logo

FX.co ★ তেল বাজারের খবর: পণ্যের দাম বাড়ছে, এবং নিষেধাজ্ঞা এখনও বিশ্বাসযোগ্য নয়

তেল বাজারের খবর: পণ্যের দাম বাড়ছে, এবং নিষেধাজ্ঞা এখনও বিশ্বাসযোগ্য নয়

তেল বাজারের খবর: পণ্যের দাম বাড়ছে, এবং নিষেধাজ্ঞা এখনও বিশ্বাসযোগ্য নয়

প্রধান বিশ্ব মুদ্রার বিপরীতে মার্কিন ডলারের দুর্বলতা, বিশ্বের বৃহত্তম তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর দাম বৃদ্ধি এবং পেট্রোলিয়াম পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধির প্রত্যাশার মধ্যে সোমবার তেলের দাম বেড়েছে।

ব্রেন্ট তেলের আগস্ট ফিউচারের দাম ব্যারেল প্রতি 0.6% বেড়ে $120.44 হয়েছে। ডব্লিউটিআই এর জুলাই ফিউচার 0.63% বেড়ে $119.62 হয়েছে। ডব্লিউটিআই তেল ব্যারেল প্রতি 118.38 ডলারে ব্যবসা করেছে।

ডলারের বিনিময় হার জাপানি ইয়েনের বিপরীতে 0.17% এবং ইউরোর বিপরীতে 0.1% কমেছে। ইউরোপীয় অধিবেশন চলাকালীন ছয়টি প্রধান মুদ্রার বিপরীতে ডলার সূচক 0.24% কমে 101.89 পয়েন্টে নেমেছে।

ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই সপ্তাহে মিলিত হবে, এবং ফলাফল বৃহস্পতিবার ঘোষণা করা হবে। বিশ্লেষকরা ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতির কারণে ইউরো এলাকায় কঠোর মুদ্রানীতির ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন, যার অর্থ ইউরো আরও শক্তিশালী হবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মে মাসের বার্ষিক মুদ্রাস্ফীতির পরিসংখ্যান ডলারের গতিশীলতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করতে পারে, যার তথ্য এই শুক্রবার প্রকাশিত হবে।ইতোমধ্যে, বিশ্লেষকরা আশা করছেন বর্তমান সূচক এপ্রিলের স্তরে অর্থাৎ 8.3% থাকবে। ডলার একটি দুর্বল অবস্থানে ছিল, যা পণ্যের চাহিদাকে সমর্থন করে, কারণ তারা অন্যান্য মুদ্রার ধারকদের কাছে আরও সহজলভ্য হয়ে ওঠে।

একই সময়ে, সৌদি আরবের তেল ও গ্যাস কোম্পানি সৌদি আরামকো এশিয়ার জন্য জুলাইয়ের তেলের বিক্রির দাম $2.1 বাড়িয়েছে। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, মূল্যের এই ধরনের বৃদ্ধি আশ্চর্যজনক ছিল, কারণ বিশেষজ্ঞরা $1.5 মূল্য বৃদ্ধির আশা করেছিলেন।

চাহিদার দিক থেকে, বাজার গ্রীষ্ম মৌসুম কাছে আসার সাথে সাথে জ্বালানী খরচে একটি তীব্র পুনরুদ্ধার আশা করছে, কারণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপে গাড়ির ভ্রমণ যথেষ্ট পরিমাণে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশ্বের বৃহত্তম পেট্রোলিয়াম পণ্যের ভোক্তা চীনে, ভাইরাসের বিধিনিষেধগুলি অবশেষে শিথিল হয়ে যাচ্ছে, যা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত করেছে এবং তেলের বৈশ্বিক চাহিদার সামগ্রিক চিত্রকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করেছে।

