logo

FX.co ★ মুদ্রাস্ফীতির হার স্থিতিশীল থাকার প্রত্যাশায় সুদের হার অপরিবর্তিত রাখছে ইসিবি

মুদ্রাস্ফীতির হার স্থিতিশীল থাকার প্রত্যাশায় সুদের হার অপরিবর্তিত রাখছে ইসিবি

নভেম্বর মাসে ইউরোজোনে প্রত্যাশিত ভোক্তা মূল্যস্ফীতি হার স্থিতিশীল থাকতে দেখা গেছে, যা ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংককে (ইসিবি) সুদের হার বর্তমান পর্যায়ে অপরিবর্তিত রাখার সুযোগ দিয়েছে।

মুদ্রাস্ফীতির হার স্থিতিশীল থাকার প্রত্যাশায় সুদের হার অপরিবর্তিত রাখছে ইসিবি

ইসিবির মাসিক জরিপ অনুযায়ী—বৃহস্পতিবার প্রকাশিত তথ্যে বিস্তারিতভাবে দেখানো হয়েছে যে, আগামী ১২ মাসে মূল্যস্ফীতির হার ২.৮% পর্যন্ত বাড়বে বলে সাধারণ মানুষ প্রত্যাশা করছে। তিন ও পাঁচ বছর পরবর্তী সময়ের জন্য প্রত্যাশিত হার যথাক্রমে ২.৫% এবং ২.২%-এ অপরিবর্তিত রয়েছে।

স্থবির বা পূর্বনির্ধারিত মুদ্রাস্ফীতির প্রত্যাশা ইসিবির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি সরাসরি ভোক্তার ব্যয় প্রবণতা এবং বিনিয়োগের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে। যখন ভোক্তারা মনে করেন মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে, তখন তারা ভবিষ্যতের তুলনায় বর্তমান সময়েই বেশি খরচ করে—যেটা আবার মূল্যস্ফীতিকে আরও বাড়াতে পারে। অপরদিকে, স্থিতিশীল প্রত্যাশা ইসিবিকে আরও পূর্বাভাসযোগ্য আর্থিক নীতিমালা প্রণয়নেরর সুযোগ দেয়।

তবে ইসিবি স্পষ্ট করেছে যে, তারা মূল্যস্ফীতির হার স্থিতিশীল রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং প্রয়োজনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রস্তুত আছে। আগামী মাসগুলোতে ব্যাংকটি অর্থনৈতিক প্রতিবেদন—বিশেষ করে মুদ্রাস্ফীতি, কর্মসংস্থান এবং প্রবৃদ্ধি সংক্রান্ত সূচকের উপর নিবিড়ভাবে নজর রাখবে, যেন বোঝা যায় আর্থিক নীতিমালায় কোনো পরিবর্তন আনতে হবে কি না।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বর মাসে ইউরোজোনের মুদ্রাস্ফীতি সামান্য হ্রাস পেয়ে ইসিবির লক্ষ্যমাত্রা ২%-এ নেমে এসেছে। সেই সঙ্গে মূল মুদ্রাস্ফীতির চাপও কিছুটা কমেছে। তবে পরিষেবা খাতের মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধিকে এখনো উদ্বেগজনক হিসেবে দেখা হচ্ছে—এর কারণ হিসেবে আংশিকভাবে মজুরি হারের ব্যাপক বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

২০২৫ সালের জুন মাস থেকে সুদের হার অপরিবর্তিত রয়েছে, এবং বিনিয়োগকারী ও অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, স্বল্পমেয়াদে এতে কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। নীতিনির্ধারকেরা এখনো তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা দেখছেন না, যদিও তারা একযোগে এও স্বীকার করছেন যে, অর্থনীতিতে এখনো অনিশ্চয়তা বিদ্যমান।

EUR/USD-এর টেকনিক্যাল পূর্বাভাস:
ক্রেতাদের জন্য প্রাথমিক লক্ষ্য হচ্ছে এই পেয়ারের মূল্যকে 1.1660 লেভেলে নিয়ে যাওয়ার। এই লেভেলটি ব্রেক করতে পারলে এই পেয়ারের মূল্যের 1.1681 লেভেল টেস্ট করার সুযোগ তৈরি হবে। সেখান থেকে এই পেয়ারের মূল্য পরবর্তী লক্ষ্যমাত্রা 1.1705-এর দিকে যেতে পারে, যদিও মার্কেটের বড় ট্রেডারদের সহায়তা ছাড়া এই লেভেল অতিক্রম করা কঠিন হতে পারে। সবচেয়ে দূরবর্তী লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে 1.1725 লেভেল বিবেচনা করা যেতে পারে।

যদি এই পেয়ারের মূল্য হ্রাস পায়, তাহলে মূল্য 1.1641 লেভেলের আশপাশে থাকা অবস্থায় বড় ক্রেতাদের সক্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদি এই লেভেলে ক্রেতারা সক্রিয় না হয়, তাহলে এই পেয়ারের মূল্যের 1.1619 লেভেলে নেমে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করাই ভালো হবে অথবা 1.1591 লেভেল থেকে নতুন করে লং পজিশন ওপেন করা যেতে পারে।

GBP/USD-এর টেকনিক্যাল পূর্বাভাস:
পাউন্ডের ক্রেতাদের জন্য প্রয়োজনীয় প্রথম ধাপ হচ্ছে এই পেয়ারের মূল্যকে 1.3435 লেভেলের রেজিস্ট্যান্স অতিক্রম করানো। কেবলমাত্র এই লেভেল ব্রেক করলে এই পেয়ারের মূল্যের 1.3460-এর লক্ষ্যমাত্রার দিকে যাওয়ার সম্ভব হবে—যা অতিক্রম করে ওপরে যাওয়া কঠিন হবে। সর্বোচ্চ লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে 1.3488 লেভেল বিবেচনা করা যেতে পারে।

অন্যদিকে, যদি এই পেয়ারের মূল্য নিম্নমুখী হয়, তাহলে মূল্য 1.3403 লেভেলে থাকা অবস্থায় বিক্রেতারা সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করবে। যদি তারা সফল হয়, তাহলে এই লেভেল ব্রেক করে মূল্য নিম্নমুখী হলে সেটি বুলিশ পজিশনের জন্য ক্ষতিকর হবে এবং GBP/USD পেয়ারের মূল্য 1.3373 লেভেল পর্যন্ত নেমে যেতে পারে, এবং সেখান থেকে সম্ভাব্য পরবর্তী লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে 1.3341 লেভেল বিবেচনা করা যেতে পারে।

* এখানে পোস্ট করা মার্কেট বিশ্লেষণ মানে আপনার সচেতনতা বৃদ্ধি করা, কিন্তু একটি ট্রেড করার নির্দেশনা প্রদান করা নয়
Go to the articles list Go to this author's articles Open trading account