logo

FX.co ★ ডলার তীব্র দরপতনের শিকার হয়েছে — কিন্তু কেন?

ডলার তীব্র দরপতনের শিকার হয়েছে — কিন্তু কেন?

গতকাল মার্কিন ডলার সপ্তাহের শুরুতে অর্জিত সকল বৃদ্ধি সাময়িকভাবে হারিয়ে ফেলে। এই দরপতনের পেছনে মূল কারণ হলো ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদন খাতে কার্যক্রম ২০২৪ সালের পর সবচেয়ে দ্রুত হারে সংকুচিত হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের শিল্প খাতের জন্য একটি চ্যালেঞ্জিং বছরের ইঙ্গিত দেয়।

ডলার তীব্র দরপতনের শিকার হয়েছে — কিন্তু কেন?

সোমবার প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ইনস্টিটিউট ফর সাপ্লাই ম্যানেজমেন্ট (ISM)–এর ম্যানুফ্যাকচারিং PMI সূচক 48.2 থেকে নেমে 47.9–এ এসে দাঁড়িয়েছে। এই সূচকটি দশ মাস ধরে ৫০ পয়েন্টের নিচে অবস্থান করছে, যা উৎপাদনের খাতের মন্থরতার ইঙ্গিত দেয়। সূচকটির এই হ্রাস মার্কিন শিল্প খাতের সামনে বিদ্যমান ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জগুলোকেই প্রতিফলিত করে—যেমন, দুর্বল চাহিদা, বাড়তি মজুদ এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চলমান অনিশ্চয়তা।

বর্তমান পরিস্থিতি মহামারি পরবর্তী দ্রুতগতির প্রবৃদ্ধির সময়ের তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন। সে সময় শিল্পখাত ভোক্তাদের ঊর্ধ্বমুখী চাহিদা সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছিল। কিন্তু এখন, ভোক্তারা পণ্যে কম ব্যয় করে পরিষেবার উপর আরো বেশি মনোযোগ দিচ্ছে, এবং উচ্চ সুদের হার ও মূল্যস্ফীতি ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতাকে সীমিত করছে।

উৎপাদন খাতে মন্দার এই চিত্র ফেডারেল রিজার্ভের উপর চাপ সৃষ্টি করছে। অর্থনৈতিক প্রতিবেদনের এতটা দুর্বল ফলকাফল প্রেক্ষিতে, ফেড সুদের হার সংক্রান্ত কৌশল পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য হতে পারে, যাতে অর্থনীতিকে খুব বেশি শৃঙ্খলিত না করা হয়।

উল্লেখযোগ্য যে, কাঁচামালের উচ্চ মূল্য বজায় থাকায় নতুন অর্ডার টানা চতুর্থ মাসের মতো কমেছে। রপ্তানির অর্ডারও তুলনামূলকভাবে দুর্বল পর্যায়ে রয়েছে।

তবে প্রতিবেদনের একটি আশাব্যঞ্জক দিক হলো: অক্টোবর ২০২২ সালের পর গ্রাহকদের মজুদের সবচেয়ে দ্রুত হ্রাস ঘটেছে, যা ইঙ্গিত দেয় যে আগামী মাসগুলোতে কারখানার অর্ডার এবং উৎপাদন কিছুটা স্থিতিশীল হতে পারে।

তবে, আমদানি-রপ্তানি নীতিমালায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কিছু পরিবর্তনের ফলে শুল্কসহ নানা স্থায়ী অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যা ব্যবসা সম্প্রসারণের পরিকল্পনায় নিয়োজিত অনেক কোম্পানির জন্য একটি প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

ISM থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনব অনুযায়ী, ডিসেম্বর মাসে মোট ১৫টি খাতে সংকোচন দেখা গেছে, যার মধ্যে অ্যাপারেল, জ্বালানি প্রক্রিয়াকরণ ও টেক্সটাইল খাত সবচেয়ে বিপর্যস্ত। মাত্র দুটি খাতে সামান্য প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে, যা ২০২৩ সালের শেষ প্রান্তিকের পর সর্বনিম্ন।

উপরে উল্লেখিত কারণগুলো মার্কিন ডলারের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, যার ফলে ইউরো এবং পাউন্ডের বিপরীতে ডলারের দরপতন হয়।

EUR/USD পেয়ারের টেকনিক্যাল প্রেক্ষাপট

এই পেয়ারের ক্রেতাদের এখন মূল্যকে 1.1750 লেভেলের দিকে নিয়ে যাওয়ার উচিত। এই লেভেলে যাওয়ার পরই এই পেয়ারের মূল্যের 1.1780–এ পৌঁছানোর সম্ভাবনা উন্মুক্ত হতে পারে। এরপরের লক্ষ্যমাত্রা হবে 1.1810, যদিও মার্কেটের বড় ট্রেডারদের সহায়তা ছাড়া সেখানে পৌঁছানো মূল্যের পক্ষে কঠিন হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে 1.1840 লেভেল বিবেচনা করা যেতে পারে। যদি এই ইন্সট্রুমেন্টটির মূল্য 1.1715 রেঞ্জে নেমে আসে, তাহলে মার্কেটের বড় ক্রেতারা পক্ষ সক্রিয় হতে পারে। যদি এই পেয়ারের মূল্য সেই লেভেলে থাকা অবস্থায় ক্রেতারা বেশি সক্রিয় না হয়, তাহলে পুনরায় 1.1685 পর্যন্ত দরপতনের অপেক্ষা করাই যুক্তিযুক্ত হবে অথবা 1.1660 থেকে লং পজিশন ওপেন করা যেতে পারে।

GBP/USD পেয়ারের টেকনিক্যাল প্রেক্ষাপট

পাউন্ডের ক্রেতাদের জন্য তাত্ক্ষণিক লক্ষ্য হবে এই পেয়ারের মূল্যের নিকটতম রেজিস্ট্যান্স লেভেল 1.3560 ব্রেক করানো। এই লেভেল অতিক্রমের পরই 1.3590–এর দিকে যাওয়ার সুযোগ আসবে, যদিও এ লেভেলের উপরে গিয়ে আরও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় রাখা বেশ চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে 1.3625 লেভেল বিবেচনা করা যেতে পারে। এই পেয়ারের মূল্য হ্রাস পেলে মূল্য 1.3530 লেভেলে থাকা অবস্থায় বিক্রেতারা মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করবে। যদি তারা সফল হয় এবং এই রেঞ্জ ব্রেক করে মূল্য নিম্নমুখী হয়, তাহলে সেটি ক্রেতাদের জন্য ধাক্কা হতে পারে, এবং GBP/USD পেয়ারের মূল্য কমে 1.3500 এবং পরবর্তীতে 1.3470–তে পৌঁছাতে পারে।

* এখানে পোস্ট করা মার্কেট বিশ্লেষণ মানে আপনার সচেতনতা বৃদ্ধি করা, কিন্তু একটি ট্রেড করার নির্দেশনা প্রদান করা নয়
Go to the articles list Go to this author's articles Open trading account