অক্টোবরের শেষ সপ্তাহটি অন্যতম ব্যস্ততম সপ্তাহ হতে যাচ্ছে। মাত্র পাঁচ দিনের ব্যবধানে EUR/USD-এর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন নির্ধারিত রয়েছে: ফেডারেল রিজার্ভ ও ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে, সেইসাথে কোর পিসিই সূচক—যা ফেডারেল রিজার্ভের মুদ্রাস্ফীতি পরিমাপের অন্যতম প্রধান সূচক—, এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোজোনে তৃতীয় প্রান্তিকের জিডিপির প্রাথমিক প্রাক্কলন প্রকাশিত হবে। এর পাশাপাশি আরও কিছু প্রতিবেদন—যেমন IFO সূচক, মার্কিন ভোক্তা আস্থা সূচক, ডিউরেবল গুডস অর্ডার এবং জার্মানির মুদ্রাস্ফীতি সংক্রান্ত প্রতিবেদন—সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও স্পষ্ট করে তুলবে।
দীর্ঘ সময় ধরে একটি নির্দিষ্ট রেঞ্জের মধ্যে ট্রেডিং হওয়ার পর, ট্রেডাররা অবশেষে EUR/USD-এর মূল্যের সম্ভাব্য মুভমেন্ট সম্পর্কে ধারণা নেয়ার সুযোগ পাবেন।
ফেড এবং ইসিবির বৈঠকফেডের বৈঠকই মূলত ট্রেডারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে—যার ফলাফল ২৮ অক্টোবর ঘোষণা করা হবে—সামগ্রিকভাবে বৈঠক পরবর্তী বিবৃতিতে গৃহীত অবস্থান এবং কেভিন ওয়ার্শের বক্তব্যই পরিস্থিতি নির্ধারিত করবে। রয়টার্সের সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী, ১০০ জন অর্থনীতিবিদের মধ্যে ৯৪ জনই মনে করছেন যে সুদের হার ৩.৭৫% থেকে ৪.০০%-এর মধ্যেই অপরিবর্তিত রাখা হবে। মার্কেটের অন্যান্য মডেল থেকেও একই ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে: সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সুদের হার অপরিবর্তিত থাকার প্রায় ৯০% সম্ভাবনা রয়েছে।
এটি ইঙ্গিত দেয় যে, সুদের হার অপরিবর্তিত রাখা হলে তা কোনো স্বতন্ত্র মৌলিক চালিকাশক্তিতে পরিণত হবে না। বরং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে পাওয়া সংকেতগুলোর দিকেই ট্রেডাররা বেশি নজর দেবেন—বিশেষ করে মুদ্রানীতি আরও কঠোর করার সম্ভাবনা সম্পর্কে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক কী ইঙ্গিত দেয়, তা তাদের কাছে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হবে।
একই টুল অনুযায়ী, ডিসেম্বরের বৈঠকে সুদের হার ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়ানোর সম্ভাবনা প্রায় ৭০ শতাংশ। এছাড়া ট্রেডাররা আরও বড় পদক্ষেপ—অর্থাৎ ৫০ বেসিস পয়েন্ট সুদের হার বাড়ানোর—প্রায় ১০ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে বলে ধরে নিচ্ছেন। ড্যানস্ক ব্যাংকের বিশ্লেষকসহ অনেকেই মুদ্রানীতি হকিশ বা কঠোর করার ইঙ্গিত পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন; তারা মার্চ মাসে সুদের হার আর বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছেন। এমনকি তাদের মতে, অক্টোবরের বৈঠকেই ফেডারেল রিজার্ভের দুই থেকে তিন জন কর্মকর্তা তাৎক্ষণিকভাবে মুদ্রানীতি কঠোর করার পক্ষে ভোট দিতে পারেন।
সামগ্রিকভাবে, অনেক বিশ্লেষক মনে করেন যে সুদের হার বর্তমান স্তরে বজায় রাখা হলে তার সাথে প্রায় নিশ্চিতভাবেই হকিশ বা কঠোর পদক্ষেপের গ্রহণের সংকেত আসবে। আমি এই পরিস্থিতিটিকেই সবচেয়ে সম্ভাব্য বলে মনে করি। নন ফার্ম পেরোল প্রতিবেদনের দুর্বল ফলাফল ফেডকে এই মাসে সুদের হার বৃদ্ধিতে বিরতি নিতে বাধ্য করছে, কিন্তু সামগ্রিক এবং—গুরুত্বপূর্ণভাবে—মূল মুদ্রাস্ফীতির হার বৃদ্ধি পাওয়ায় ফেড সতর্ক অবস্থান থেকে সরে আসতে পারে বা আরও কঠোর পদক্ষেপের গ্রহণের সম্ভাবনা বাড়তে পারে এই আশংকা উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না। প্রশ্ন শুধু এটাই যে, মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক কত দ্রুত সুদের হার বাড়াবে। সুতরাং, মার্কিন ডলারের মূল্যের মুভমেন্ট মূলত ফেডের বিবৃতিতে গৃহীত হকিশ বা কঠোর অবস্থান এবং কেভিন ওয়ার্শের বক্তব্যের উপর নির্ভর করবে।
