logo

FX.co ★ সুদের হার বর্তমানে গ্রহণযোগ্য পর্যায়ে রয়েছে

সুদের হার বর্তমানে গ্রহণযোগ্য পর্যায়ে রয়েছে

যখন ইউরো ধীরে ধীরে মার্কিন ডলারের বিপরীতে দরপতনের শিকার হচ্ছে, সেই সময় ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের (ইসিবি) ভাইস প্রেসিডেন্ট লুইস ডি গুইন্ডোস বলেছেন যে, বর্তমানে সুদের হার গ্রহণযোগ্য পর্যায়ে রয়েছে—যদিও তিনি একইসঙ্গে ভূ-রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের কারণে উল্লেখযোগ্য অনিশ্চয়তার বিষয়ে সতর্ক করেছেন।

ডি গুইন্ডোস এই বক্তব্য এমন সময় এসেছে যখন ইউরোজোনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। মুদ্রাস্ফীতির হার ইসিবির নির্ধারিত ২%-এর লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছে গেছে, যা ইসিবির জন্য একটি জটিল অবস্থার সৃষ্টি করেছে: একদিকে অর্থনীতির জন্য উদ্দীপনা প্রয়োজন, অন্যদিকে নীতিনির্ধারকরা ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে নীতিগত পদক্ষেপ নেয়ার ব্যাপারে দ্বিধাগ্রস্ত অবস্থায় রয়েছেন।

সুদের হার বর্তমানে গ্রহণযোগ্য পর্যায়ে রয়েছে

ডি গুইন্ডোস যে ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার বিষয়টি তুলে ধরেছেন, সেটিকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। বিশ্বব্যাপী সংঘাত, উত্তেজনা, জ্বালানি ও কাঁচামালের সরবরাহে বিঘ্ন সৃষ্টি এবং বাণিজ্য নীতির পরিবর্তন এসব ইউরোজোনের কয়েকটির অর্থনীতির পূর্বাভাস আরও জটিল করে তুলেছে। সাধারণত, এমন অনিশ্চয়তার সময় বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাসেট এড়িয়ে চলে, যার প্রভাব পড়ে ইউরো থেকে বিনিয়োগ প্রত্যাহারের মাধ্যমে।

যুক্তরাষ্ট্রে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর গ্রেপ্তারের কয়েকদিন পর ডি গুইন্ডোজ মন্তব্য করেন: "এমন কিছু ঘটনা ঘটছে যা কয়েক মাস আগেও কল্পনাও করা যেত না।" তিনি আরও বলেন, "জটিল ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে, ব্যবসায় বিনিয়োগও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।"

ডি গুইন্ডোসের মতে, বাস্তব আয়ে কিছুটা উন্নতি হলেও—মানুষ এখনো ভবিষ্যৎ এবং আর্থিক নীতিমালার বিষয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছে, যার ফলে পরিবারগুলো উচ্চ মাত্রায় সঞ্চয় ধরে রাখছে। তা সত্ত্বেও, তিনি উল্লেখ করেন, ইউক্রেনে চলমান সংকটসহ বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক জটিলতা ইউরোজোনের অর্থনীতিতে এখনও তেমন বড় প্রভাব ফেলেনি।

ডি গুইন্ডোস বলেন, "বর্তমান সুদের হারের স্তর বেশ গ্রহণযোগ্য; সর্বশেষ প্রতিবেদনের ফলাফল আমাদের পূর্বাভাসের সঙ্গে পুরোপুরিভাবে সঙ্গতিপূর্ণ ছিল। সার্বিক মুদ্রাস্ফীতি বর্তমানে ২% এবং পরিষেবা খাতের মূল্যস্ফীতি, যা আমাদের বাড়তি উদ্বেগের কারণ, সেটিও কমছে।"

তিনি আরও যোগ করেন, "যদি প্রেক্ষাপট পরিবর্তিত হয়, আমাদের আর্থিক নীতিমালাও সে অনুযায়ী সমন্বয় করা হবে।"

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বর মাসে ইউরোজোনের মুদ্রাস্ফীতি কমে ইসিবির লক্ষ্যমাত্রা ২%-এ নেমে এসেছে এবং একইসাথে মূল মুদ্রাস্ফীতিও হ্রাস পেয়েছে। জুন মাস থেকে ঋণগ্রহণের খরচে কোনো পরিবর্তন আসেনি এবং বর্তমানে বিনিয়োগকারী ও অর্থনীতিবিদদের মতে অদূর ভবিষ্যতে সুদের হার হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

EUR/USD-এর টেকনিক্যাল পূর্বাভাস:
ক্রেতাদের জন্য প্রাথমিক লক্ষ্য হচ্ছে এই পেয়ারের মূল্যকে 1.1660 লেভেলে নিয়ে যাওয়ার। এই লেভেলটি ব্রেক করতে পারলে এই পেয়ারের মূল্যের 1.1681 লেভেল টেস্ট করার সুযোগ তৈরি হবে। সেখান থেকে এই পেয়ারের মূল্য পরবর্তী লক্ষ্যমাত্রা 1.1705-এর দিকে যেতে পারে, যদিও মার্কেটের বড় ট্রেডারদের সহায়তা ছাড়া এই লেভেল অতিক্রম করা কঠিন হতে পারে। সবচেয়ে দূরবর্তী লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে 1.1725 লেভেল বিবেচনা করা যেতে পারে।

যদি এই পেয়ারের মূল্য হ্রাস পায়, তাহলে মূল্য 1.1641 লেভেলের আশপাশে থাকা অবস্থায় বড় ক্রেতাদের সক্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদি এই লেভেলে ক্রেতারা সক্রিয় না হয়, তাহলে এই পেয়ারের মূল্যের 1.1619 লেভেলে নেমে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করাই ভালো হবে অথবা 1.1591 লেভেল থেকে নতুন করে লং পজিশন ওপেন করা যেতে পারে।

GBP/USD-এর টেকনিক্যাল পূর্বাভাস:
পাউন্ডের ক্রেতাদের জন্য প্রয়োজনীয় প্রথম ধাপ হচ্ছে এই পেয়ারের মূল্যকে 1.3435 লেভেলের রেজিস্ট্যান্স অতিক্রম করানো। কেবলমাত্র এই লেভেল ব্রেক করলে এই পেয়ারের মূল্যের 1.3460-এর লক্ষ্যমাত্রার দিকে যাওয়ার সম্ভব হবে—যা অতিক্রম করে ওপরে যাওয়া কঠিন হবে। সর্বোচ্চ লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে 1.3488 লেভেল বিবেচনা করা যেতে পারে।

অন্যদিকে, যদি এই পেয়ারের মূল্য নিম্নমুখী হয়, তাহলে মূল্য 1.3403 লেভেলে থাকা অবস্থায় বিক্রেতারা সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করবে। যদি তারা সফল হয়, তাহলে এই লেভেল ব্রেক করে মূল্য নিম্নমুখী হলে সেটি বুলিশ পজিশনের জন্য ক্ষতিকর হবে এবং GBP/USD পেয়ারের মূল্য 1.3373 লেভেল পর্যন্ত নেমে যেতে পারে, এবং সেখান থেকে সম্ভাব্য পরবর্তী লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে 1.3341 লেভেল বিবেচনা করা যেতে পারে।

* এখানে পোস্ট করা মার্কেট বিশ্লেষণ মানে আপনার সচেতনতা বৃদ্ধি করা, কিন্তু একটি ট্রেড করার নির্দেশনা প্রদান করা নয়
Go to the articles list Go to this author's articles Open trading account