শুক্রবার EUR/USD কারেন্সি পেয়ারের মূল্য গত এক সপ্তাহ ধরে গঠিত একটি সাইডওয়েজ চ্যানেলের মধ্যে অত্যন্ত স্বল্প মাত্রার অস্থিরতার সাথে ওঠানামা করেছে। এক ঘণ্টার টাইমফ্রেমে, এই পেয়ারের মূল্য স্পষ্টভাবে 1.1187 থেকে 1.1260-এর রেঞ্জের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। অর্থাৎ, পুরো সপ্তাহজুড়েই মার্কেটে ফ্ল্যাট রেঞ্জভিত্তিক মুভমেন্ট পরিলক্ষিত হয়েছে। শুক্রবারের অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সামষ্টিক প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়া সত্ত্বেও পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি। জার্মানি, ইউরোজোন এবং যুক্তরাষ্ট্রের পিএমআই সূচক প্রকাশিত হলেও, দিনজুড়ে এই কারেন্সি পেয়ারের মূল্যের মাত্র 40 পিপস অস্থিরতা পরিলক্ষিত হয়েছে। জার্মানি ও ইউরোজোনের পিএমআই সূচকগুলো পূর্বাভাসের চেয়ে কম হলেও 50.0-এর উপরে ছিল, যা নির্দেশ করে যে অর্থনৈতিক কার্যক্রম এখনও সম্প্রসারণশীল পর্যায়ে রয়েছে। ফলে, ইউরোর খুবই সামান্য দরপতন হয়েছে। প্রত্যাশা অনুযায়ী, ট্রেডাররা মার্কিন পিএমআই সূচকগুলোর প্রতি গুরুত্ব দেয়নি। সুতরাং, টানা এক মাস দরপতনের পরও ইউরোর মূল্য কোনো উল্লেখযোগ্য পুনরুদ্ধার বা কারেকশন প্রদর্শন করতে পারেনি। অন্তত টেকনিক্যাল বিশ্লেষণ অনুযায়ী এই পেয়ারের মূল্যের বুলিশ বা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার ইঙ্গিত থাকা সত্ত্বেও, ট্রেডাররা এখনও ইউরো থেকে দূরে দূরেই থাকছে।
EUR/USD পেয়ারের 5M চার্টশুক্রবার 5-মিনিটের টাইমফ্রেমে, কোনো ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়নি। এই কারেন্সি পেয়ারের মূল্য মূলত 1.1198–1.1218 রেঞ্জের মধ্যে ওঠানামা করেছে এবং স্পষ্টভাবেই এই রেঞ্জ থেকে বেরিয়ে আসতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে, কোনো পজিশন ওপেন করার মতো যথেষ্ট ভিত্তি ছিল না।
সোমবার কীভাবে ট্রেডিং করতে হবে:ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে এখনও EUR/USD পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতা বজায় রয়েছে, যা পূর্ণাঙ্গ প্রবণতার রূপ নিয়েছে; তবে এমন কিছু কারণ দেখা যাচ্ছে যা থেকে মনে হতে পারে যে এই প্রবণতাটি হয়তো সমাপ্তির পথে এগোচ্ছে। গত কয়েক মাসের সার্বিক প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, টানা এক মাস ধরে এভাবে ইউরোর দরপতন হওয়ার কথা ছিল না। বর্তমানে মার্কিন ডলার ওভারবট কন্ডিশনে রয়েছে বলে মনে হচ্ছে এবং ইউরোর পক্ষে বিদ্যমান অনেক ইতিবাচক মৌলিক বিষয়কে উপেক্ষা করা হয়েছে।
সোমবার, এই পেয়ারের মূল্য 1.1198–1.1218 এরিয়ার নিচে স্থিতিশীল হলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.1132–1.1140-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। এই পেয়ারের মূল্য 1.1198–1.1218 এরিয়ার উপর পৌঁছালে লং পজিশন ওপেন করা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.1267–1.1275-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
5-মিনিটের টাইমফ্রেমে, ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা উচিত: 1.1011, 1.1088, 1.1132–1.1140, 1.1198–1.1218, 1.1267–1.1275, 1.1366–1.1377, 1.1461–1.1474, 1.1527–1.1531, 1.1584–1.1594, 1.1655–1.1665। সোমবার ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা যুক্তরাষ্ট্রে কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে না বা কোনো ইভেন্টও নির্ধারিত নেই; কেবল জার্মানিতে বিজনেস ক্লাইমেট সংক্রান্ত সূচক প্রকাশের কথা রয়েছে, তবে ট্রেডাররা সম্ভবত এই সূচকের দিকে তেমনভাবে দৃষ্টিপাত করবে না। ফলে আজ আবারও এই কারেন্সি পেয়ারের মূল্যের স্বল্প মাত্রার অস্থিরতা দেখা যেতে পারে।
ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:সিগনালের শক্তি: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।চার্টে কী কী রয়েছে:সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।