স্বর্ণের মূল্য আউন্স প্রতি $4,000-এর নিচে নেমে এসেছে, যা গত তিন মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন। বৃহস্পতিবার প্রায় 3% দরপতনের পর, দৈনিক সেশনে স্বর্ণের মূল্য আরও প্রায় 0.9% কমে $3,990-এর নিচে নেমে যায়—যা জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ের পর সর্বনিম্ন লেভেল। রুপার মূল্য 1.2% কমে $53.90-এ দাঁড়িয়েছে, অন্যদিকে প্ল্যাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের মূল্য সামান্য বেড়েছে।
বিভিন্ন খাতভিত্তিক স্টক বিক্রির ব্যাপক প্রবণতার কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবারও স্টক মার্কেটে দরপতন অব্যাহত ছিল, কারণ বিনিয়োগকারীরা এআই সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো থেকে পুঁজি সরিয়ে নিচ্ছিলেন। অন্যদিকে, নিরাপদ বিনিয়োগের দিকে বিনিয়োগ প্রবাহ বাড়ায় ট্রেজারি বন্ডগুলো আগের দিনের অর্জিত প্রবৃদ্ধি মোটামুটি ধরে রাখতে পেরেছে। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের প্রতি বিনিয়োগকারীদের তেমন কোনো আগ্রহ দেখা যায়নি।
মার্কিন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি—এআই সংক্রান্ত বিনিয়োগের স্থায়িত্ব নিয়ে মার্কেটে উদ্বেগ বাড়ছে। এর ফলে, ফেডারেল রিজার্ভ কর্তৃক সুদের হার আরও বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা কমে গেছে। আগামী সপ্তাহের বৈঠকে সুদের হার 25 বেসিস পয়েন্ট বাড়ানোর সম্ভাবনা 10%-এর নিচে নেমে এসেছে, অথচ আগের দিনও এই সম্ভাবনা প্রায় 17%-এর (ছয় ভাগের এক ভাগ) কাছাকাছি ছিল। সাধারণত, বন্ডের ইয়েল্ড বা লভ্যাংশের হার হ্রাস এবং সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা হ্রাস স্বর্ণের জন্য ইতিবাচক হলেও, এবার তেমনটি ঘটেনি।
এই পরিস্থিতির মূল কারণ হলো জ্বালানি তেল। সৌদি আরবের ওপর ক্রমাগত হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্নতা ঘটার ঝুঁকি বেড়ে গিয়েছে, যার ফলে ব্রেন্ট ক্রুড গ্রেডের জ্বালানি তেলের মূল্য ব্যারেলপ্রতি $114 ছাড়িয়ে গেছে—যা সাপ্তাহিক ভিত্তিতে প্রায় 3% বৃদ্ধি। জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য মুদ্রাস্ফীতিকে দীর্ঘস্থায়ী করে তুলছে, ফলে সুদের হারের ওপর চাপ কমছে না; আর বন্ডের ইয়েল্ড না কমায় স্বর্ণও এর থেকে কোনো সুবিধা পাচ্ছে না।
বর্তমান পরিস্থিতিতে মার্কেটে সক্রিয়ভাবে স্বর্ণ ক্রয়ের সম্ভাবনা কম বলে মনে হচ্ছে, কারণ বন্ডের ইয়েল্ড কমে যাওয়া সত্ত্বেও স্বর্ণের মূল্য সেভাবে প্রভাবিত হচ্ছে না। সামগ্রিকভাবে ঝুঁকি গ্রহণ না করার প্রবণতা এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে অব্যাহত উদ্বেগ, বন্ডের ইয়েল্ড কমে যাওয়ার সুফলের চেয়ে বেশি প্রভাব ফেলছে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত শুরুর পর থেকে স্বর্ণের মূল্য এক-পঞ্চমাংশের বেশি কমে গেছে। স্টক মার্কেটে নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকলে এবং জ্বালানি তেলের মূল্য চড়া থাকলে স্বর্ণের ওপর চাপ বজায় থাকবে; এমনকি স্বর্ণের মূল্য $3,900-এ নেমে আসার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। স্টক মার্কেটে স্থিতিশীলতা ফিরে এলে স্বর্ণ পুনরায় নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে তার ভূমিকা ফিরে পেতে পারে এবং দরপতন থামতে পারে, তবে আপাতত তেমন কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।
স্বর্ণের বর্তমান টেকনিক্যাল চিত্র অনুযায়ী, ক্রেতাদের স্বর্ণের মূল্যকে নিকটতম রেজিস্ট্যান্স $4,062-এ পুনরুদ্ধার করতে হবে। এতে করে স্বর্ণের মূল্যের $4,124-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে; যা ব্রেক করে ঊর্ধ্বমুখী হওয়া তুলনামূলকভাবে কঠিন হবে। পরবর্তী লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে $4,192 এরিয়া নির্ধারণ করা যেতে পারে। দরপতনের ক্ষেত্রে স্বর্ণের মূল্য $4,008 লেভেলে থাকা অবস্থায় বিক্রেতারা মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করবে। যদি তারা সফল হয়, এই রেঞ্জ ব্রেক করে স্বর্ণের মূল্য নিম্নমুখী হলে সেটি বুলিশ পজিশনগুলোর উপর উল্লেখযোগ্য আঘাত হিসেবে বিবেচিত হবে এবং স্বর্ণের মূল্য $3,954-এ নেমে যেতে পারে ও পরবর্তীতে সম্ভবত $3,906 পর্যন্ত দরপতন হতে পারে।