ইউরোপীয় সেশনের শুরুর দিকে প্রযুক্তি খাতভিত্তিক স্টক সূচকগুলোর দরপতনের ধারা কিছুটা কমেছে, যা এআই খাতের ওপর নতুন করে তৈরি হওয়া চাপের মুখে বিনিয়োগকারীদের কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি সূচক 4.1% দরপতনের পর আবার আগের অবস্থানে ফিরে এসেছে এবং এসকে হাইনিক্স-সহ চিপ নির্মাতা কোম্পানিগুলোর স্টকের মূল্য 4% বেড়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। MSCI এশিয়া-প্যাসিফিক সূচক, যা একপর্যায়ে 1.1% পর্যন্ত কমে গিয়েছিল, তা পরে কিছুটা সামলে উঠে প্রায় 0.2% হ্রাস পেয়েছে। নাসডাক 100 ফিউচার সূচক প্রায় 0.1% বেড়েছে।
গতকাল স্টক মার্কেটে ব্যাপক এবং তীব্রভাবে স্টক বিক্রির প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াল স্ট্রিটে চিপ নির্মাতা কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দরপতন ঘটে এবং জুন মাসের পর নাসডাক 100 সূচক সবচেয়ে নেতিবাচক দিন অতিবাহিত করেছে। প্রযুক্তি খাতভিত্তিক শেয়ারগুলোতে এই বিক্রির প্রবণতা দেখা গেছে—যে খাতটি গত চার বছর ধরে মার্কিন স্টক মার্কেটের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে। বৃহৎ মূলধনসম্পন্ন কোম্পানিগুলোর আয়ের ফলাফল প্রকাশের পর এমন উদ্বেগ তৈরি হয় যে, মার্চের শেষ দিক থেকে মার্কেটে যে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, তা হয়তো অতিরিক্ত দ্রুত এবং মাত্রাতিরিক্ত পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। নাসডাক 100 সূচকটি টানা দ্বিতীয় সপ্তাহের মতো দরপতনের সম্মুখীন হয়েছে, যা জুলাই মাসের পর প্রথমবার এমন ধারাবাহিক দরপতনের ঘটনা।
তাহলে বিনিয়োগকৃত অর্থ কোথায় গেল? মূলত নিরাপদ হিসেবে বিবেচিত খাতে বিনিয়োগ প্রবাহিত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইউটিলিটি ও স্বাস্থ্যসেবা খাতের স্টক দর বেড়েছে; একই সঙ্গে বেড়েছে ট্রেজারি বন্ডের দরও, যা গত দুই বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বড় উত্থান। ১০ বছর মেয়াদী বন্ডের ইয়েল্ড 17 বেসিস পয়েন্ট কমে এক মাসের মধ্যে প্রথমবারের মতো 5%-এর নিচে নেমে এসেছে। এশীয় অঞ্চলের উচ্চমানের ঋণগ্রহীতাদের মার্কিন ডলার-ভিত্তিক বন্ডের স্প্রেড গত বছরের জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
সামনে আরও পরীক্ষা অপেক্ষা করছে। আগামী সপ্তাহে মাইক্রোসফট, অ্যামাজন ও অ্যালফাবেটের আয়ের প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে এবং ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে। এই বছর সুদের হার আরও বাড়তে পারে—এমন প্রত্যাশা ট্রেডাররা ইতোমধ্যেই কমিয়ে এনেছেন। মার্কেটে এমন আশঙ্কা ক্রমশ জোরালো হচ্ছে যে, এআই খাতে বিনিয়োগের জোয়ার হয়তো সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছে গেছে—অর্থাৎ, এই 'বাবল' হয়তো ইতোমধ্যেই সংকুচিত হতে শুরু করেছে। মার্কিন কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় মার্কেটে স্থিতিশীলতা ফিরতে সময় লাগতে পারে; তাই অনেক বিনিয়োগকারী আগেভাগেই ঝুঁকি হ্রাসের জন্য সক্রিয়ভাবে পদক্ষেপ নিচ্ছেন।
ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিও স্টক মার্কেটে উল্লেখযোগ্য প্রভাব বিস্তার করছে। সৌদি আরবের ওপর আক্রমণের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা বেড়েছে, যা নিরাপদ বিনিয়োগের মাধ্যমগুলোর চাহিদা বাড়িয়ে দিয়েছে। জ্বালানি তেলের মূল্য ক্রমাগত বাড়ছে: আগের দিন 4% বৃদ্ধির পর ব্রেন্ট ক্রুড গ্রেডের জ্বালানি তেলের মূল্য প্রায় 1% বেড়ে প্রতি ব্যারেল $114.35-এ পৌঁছেছে। এর ফলে টানা তৃতীয় সপ্তাহের মতো অপরিশোধিত তেলের এই বেঞ্চমার্ক গ্রেডের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় রয়েছে।
এসবই ইঙ্গিত দেয় যে ট্রেডাররা এআই সংশ্লিষ্ট কোম্পানিতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন করে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, আর জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য আশাবাদী হওয়ার সুযোগ কমিয়ে দিচ্ছে। আমার মতে, আগামী সপ্তাহে মাইক্রোসফট, অ্যামাজন এবং অ্যালফাবেট যদি প্রত্যাশার চেয়ে অনেক ইতিবাচক ফলাফল প্রকাশ করতে না পারে, তবে প্রযুক্তি খাতভিত্তিক শেয়ারগুলোর উপর চাপ বজায় থাকবে; অন্যদিকে, নিরাপদ খাত হিসেবে বিবেচিত এবং বন্ডের দিকে বিনিয়োগ প্রবাহ অব্যাহত থাকবে। যদি এই কোম্পানিগুলোর আয়ের প্রতিবেদন হতাশাজনক হয়, তবে বৃহস্পতিবারের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঘটার সম্ভাবনা পুরোপুরি রয়েছে।
টেকনিক্যাল প্রেক্ষাপট অনুযায়ী S&P 500 সূচকের ক্রেতাদের প্রধান কাজ হবে সূচকটির মূল্যের $7,679-এর নিকটতম রেজিস্ট্যান্স অতিক্রম করানো। এটি আরও উর্ধ্বমুখী প্রবণতা নিশ্চিত করবে এবং $7,698-এর দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা উন্মুক্ত করবে। সূচকটির দর $7,718-এর উপর ধরে রাখাও ক্রেতাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর ফলে তাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে। যদি ঝুঁকি গ্রহণের প্রবণতা কমে গিয়ে দরপতন হয়, তাহলে সূচকটির দর $7,656-এ থাকা অবস্থায় বায়ারদের সক্রিয় হতে হবে। এই লেভেল ব্রেক করে নিম্নমুখী হলে সূচকটির মূল্য দ্রুত $7,633-এ নেমে যেতে পারে এবং $7,601 পর্যন্ত দরপতনের সম্ভাবনা রয়েছে।