যুক্তরাষ্ট্রে ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি এই মাসে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনাকে পুনরায় উসকে দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা মূল্যস্ফীতি সংক্রান্ত প্রতিবেদনের ফলাফল ট্রেডারদের চমকে দিয়েছে; মূল ও সামগ্রিক—উভয় সূচকেই মূল্যস্ফীতির হার প্রত্যাশা ছাড়িয়ে গেছে এবং সব পূর্বাভাসকে ছাপিয়ে গেছে। এটি ইঙ্গিত দেয় যে, যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি প্রকৃতঅর্থেই ত্বরান্বিত হচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই, এই পরিস্থিতি ফেডারেল রিজার্ভের অক্টোবর মাসের বৈঠকে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে মার্কেটে নতুন করে জল্পনা-কল্পনা উসকে দিয়েছে। গতকাল, প্রতিবেদনটি প্রকাশের ঠিক আগে, ফেডারেল ফান্ডস ফিউচার্সের তথ্য অনুযায়ী চলতি মাসে সুদের হার অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা ছিল ৮০ শতাংশ। তবে আজ সেই সম্ভাবনা কমে ৬৮.৪ শতাংশে নেমে এসেছে। সুদের হার অপরিবর্তিত থাকার প্রত্যাশা ধীরে ধীরে আরও কমতে পারে, অন্যদিকে সুদের হার বাড়ানোর প্রত্যাশা বাড়তে পারে।
সুতরাং, মার্কিন সুদের হারের পূর্বাভাস পুনর্বিবেচনার প্রেক্ষাপটে অদূর ভবিষ্যতে কী আশা করা যেতে পারে?
ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শ আজ ব্যাংককে বক্তব্য দেবেন বলে নির্ধারিত রয়েছে। সুদের হার আরও বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে তাঁর মূল্যায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে। তিনি যদি জানান যে, সুদের হার নির্ধারণের ক্ষেত্রে মার্কিন নিয়ন্ত্রক সংস্থা ভবিষ্যতেও প্রাপ্ত অর্থনৈতিক প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর করবে, তবে যেকোনো বড় ধরনের অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশের ফলে মার্কেটে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে। মূল্যস্ফীতি সংক্রান্ত পরিসংখ্যান কিংবা খুচরা বিক্রয় সূচকের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদনগুলো মার্কেটের অস্থিরতা বাড়িয়ে দিতে পারে; কারণ এগুলো ২৮ অক্টোবর শুরু হতে যাওয়া ফেডারেল রিজার্ভের দুই দিনব্যাপী বৈঠকের পর সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা-কল্পনাকে উসকে দেবে। মার্কিন ডলারের চাহিদা বাড়ায় এমন প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে, ফরেক্স মার্কেটে মার্কিন ডলারের আরও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা সৃষ্টি হতে পারে।
আজ মার্কেট থেকে কী আশা করা যেতে পারে?
সামগ্রিকভাবে মার্কেটে কনসোলিডেশন বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। মুদ্রাস্ফীতি বিষয়ক প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে ট্রেডারদের প্রতিক্রিয়ার ফলে আগামীকাল থেকে মার্কেটে আরও উল্লেখযোগ্য মুভমেন্ট দেখা যেতে পারে।
দৈনিক পূর্বাভাস:
EUR/USD
এই পেয়ারের মূল্য 1.1235-এর রেজিস্ট্যান্স লেভেলের নিচে অবস্থান করছে। এই পেয়ারের মূল্য নিম্নমুখী হয়ে 1.1112-এর দিকে নেমে আসতে পারে। 1.1207 লেভেলটি শর্ট পজিশন ওপেন করার জন্য এন্ট্রি পয়েন্ট হিসেবে কাজ করতে পারে। এক্ষেত্রে 1.1254 লেভেলে স্টপ-লস অর্ডার সেট করা যেতে পারে।
AUD/USD
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে সুদের হার বৃদ্ধির প্রত্যাশার কারণে এই কারেন্সি পেয়ার চাপের মুখে রয়েছে, অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার নীতি বজায় রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার শ্রমবাজারের দুর্বল পরিস্থিতি রিজার্ভ ব্যাংক অফ অস্ট্রেলিয়াকে (আরবিএ) পুনরায় সুদের হার বাড়ানোর পদক্ষেপ নেওয়া থেকে বিরত রাখছে, যা অস্ট্রেলিয়ান ডলারের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
এই পেয়ারের মূল্য প্রাথমিকভাবে 0.6912 এবং পরবর্তীতে 0.6882 পর্যন্ত নেমে আসতে পারে। 0.6932 লেভেলটি শর্ট পজিশন ওপেন করার জন্য এন্ট্রি পয়েন্ট হিসেবে কাজ করতে পারে। এক্ষেত্রে 0.6974 লেভেলে স্টপ-লস অর্ডার সেট করা যেতে পারে।