আজ স্বর্ণ চাপের মুখে রয়েছে; আগের সেশনের 0.6% দরপতনের পর স্বর্ণের মূল্য সেই লেভেলের কাছাকাছিই অবস্থান করছে। স্পট মার্কেটে স্বর্ণের মূল্য প্রতি আউন্স প্রায় $4,130-এ অবস্থান করছে। রৌপ্যের দর প্রায় 0.6% বেড়ে প্রতি আউন্স $57.44-এ পৌঁছেছে এবং প্ল্যাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের মূল্যও সামান্য বেড়েছে।
জ্বালানি তেলের উচ্চ মূল্যই স্বর্ণের মূল্য বৃদ্ধিতে বাঁধা সৃষ্টি করছে, যা বর্তমানে পাঁচ মাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। ইরান জানিয়েছে যে, হরমুজ প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা ছাড়া তাদের আর কোনো উপায় নেই। অন্যদিকে, রাশিয়ার সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ডিজেল সরবরাহ চুক্তির বিরোধিতা করেছেন মার্কিন আইনপ্রণেতারা। জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধির আশঙ্কা বাড়িয়ে দিচ্ছে, যার ফলে ফেডারেল রিজার্ভের আর্থিক নীতিমালা আরও কঠোর হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
মার্কিন ট্রেজারি মার্কেটেও চাপ বেড়েছে। প্রযুক্তি খাতভিত্তিক স্টকের মূল্যের পুনরুদ্ধারের ফলে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বন্ডের চাহিদা কমে গেছে, যার ফলে বন্ডের ইয়েল্ড বা লভ্যাংশের হারের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় রয়েছে। স্বর্ণের ক্ষেত্রে—যেখান থেকে কোনো সুদ পাওয়া যায় না—বন্ডের উচ্চ ইয়েল্ড এবং ঋণের ব্যয় বৃদ্ধি একটি বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে।
মুদ্রাস্ফীতি মোকাবিলায় ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হতে পারে, সে ব্যাপারে ট্রেডাররা এখন অনুমান করছেন। 'ব্ল্যাকআউট পিরিয়ড' বা নীতিনির্ধারণী বৈঠকের সিদ্ধান্ত প্রকাশের আগে নীরব থাকার সময়কাল শুরুর আগে শুক্রবার কেভিন ওয়ার্শ যে মন্তব্য করেছেন, তাতে এটি স্পষ্ট হয়নি যে ফেডারেল রিজার্ভ আগামী সপ্তাহের বৈঠকে সুদের হার অপরিবর্তিত রাখবে কি না। ফলে, ওই বৈঠকে সুদের হার ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়ানোর সম্ভাবনা ২০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে (যা গত মাসের শেষে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ছিল)। তবে ট্রেডারদের ধারণা, বছরের শেষ নাগাদ সুদের হার আরও একবার বাড়ানোর সম্ভাবনা প্রায় ৯০ শতাংশ।
মনে রাখা প্রয়োজন যে, অক্টোবরে স্বর্ণের মূল্য মূলত $4,100-এর উপরেই অবস্থান করেছিল এবং সেপ্টেম্বরে 6%-এরও বেশি দরপতনের পর তা স্থিতিশীল হয়ে উঠেছিল। মার্কিন ডলারের শক্তিশালী ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা এবং বন্ডের উচ্চ মুনাফার হার সত্ত্বেও স্বর্ণের মূল্যের এই স্থিতিশীলতা বজায় ছিল। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত শুরুর পর থেকে স্বর্ণের মূল্য প্রায় এক-পঞ্চমাংশ কমে গেছে; এছাড়া উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও বন্ডের উচ্চ মুনাফার হারের কারণে বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত নেতিবাচক পরিস্থিতি বজায় রয়েছে।
এর অর্থ হলো, স্বর্ণ বর্তমানে দুটি বিপরীতমুখী শক্তির মাঝে আটকা পড়েছে। জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য এবং ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার আরও বাড়ানোর সম্ভাবনা স্বর্ণের মূল্য বৃদ্ধির সম্ভাবনাকে বাধাগ্রস্ত করছে; অন্যদিকে, অক্টোবরে স্বর্ণের মূল্য $4,100-এর কাছাকাছি বজায় থাকার বিষয়টি থেকে বোঝা যায় যে, মার্কেটে এখনই বড় ধরনের বিক্রয়ের প্রবণতা তৈরির জন্য প্রস্তুতি দেখা যাচ্ছে না। আমার ধারণা, আগামী দিনগুলোতে স্বর্ণের দর বর্তমান লেভেলের কাছাকাছি একটি সীমিত পরিসরের মধ্যেই ওঠানামা করবে; জ্বালানি তেলের মূল্য এবং বন্ডের ইয়েল্ড উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেলেই কেবল স্বর্ণের মূল্যের উল্লেখযোগ্য ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যেতে পারে।
স্বর্ণের বর্তমান টেকনিক্যাল চিত্র অনুযায়ী, ক্রেতাদের স্বর্ণের মূল্যকে নিকটতম রেজিস্ট্যান্স $4,192-এ পুনরুদ্ধার করতে হবে। এতে করে স্বর্ণের মূল্যের $4,249-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে; যা ব্রেক করে ঊর্ধ্বমুখী হওয়া তুলনামূলকভাবে কঠিন হবে। পরবর্তী লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে $4,304 এরিয়া নির্ধারণ করা যেতে পারে। দরপতনের ক্ষেত্রে স্বর্ণের মূল্য $4,124 লেভেলে থাকা অবস্থায় বিক্রেতারা মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করবে। যদি তারা সফল হয়, এই রেঞ্জ ব্রেক করে স্বর্ণের মূল্য নিম্নমুখী হলে সেটি বুলিশ পজিশনগুলোর উপর উল্লেখযোগ্য আঘাত হিসেবে বিবেচিত হবে এবং স্বর্ণের মূল্য $4,062-এ নেমে যেতে পারে ও পরবর্তীতে সম্ভবত $4,047 পর্যন্ত দরপতন হতে পারে।