশ বা কঠোর অবস্থানও হয়তো ইউরোর উপর খুব একটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারবে না; কারণ গত এক মাস ধরে ট্রেডাররা ইউরোর ক্ষেত্রে বিদ্যমান অনুকূল বিষয়গুলোকে উপেক্ষা করে আসছে এবং কেবল মার্কিন ডলারই কিনে চলেছে।
ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখনও বেশ উদ্বেগজনক অবস্থায় রয়েছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো আলোচনা হচ্ছে না, তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করে যাচ্ছেন যে মার্কিন কংগ্রেস নির্বাচনের পর একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে। ট্রাম্প বারবার এ কথাও বলছেন যে ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যকার সংঘাত খুব শীঘ্রই শেষ হয়ে যেতে পারে—এমন কথা তিনি প্রায় দুই বছর ধরেই বলে আসছেন—তাই ট্রেডাররা তাঁর এসব বক্তব্যকে খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছে না। সপ্তাহান্তে ট্রাম্প ইরানের ব্যাপারে তাঁর সুর আবারও বদলে ফেলেন এবং জানান যে, মার্কিন কংগ্রেস নির্বাচনের পর তিনি হয়তো পুনরায় দেশটির ওপর সামরিক চাপ প্রয়োগ করতে শুরু করবেন। পাশাপাশি তিনি কিয়েভ ও মস্কোর মধ্যকার জ্বালানি-সংক্রান্ত এক সমঝোতার কথাও ঘোষণা দেন—যে ব্যাপারে কিয়েভ বা মস্কো—কেউই কিছু জানেনা।
উপসংহার:চলতি সপ্তাহের তৃতীয় দিনের ট্রেডিংয়ে উভয় কারেন্সি পেয়ারের সামান্য কারেকশনের প্রচেষ্টা দেখা যেতে পারে। আজ ইউরো 1.1198–1.1218 এরিয়ায় এবং পাউন্ড 1.3259–1.3267 রেঞ্জের মধ্যে ট্রেড করা যেতে পারে। আজ মার্কেটে স্বল্পমাত্রার ভোলাটালিটি বা অস্থিরতা দেখা যেতে পারে।
ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:সিগনালের শক্তি: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।ট্রেডিংয়ের সময়সূচী: ইউরোপীয় সেশন শুরু থেকে মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ট্রেড ওপেন করুন এবং এরপর সকল ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করে ফেলুন।MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।চার্টে কী কী রয়েছে:সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।