ফেডের চেয়ারম্যান সম্ভবত নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মন্থরতার বিষয়টি স্বীকার করবেন, পাশাপাশি মুদ্রাস্ফীতিজনিত সমস্যাগুলোর ওপর জোর দেবেন এবং মূল্যস্ফীতির চাপ স্থায়ী রূপ নেওয়ার ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক করবেন। সেপ্টেম্বরে কোর সিপিআই ও পিপিআই-এর ঊর্ধ্বগতি বিবেচনায় নিলে এটিই সবচেয়ে সম্ভাব্য পরিস্থিতি (অর্থাৎ, সমস্যাটি এখন আর কেবল জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রত্যক্ষ প্রভাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই)।
তবে, কেবল আগের কথাগুলোর পুনরাবৃত্তি করলেই মার্কিন ডলারের দর বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা কম: মার্কিন ডলারের এমন নতুন তথ্য প্রয়োজন, যা বিদ্যমান প্রত্যাশাগুলোকে আরও জোরালো করে তোলে (যেমন—আগামী বছরের শুরুর দিকে সুদের হার আরও বাড়ানোর সম্ভাবনা সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো ইঙ্গিত)।
ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন—যার ফলাফল ২৯ অক্টোবর প্রকাশিত হবে। সেখানেও মূল সুদের হার অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, তবে তাদের পক্ষ থেকে যে বার্তা আসবে, তা সম্ভবত হকিশ বা কঠোর অবস্থানের পরিবর্তে বরং অধিক সতর্কতামূলক হতে পারে।
সেপ্টেম্বর মাসে ইউরোজোনের সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি 3.8%-এ পৌঁছেছে, যেখানে মূল মূল্যস্ফীতি ছিল 2.5%। এটি ইঙ্গিত দেয় যে, যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় ইউরোজোনে জ্বালানি সংকটের প্রভাব অন্যান্য পণ্য ও পরিষেবার ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত সীমিত পর্যায়ে রয়েছে। একই সময়ে, ZEW থেকে প্রকাশিত সূচক এবং অক্টোবরের পিএমআই সূচকের দুর্বল ফলাফল ইউরোপের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের ভঙ্গুর অবস্থাকে পুনরায় সামনে নিয়ে এসেছে। বিশেষ করে, ইউরোজোনের কম্পোজিট পিএমআই কমে 51.9-এ নেমে এসেছে এবং ফ্রান্সের পিএমআই কমে 48.4-এ দাঁড়িয়েছে (যা সংকোচনমূলক পরিস্থিতির নির্দেশক)।
সুতরাং, আমার দৃষ্টিতে, ক্রিস্টিন লাগার্ড একদিকে যেমন সুদের হার আরও বৃদ্ধির পথ খোলা রাখবেন, অন্যদিকে তিনি আসন্ন প্রতিবেদনের ওপর নির্ভরতার (কেবল মুদ্রাস্ফীতির ক্ষেত্রেই নয়) ওপর জোর দেবেন। এটি সর্বজনবিদিত যে, জ্বালানির উচ্চমূল্য একদিকে যেমন পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়, তেমনি চাহিদাও কমিয়ে ফেলে—যা 'স্ট্যাগফ্লেশন' বা স্থবির মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি বৃদ্ধি করে। এই পরিস্থিতির কারণে ফেডারেল রিজার্ভের তুলনায় ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে আরও বেশি সতর্ক অবস্থান প্রয়োজন—যার প্রভাব EUR/USD পেয়ারের এক্সচেঞ্জ রেটের ওপরও পড়বে।
জিডিপি এবং কোর পিসিই সূচকচলতি সপ্তাহে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদন হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোজোনের তৃতীয় প্রান্তিকের জিডিপির প্রাথমিক পরিসংখ্যানকে বিবেচনা করা হচ্ছে।
