বৃহস্পতিবারের ট্রেডিংয়ের পর্যালোচনা
GBP/USD পেয়ারের 1-ঘন্টার চার্ট

বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী GBP/USD পেয়ারের মূল্যের খুবই সীমিত মাত্রার অস্থিরতা এবং ডাউনওয়ার্ড চ্যানেলের ভেতরে ট্রেড করেছে। তবে, এটি বলা যাবে না যে, এখন পাউন্ডের মূল্যের কোনো শক্তিশালী নিম্নমুখী প্রবণতা বিরাজ করছে—এমনকি ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমেও নয়। বর্তমানে কোনো ডাউনওয়ার্ড ট্রেন্ডলাইন সক্রিয় নেই এবং ব্রিটিশ পাউন্ড মাত্র তিনদিন ধরে কিছুটা দরপতনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই দরপতনের পেছনে যথাযথ কোনো টেকনিক্যাল বা মৌলিক ব্যাখ্যা পাওয়া কঠিন।
এই সপ্তাহে যুক্তরাজ্যে উল্লেখযোগ্য কোনো অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে JOLTs এবং ADP থেকে শ্রমবাজার সংক্রান্ত প্রতিবেদন, সেই সঙ্গে ISM পরিষেবা ও উৎপাদন খাতের ব্যবসায়িক কার্যক্রম সূচক প্রকাশিত হয়েছে। এসব প্রতিবেদনকে গুরুত্বপূর্ণ অথবা অপেক্ষাকৃত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে ধরা যায়—অর্থাৎ, যেগুলোর কারণে মার্কেটে কমপক্ষে মধ্যম মাত্রার কোনো প্রতিক্রিয়া হওয়া স্বাভাবিক ব্যাপারে। বাস্তবে দেখা গেছে, চারটি প্রতিবেদনের মধ্যে তিনটি প্রতিবেদনের ফলাফলই মার্কিন ডলারের জন্য নেতিবাচক ছিল, কারণ সেগুলোর ফলাফল পূর্বাভাসের তুলনায় নেতিবাচক ছিল। তবুও, মার্কিন ডলারের দর টানা তিনদিন ধরে বৃদ্ধি পাচ্ছে, মূলত সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষিত হচ্ছে। আজ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে শ্রমবাজার সংক্রান্ত আরও একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে, তবে বর্তমানে অস্থিরতার মাত্রা এতটাই কম যে, আজও কোনো গুরুত্বপূর্ণ মুভমেন্ট ঘটবে, সেটা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলা যাচ্ছে না।
GBP/USD পেয়ারের 5M চার্ট

৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে, বৃহস্পতিবার একাধিক ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়েছিল। তবে এইসব সিগন্যাল কোনো শক্তিশালী প্রবণতাভিত্তিক মুভমেন্ট বা উচ্চমাত্রার অস্থিরতার কারণে গঠিত হয়নি। বরং, এই পেয়ারের মূল্য 1.3437–1.3446 লেভেলে পৌঁছানোর পর দীর্ঘ সময় ধরে সাইডওয়েজ রেঞ্জের মধ্যে মুভমেন্ট হওয়ার ফলেই এই সিগন্যালগুলো গঠিত হয়েছিল। সবগুলো সিগন্যালই সেল সিগন্যাল ছিল, যার অর্থ, নতুন ট্রেডাররা বৃহস্পতিবার শর্ট পজিশন ওপেন করতে পেরেছেন। যেহেতু এই সেল সিগন্যালগুলো এখনো বাতিল হয়ে যায়নি, তাই শুক্রবার শর্ট পজিশন ওপেন করার সুযোগ রয়েছে।
শুক্রবার কীভাবে ট্রেডিং করতে হবে
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে, GBP/USD পেয়ারের মূল্য ট্রেন্ডলাইনের নিচে কনসোলিডেট করছে। তবে, এখনও এটি কোনো শক্তিশালী নিম্নমুখী প্রবণতায় পরিণত হয়নি। মধ্যমেয়াদে মার্কিন ডলারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার পক্ষে তেমন কোনো মৌলিক ভিত্তি নেই, তাই আমরা কেবলমাত্র এই পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী মুভমেন্টেরই প্রত্যাশা করছি। সামগ্রিকভাবে, আমরা আশাবাদী যে, ২০২৫ সালে পরিলক্ষিত বৈশ্বিক ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা পুনরায় শুরু হবে এবং কয়েক মাসের মধ্যেই GBP/USD পেয়ারের মূল্য 1.4000 লেভেলে পৌঁছাতে পারে।
শুক্রবার, নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারেন—যেখানে মূল্যের 1.3319–1.3331-এর লক্ষ্যমাত্রার দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা নির্ধারণ করা যেতে পারে। যেহেতু বৃহস্পতিবার তিনটি সেল সিগন্যাল গঠিত হয়েছিল, আজও একই ধরনের আরও কিছু সিগন্যাল গঠিত হতে পারে। অন্যদিকে, যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.3437–1.3446 লেভেলের উপরে কনসোলিডেট করে, তাহলে লং পজিশন ওপেন করা যৌক্তিক হবে, যেখানে মূল্যের 1.3529-এর লক্ষ্যমাত্রার দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে এখন নিম্নলিখিত লেভেলগুলোতে ট্রেড করা যেতে পারে: 1.3043, 1.3096–1.3107, 1.3203–1.3212, 1.3259–1.3267, 1.3319–1.3331, 1.3437–1.3446, 1.3529–1.3543, 1.3574–1.3590, 1.3643–1.3652, 1.3682, 1.3763।
শুক্রবার, যুক্তরাজ্যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে না। তবে, যুক্তরাষ্ট্রে গুরুত্বপূর্ণ দুইটি প্রতিবেদন—নন-ফার্ম পেরোল ও বেকারত্ব হার—প্রকাশিত হবে। যদিও এগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন, তবু এগুলোর ভিত্তিতে মার্কেটে শক্তিশালী কোনো প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হবে—এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই।
ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী
- সিগনালের শক্তি: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।
- ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।
- ট্রেডিংয়ের সময়সূচী: ইউরোপীয় সেশন শুরু থেকে মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ট্রেড ওপেন করুন এবং এরপর সকল ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করে ফেলুন।
- MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।
- নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।
- স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।
চার্টে কী কী রয়েছে
- সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।
- লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
- MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
