বৃহস্পতিবার দিনের বেলায় GBP/USD কারেন্সি পেয়ারের মূল্যের উল্লেখযোগ্য কোনো মুভমেন্ট দেখা যায়নি; কেবল গতকাল প্রকাশিত মার্কিন মুদ্রাস্ফীতি প্রতিবেদনের পর রাতের দিকে পাউন্ডের মূল্য কিছুটা বৃদ্ধি পেতে দেখা গেছে। মূলত, বুধ ও বৃহস্পতিবার এই পেয়ার প্রথমে বড় ধরনের দরপতনের শিকার হয়, এরপর আবার দ্রুত ঘুরে দাঁড়ায় এবং আগের তিন সপ্তাহ ধরে যে সাইডওয়েজ চ্যানেলে অবস্থান করছিল, সেখানেই ফিরে আসে। সুতরাং, টেকনিক্যাল দৃষ্টিকোণ থেকে ঘণ্টাভিত্তিক চার্টে পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি। মুদ্রাস্ফীতির হার বেশি হওয়া সত্ত্বেও মার্কিন ডলার মার্কেটে বাড়তি সমর্থন পায়নি (যা যৌক্তিকই ছিল)। যুক্তরাজ্যের জিডিপি এবং শিল্প উৎপাদন সংক্রান্ত প্রতিবেদনের ফলাফল বেশ ভালো হওয়া সত্ত্বেও মার্কেটে সেগুলোর কোনো প্রভাব পড়েনি। সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদক মূল্য সূচক (PPI) 1.3% বেড়েছে—যা পূর্বাভাসের তুলনায় প্রায় আড়াই গুণ বেশি—তবুও ট্রেডারদের মধ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। এটি ইঙ্গিত দেয় যে, মার্কিন ডলার হয়তো এখন আর প্রতিটি ঘটনার প্রেক্ষিতে বা কোনো কারণ ছাড়াই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখাবে না। আমাদের মতে, অনেক আগেই পাউন্ডের (ইউরোর মতোই) মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা শুরু হওয়া উচিত ছিল।
GBP/USD পেয়ারের 5M চার্টবৃহস্পতিবার 5-মিনিটের টাইমফ্রেমে, 1.3259–1.3267 এরিয়ায় চারটি ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়েছিল। এই পেয়ারের মূল্য এই এরিয়া থেকে তিনবার বাউন্স করে এবং সিগন্যালগুলো মূলত একই ধরনের ছিল; তাই সত্যিকার অর্থে আপনি কেবল একটি ট্রেডই ওপেন করতে পারতেন। লং পজিশনটি থেকে দিনের মধ্যে কোনো মুনাফা পাওয়া যায়নি, তবে এটি আজকের দিন পর্যন্ত হোল্ড করে রাখা যেতে পারে, কারণ সাম্প্রতিক দিনগুলোতে পাউন্ডের মূল্যের পুনরুদ্ধার পরিলক্ষিত হচ্ছে।
শুক্রবার কীভাবে ট্রেডিং করতে হবে:ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে, GBP/USD পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে যা এখন পূর্ণাঙ্গ প্রবণতায় রূপ নিয়েছে। ফেডারেল রিজার্ভ ইঙ্গিত দিয়েছে যে তারা মুদ্রানীতি কঠোর করার প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে প্রস্তুত, ফলে মার্কিন ডলারের সার্বিক মৌলিক প্রেক্ষাপটের উন্নতি ঘটেছে। তবে প্রায় একমাস পেরিয়ে গেলেও ট্রেডাররা শুধুমাত্র মার্কিন ডলার ক্রয় করেই যাচ্ছে। অবশ্য ফেডের আর্থিক নীতিমালাই মার্কিন ডলারের দর বৃদ্ধির একমাত্র কারণ কিনা এ বিষয়ে আমাদের ঘোরতর সন্দেহ রয়েছে। তাই, মার্কেটে পরিলক্ষিত বর্তমান মুভমেন্টকে আমরা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক বলে মনে করছি।
শুক্রবার এই পেয়ারের মূল্য 1.3259–1.3267 এরিয়ার নিচে স্থিতিশীল হলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.3175–1.3180-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। অন্যদিকে গতকাল 1.3259–1.3267 জোনে গঠিত বাই সিগন্যালের ভিত্তিতে ওপেন করা লং পজিশন হোল্ড করে রাখা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.3319–1.3331-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
5-মিনিটের টাইমফ্রেমে ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে: 1.3043, 1.3096–1.3107, 1.3175–1.3180, 1.3259–1.3267, 1.3319–1.3331, 1.3380–1.3386, 1.3456–1.3476, 1.3587–1.3598, 1.3631–1.3641। শুক্রবার যুক্তরাজ্যে উল্লেখযোগ্য কোনো প্রতিবেদন প্রকাশের সম্ভাবনা নেই; যুক্তরাষ্ট্রে কেভিন ওয়ার্শ বক্তব্য রাখবেন এবং দেশটির শিল্পোৎপাদন সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে, যদিও বর্তমানে ট্রেডারদের কাছে শেষোক্ত প্রতিবেদনের গুরুত্ব বেশ সীমিত।
ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:সিগনালের শক্তি: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।ট্রেডিংয়ের সময়সূচী: ইউরোপীয় সেশন শুরু থেকে মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ট্রেড ওপেন করুন এবং এরপর সকল ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করে ফেলুন।MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।চার্টে কী কী রয়েছে:সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।