ইউরোজোনের জিডিপির প্রাথমিক পরিসংখ্যান ৩০ অক্টোবর প্রকাশিত হবে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, তৃতীয় প্রান্তিকে এই অঞ্চলের অর্থনীতি আগের প্রান্তিকের তুলনায় মাত্র 0.2% প্রবৃদ্ধি প্রদর্শন করতে পারে। আমার ধারণা, প্রকৃত ফলাফল এই পূর্বাভাসের কাছাকাছিই থাকবে; তবে ফ্রান্সের নাজুক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে প্রবৃদ্ধির গতি আরও মন্থর হওয়ার ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জিডিপি সংক্রান্ত প্রতিবেদন একদিন আগে, অর্থাৎ ২৯ অক্টোবর প্রকাশিত হবে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগের প্রান্তিকের 2.2%-এর তুলনায় মার্কিন জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার বেড়ে 3.0%-এ (বার্ষিক ভিত্তিতে) পৌঁছাতে পারে। বিশ্লেষকদের প্রাক্কলনের মধ্যে কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে—যেমন, ইউ.এস. ব্যাংকের অর্থনীতিবিদরা 3.3% প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছেন, যেখানে কন্টিনিউয়াম ইকোনমিক্সের প্রত্যাশা কিছুটা কম, যা 2.8% হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আমার দৃষ্টিতে, মার্কিন জিডিপি 3% অতিক্রম করার সম্ভাবনাই বেশি। এই দৃষ্টিভঙ্গির প্রধান যুক্তি হল ভোক্তা চাহিদার স্থিতিশীলতা (উদাহরণস্বরূপ, আগস্টে ভোক্তা ব্যয় 0.9% বেড়েছে)। বেশীরভাগ বিশ্লেষক আশা করছেন যে ভোক্তাদের প্রকৃত ব্যয় বার্ষিক ভিত্তিতে বৃদ্ধি পেয়ে 3.4%-এ পৌঁছাবে। এদিকে মার্কিন অর্থনীতি এআইভিত্তিক অবকাঠামোগত বিনিয়োগ থেকে বাড়তি সহায়তা পাচ্ছে। তবে এর একটি বিপরীত দিকও রয়েছে যা সামগ্রিক প্রবৃদ্ধির হারে প্রভাব ফেলতে পারে: প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের একটি বড় অংশ বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়, যা আমদানি ব্যয় বাড়িয়ে দেয় এবং জিডিপিতে নিট রপ্তানির অবদানকে কমিয়ে ফেলে। সুতরাং, শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ চাহিদা থাকলেই যে সামগ্রিক জিডিপি প্রবৃদ্ধির পরিসংখ্যানও সমানভাবে চিত্তাকর্ষক হবে—এমনটি নিশ্চিত নয়। তবুও, অভ্যন্তরীণ চাহিদা যদি শক্তিশালী থাকে, তবে বিনিয়োগকারীরা হয়তো সেই বিষয়ের ওপরই বেশি গুরুত্ব দেবে এবং সামগ্রিক পরিসংখ্যান কিছুটা দুর্বল হলেও তা মেনে নিতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে জিডিপি প্রতিবেদনের পাশাপাশি সেপ্টেম্বর মাসের কোর পিসিই সূচক প্রকাশিত হবে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই মূল্যস্ফীতি পরিমাপক সূচকটি আগস্ট মাসের 3.0% থেকে বেড়ে 3.1%-এ (বার্ষিক ভিত্তিতে) পৌঁছাতে পারে। এছাড়া মাসিক ভিত্তিতেও কোর পিসিই সূচকটি 0.2% থেকে বেড়ে 0.3%-এ উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর অর্থ হলো, জিডিপি প্রতিবেদনের শক্তিশালী ফলাফলের পাশাপাশি এই সূচকের ইতিবাচক ফলাফল প্রকাশিত হলে তা ফেডারেল রিজার্ভের আর্থিক নীতিমালা আরও কঠোর করার পক্ষে বাড়তি যুক্তি হিসেবে কাজ করতে পারে।
কিছু সম্ভাবনা ইতোমধ্যেই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে কোর পিসিই সূচক ত্বরান্বিত হতে পারে। প্রথমত, কোর সিপিআই বৃদ্ধি পেয়েছে এবং পিপিআই প্রতিবেদনে বিমান পরিবহন পরিষেবার মূল্য বেড়েছে—উল্লেখ্য যে, পিপিআই-এর কিছু উপাদান পিসিই সূচকের উপর প্রভাব ফেলে। এছাড়া, ক্লিভল্যান্ড ফেডের মডেল অনুযায়ী, কোর পিসিই মাসিক ভিত্তিতে প্রায় 0.28% বাড়তে পারে, যা দশমিকের পর পূর্ণসংখ্যায় হিসাব করলে 0.3%-এর পূর্বাভাসকেই নির্দেশ করে। একই সময়ে, চিকিৎসা ও বিমা সংক্রান্ত কিছু উপাদানের ধীরগতি সামগ্রিক ফলাফলকে সীমিত পর্যায়ে রাখতে পারে। সুতরাং, সবচেয়ে সম্ভাব্য পরিস্থিতি হিসেবে কোর পিসিই সূচকের পরিমিত (সর্বসম্মত পূর্বাভাস অনুযায়ী) বৃদ্ধিরই প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