গত সপ্তাহের শুরুতে রাশিয়ার তেল সরবরাহে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। পরিকল্পনা অনুসারে, বুলগেরিয়া বাদে ছয় মাসের মধ্যে ইইউ দেশগুলি ট্যাঙ্কার দ্বারা রাশিয়ান তেলের আমদানি বন্ধ করতে চলেছে এবং আট মাসের মধ্যে তারা তেল পণ্য গ্রহণও বন্ধ করবে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে, স্পষ্টভাবেই এই নিষেধাজ্ঞা খুব একটা বিশ্বাসযোগ্য নয়। প্রথমত, এমনকি নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও, রাশিয়া এখনও তার তেল রপ্তানি থেকে বেশ ভাল অর্থ উপার্জন করতে সক্ষম হবে। দ্বিতীয়ত, শুধুমাত্র সমুদ্র পরিবহন নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়ে; পাইপলাইনের মাধ্যমে কিছু ইউরোপীয় দেশে তেল সরবরাহ অব্যাহত থাকবে। রাশিয়ান ফেডারেশন থেকে তেল সরবরাহের উপর নিষেধাজ্ঞা ইউরোপীয় ইউনিয়নে রাশিয়ান তেল রপ্তানির দুই-তৃতীয়াংশকে প্রভাবিত করবে। একই সময়ে, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রধান, চার্লস মিশেল, উল্লেখ করেছেন যে এই বছরের শেষ নাগাদ, ইইউ রাশিয়ান শক্তির কাঁচামালের সরবরাহ 90% কমাতে চায়।

ব্লুমবার্গের মতে, ২০২২ সালে রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের আয় প্রায় 285 বিলিয়ন ডলার হবে এবং এটি ইতিমধ্যে ইউরোপীয় নিষেধাজ্ঞাকে বিবেচনায় নিয়েই হিসেব করেছে। চলতি বছরের আয় গত বছরের আয়ের তুলনায় এক-পঞ্চমাংশ বেশি হবে, এবং অন্যান্য কাঁচামাল রপ্তানি বিবেচনা করলে, তা $300 বিলিয়ন রিজার্ভের জন্য ক্ষতিপূরণ হিসেবে কাজ করতে পারে যা নিষেধাজ্ঞার কারণে পশ্চিম ইউরোপীয় ব্যাংকগুলো হিমায়িত করেছিল৷

সম্ভবত ইউরোপীয় ইউনিয়নের কর্মকর্তারা তাদের উদ্ভাবিত পদক্ষেপের সীমিত সম্ভাবনা সম্পর্কে সচেতন, তাই তারা নতুন সমাধানের সন্ধান করছেন যা রাশিয়া থেকে যে কোনও কাঁচামাল রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করবে সেইসব দেশগুলিতে যারা রাশিয়া বিরোধী নিষেধাজ্ঞায় যোগদান করার সিদ্ধান্তএখনও নেয়নি। উদাহরণস্বরূপ, ইইউ রাশিয়ার পতাকা ওড়ানো জাহাজের বীমা নিষিদ্ধ করতে বদ্ধপরিকর। যাইহোক, এই পদক্ষেপের করণে অন্যান্য দেশে তেল রপ্তানি বাধাগ্রস্ত করার ঝুঁকি রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন অংশে রাশিয়ান তেল পরিবহনকারী ট্যাঙ্কারের ক্ষেত্রেও বীমার নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হতে পারে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের মতে, কিছু ওপেক সদস্য দেশ রাশিয়াকে ওপেক + চুক্তিতে জড়িত সদস্যদের তালিকা থেকে সরিয়ে দেওয়ার কথা বিবেচনা করছে। ইইউ কর্মকর্তারা ব্যাখ্যা করেছেন যে ইউরোপীয় নিষেধাজ্ঞা এবং নিষেধাজ্ঞার অন্যান্য ধরন ক্রেমলিনের তেল উৎপাদনের ক্ষমতাকে আরও সীমিত করে।
রাশিয়ান কাঁচামালের উপর একটি নিঃশর্ত এবং সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা গ্রহণের উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পশ্চাদপসরণে হাঙ্গেরি প্রধান সুবিধাভোগী হয়ে উঠেছে। প্রায় এক মাস ধরে চলা ইউরোপীয় আলোচনা হাঙ্গেরির মরিয়া অবস্থানের কারণে হোঁচট খায়। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ইউরোপীয় ইউনিয়নের জন্য ইস্যুটির মাসিক খরচ কয়েক বিলিয়ন ডলার অনুমান করেছে।

ফলস্বরূপ, হাঙ্গেরিয়ান অর্থনীতির সুবিধার জন্য, যা এখনও পর্যন্ত রাশিয়ান সরবরাহ প্রত্যাখ্যান করতে রাজি নয়, একটি অস্থায়ী ব্যতিক্রম করা হয়েছে। রাশিয়ান তেল সরবরাহের উপর নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা সত্ত্বেও, এই কাঁচামাল হাঙ্গেরিতে সরবরাহ করা হবে সরবরাহের প্রধান উৎস - দ্রুজবা পাইপলাইনের মাধ্যমে।

