বৃহস্পতিবার অল্প কয়েকটি সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। মূলত, একমাত্র উল্লেখযোগ্য প্রতিবেদন হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রাথমিক জবলেস ক্লেইমস সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে, যা সম্ভবত ট্রেডারদের মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারবে না। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জার্মানি এবং যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী তেমন কোনো প্রতিবেদন প্রকাশের কথা নেই। ফলে, আজ উভয় কারেন্সি পেয়ারের মূল্যের আবারও স্বল্প মাত্রার অস্থিরতা বজায় থাকতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ কোনো প্রতিবেদনের সহায়তা ছাড়া ইউরোর মূল্য বৃদ্ধির সম্ভাবনা কম এবং ব্রিটিশ পাউন্ডের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতাও থমকে যেতে পারে।
ফান্ডামেন্টাল ইভেন্টের বিশ্লেষণ:বৃহস্পতিবারের একমাত্র উল্লেখযোগ্য ফান্ডামেন্টাল ইভেন্ট হিসেবে ব্যাংক অফ ইংল্যান্ডের গভর্নর অ্যান্ড্রু বেইলির বক্তব্য অনুষ্ঠিত; তবে গতকাল মুদ্রাস্ফীতি প্রতিবেদন প্রকাশের পর, যুক্তরাজ্যের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধানের কাছ থেকে কী আশা করা যায়, সে বিষয়ে ট্রেডারদের কাছে ইতোমধ্যেই স্পষ্ট ধারণা রয়েছে। পরবর্তী বৈঠকে ব্যাংক অফ ইংল্যান্ডের আর্থিক নীতিমালা সংক্রান্ত কমিটি সম্ভবত সুদের হার বাড়ানোর পক্ষে ভোট দেবে, যার ফলে নীতিমালা কঠোর করার প্রক্রিয়া শুরু হবে। অন্যদিকে, ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং ফেডারেল রিজার্ভ অক্টোবরে মুদ্রানীতি কঠোর করার ক্ষেত্রে বিরতি নিতে পারে।
ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এখনও বেশ উদ্বেগজনক অবস্থায় রয়েছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো আলোচনা চলছে না, যদিও ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার বলে আসছেন যে মার্কিন কংগ্রেস নির্বাচনের পর একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে। ট্রাম্প এও দাবি করে আসছেন যে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যকার সংঘাতের খুব দ্রুতই সমাপ্তি ঘটতে পারে—এমন কথা তিনি প্রায় দুই বছর ধরে বলে আসছেন—তবে এই আশাব্যঞ্জক বক্তব্য ট্রেডারদের কাছে তেমন কোনো গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে না। বছরের শেষ নাগাদ চলমান সংঘাতগুলোর কোনোটিরই সমাধান হবে বলে মনে হচ্ছে না। ট্রাম্প ইউক্রেন সংঘাতের অবসান ঘটাতে চাইলেও ইরানের সঙ্গে নিজেদের বিরোধ মেটাতে পারছেন না; অন্যদিকে ইরান আশা করছে, কংগ্রেস নির্বাচনে রিপাবলিকানরা পরাজিত হলে মার্কিন চাপ হয়তো কিছুটা কমতে পারে। জ্বালানি তেলের মূল্য আবার বাড়ছে।
উপসংহারচলতি সপ্তাহের চতুর্থ দিনের ট্রেডিংয়ে উভয় কারেন্সি পেয়ারের মন্থর ট্রেডিং দেখা যেতে পারে, যেহেতু আজ খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট নির্ধারিত নেই। আজ ইউরো 1.1198–1.1218 এরিয়ায় এবং পাউন্ড 1.3380–1.3386 রেঞ্জের মধ্যে ট্রেড করা যেতে পারে, তবে আজকেও শক্তিশালী মুভমেন্টের খুব বেশি সম্ভাবনা নেই।
ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:সিগনালের শক্তি: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।চার্টে কী কী রয়েছে:সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।