মার্কিন ডলারের জন্য এমন ফলাফল এখনও অনুকূলই হবে—বিশেষ করে ডিসেম্বরে অনুষ্ঠেয় ফেডারেল রিজার্ভের বৈঠকের প্রেক্ষাপটে। এই প্রতিবেদনটি অক্টোবরের বৈঠকের পর প্রকাশের কথা থাকলেও, এটি মুদ্রানীতির ক্ষেত্রে ফেডের হকিশ বা কঠোর অবস্থানকে আরও জোরালো করতে পারে এবং বছরের শেষ নাগাদ সুদের হার বৃদ্ধির প্রত্যাশাকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। সূচকটির ফলাফল পূর্বাভাস গেলে এই বিষয়টি নিশ্চিত হবে যে জ্বালানি খাতের বাইরেও মূল্যস্ফীতির চাপ অব্যাহত রয়েছে।
অন্যান্য সামষ্টিক প্রতিবেদনঅন্যান্য সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদনগুলোও সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে। সোমবার প্রকাশিতব্য IFO সূচকটি 89.9 থেকে বেড়ে 90.1-এ পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে; সূচকটির প্রত্যাশা ও বর্তমান পরিস্থিতি সংক্রান্ত উপাত্তগুলো জার্মান ব্যবসার টিকে থাকার সক্ষমতা মূল্যায়নে সহায়তা করবে। শুক্রবার, জার্মানির HICP সূচকটি 3.3% থেকে কমে 3.1%-এ নেমে আসবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এটি ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পূর্বঘোষিত সংকেতগুলোর প্রেক্ষাপটে ইউরোজোনের মুদ্রাস্ফীতি সংক্রান্ত ঝুঁকিগুলোকে আরও স্পষ্টভাবে বুঝতে সাহায্য করবে।
মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রে 'কনফারেন্স বোর্ড কনজিউমার কনফিডেন্স ইনডেক্স' (ভোক্তা আস্থা সূচক) প্রকাশিত হবে; সূচকটি 81.9 থেকে কমে 81.5-এ নেমে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই সূচকটি আমেরিকান ভোক্তাদের মনোভাব এবং তাদের ব্যয়ের আগ্রহ সম্পর্কে ধারণা দেবে। একই দিনে ডিউরেবল গুডস অর্ডার সংক্রান্ত প্রতিবেদনও প্রকাশিত হবে। আগের মাসে 0.2% দুর্বল প্রবৃদ্ধির পর, এবার এটি 0.7% বাড়তে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে পরিবহন খাত বহির্ভূত উপাদানগুলোর দিকে নজর রাখা প্রয়োজন, যা বিনিয়োগ চাহিদার সক্ষমতা বা সহনশীলতা মূল্যায়নে সহায়তা করবে।
উপসংহারগত তিন সপ্তাহ ধরে EUR/USD পেয়ারের মূল্য মূলত 1.1180–1.1250 রেঞ্জের মধ্যে অবস্থান করছে। আগামী পাঁচ দিনে এই পেয়ারের মূল্য এই রেঞ্জ ব্রেক করে বের হয়ে যাবে সেই সম্ভাবনা রয়েছে। আমার মতে, এই রেঞ্জ ব্রেকআউট করে নিম্নমুখী হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। ফেডারেল রিজার্ভ হকিশ বা কঠোর অবস্থান বজায় রেখে সুদের হার অপরিবর্তিত রাখলে, সেইসাথে মার্কিন অর্থনীতির ইতিবাচক পরিস্থিতি এবং কোর পিসিই সূচকের ঊর্ধ্বগতি পরিলক্ষিত হলে তা মার্কিন ডলারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা জোগাতে পারে—বিশেষ করে যখন ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক তুলনামূলক সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। যদি এমনটি ঘটে, তবে এই কারেন্সি পেয়ারের মূল্য নিশ্চিতভাবেই 1.1180-এর নিচে নেমে আসবে। সেক্ষেত্রে, এই পেয়ারের দরপতনের পরবর্তী লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে 1.1130 (মাসিক চার্টে কিজুন-সেন লাইন) এবং পরবর্তীতে 1.1050 (একই টাইমফ্রেমে বলিঙ্গার ব্যান্ডের লোয়ার বাউন্ডারি) লেভেল বিবেচনা করা যায়।