যদি হাঙ্গেরির এই ছাড়ের ব্যতিক্রম না ঘটত এবং দ্রুজবা তেলের পাইপলাইন স্থগিত করা হত, তবে এটি তেল এবং পেট্রোলিয়াম পণ্যের দামে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি ঘটাত, পেট্রোলের দামে তীব্র লাফ দেখা যেত, যা শুধুমাত্র হাঙ্গেরিতে নয়, অন্যান্য পূর্ব ইউরোপীয় দেশগুলিরও ক্রয় ক্ষমতা ব্যাপকভাবে হ্রাস করত। । এর আগে, হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান বলেছিলেন যে রাশিয়ান সরবরাহ থেকে সম্পূর্ণ স্বাধীন হতে তার দেশের কমপক্ষে পাঁচ বছর প্রয়োজন।

দ্রুজবা তেল পাইপলাইনটি কেবল হাঙ্গেরির জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নয়, এটি চেক প্রজাতন্ত্র এবং স্লোভাকিয়াতেও রাশিয়ান তেল সরবরাহ করে, অর্থাৎ সেই দেশগুলিতে যাদের সমুদ্রে নিজস্ব অ্যাক্সেস নেই। অন্যদিকে, জার্মানি এবং পোল্যান্ড এই পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহ করতে অস্বীকার করেছে।

এই ধরনের বিধিনিষেধের মুখে, রাশিয়া নিজেকে এশিয়ার দিকে ঘুরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে। এইভাবে, মার্চ মাস থেকে ভারত রাশিয়ার তেল কিনছে, যা ইউরোপে সোচ্চারভাবে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। অধিকন্তু, ভারত ভবিষ্যতে রাশিয়ার কাঁচামাল আমদানি দ্বিগুণ করতে চায়। আজ পর্যন্ত, নতুন করে একটি ছয় মাসের চুক্তি স্বাক্ষর এবং বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে যৌথভাবে কাজ চলছে। ভারতীয় কোম্পানিগুলো রাশিয়া থেকে তেল পেতে চায় এমন একটি সিস্টেমের অধীনে যেখানে রজনেফট স্বাধীনভাবে পণ্য পরিবহন এবং বীমার সাথে লেনদেন করবে এবং ভারতীয় ব্যাংকগুলো এই সরবরাহের জন্য অর্থায়ন করবে।

ব্লুমবার্গের মতে, ভারতীয় ক্রেতাদের মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন, হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম, ভারত পেট্রোলিয়াম, পাশাপাশি বেসরকারি রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ এবং নায়ারা এনার্জি। সংস্থার মতে, আড়াই মাসে ভারতীয় কোম্পানিগুলো রাশিয়া থেকে 40 মিলিয়ন ব্যারেল তেল আমদানি করতে পেরেছে। ফলস্বরূপ, ভারতে রাশিয়ান তেল আমদানির মোট পরিমাণ ইতিমধ্যেই গত বছরের তুলনায় 20% বৃদ্ধি পেয়েছে।

নিরপেক্ষভাবে, এটি লক্ষ্যণীয় যে রাশিয়ান তেল সরবরাহের উপর নিষেধাজ্ঞা ইউরোপীয় ব্লকের উপরই কঠোরভাবে আঘাত করছে, যেখানে সাম্প্রতিক মাসগুলিতে মুদ্রাস্ফীতি ত্বরান্বিত গতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই পটভূমির বিপরীতে, ইউরো ব্লকের দেশগুলি বিকল্প সরবরাহকারীদের সাথে চুক্তির আনুষ্ঠানিকতার জন্য ছুটে আসছে এবং বাইডেন প্রশাসন ভেনিজুয়েলার তেলকে ইইউতে সরবরাহের ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়ার অনুমতি দিয়েছে। এবং আগামী মাস থেকে, ইতালীয় তেল কোম্পানি এনি এসপিএ এবং স্প্যানিশ রেপসল এসএ ভেনেজুয়েলার কাঁচামাল আমদানি শুরু করবে। এই তেলের পরিমাণ হবে অত্যন্ত কম, তাই বৈশ্বিক মূল্যের উপর এর প্রভাব খুব একটা তাৎপর্যপূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা নেই।তেল বাজারের খবর: পণ্যের দাম বাড়ছে, এবং নিষেধাজ্ঞা এখনও বিশ্বাসযোগ্য নয়

* এখানে পোস্ট করা মার্কেট বিশ্লেষণ মানে আপনার সচেতনতা বৃদ্ধি করা, কিন্তু একটি ট্রেড করার নির্দেশনা প্রদান করা নয়
Go to the articles list Go to this author's articles Open trading account