logo

FX.co ★ পাওয়েল ও ট্রাম্পের মধ্যকার দ্বন্দ অব্যাহত রয়েছে

পাওয়েল ও ট্রাম্পের মধ্যকার দ্বন্দ অব্যাহত রয়েছে

ফেডারেল রিজার্ভ চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েল ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যকার দ্বন্দ অব্যাহত রয়েছে এবং বিস্ময়করভাবে দেখা যাচ্ছে, সকল রিপাবলিকান সিনেটরই ট্রাম্পের অবস্থানের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করছেন না।

ফেডকে ঘিরে রাজনৈতিক বিভাজন আরও তীব্র হচ্ছে এবং এর ফলে মার্কিন আর্থিক নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর স্থিতিশীলতা ঝুঁকির মুখে পড়েছে। গতকাল সিনেটর থিলিসের একটি বক্তব্য মার্কিন রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। তার কট্টর অবস্থান ফেডের নতুন চেয়ারম্যানের মনোনয়ন প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলতে পারে।

পাওয়েল ও ট্রাম্পের মধ্যকার দ্বন্দ অব্যাহত রয়েছে

ফেডের চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েলের ওপর চলমান চাপ এবং ফেডের সম্ভাব্য স্থবির অবস্থা দীর্ঘদিন ধরেই ব্যবসায়িক মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে।। বিশ্লেষকরা সতর্ক করে জানিয়েছেন—ফেডের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা বিনিয়োগ পরিবেশ ও ফিন্যান্সিয়াল মার্কেটের স্থিতিশীলতার জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে; পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে, কারণ ফেডের বর্তমানে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে চলমান অপরাধমূলক তদন্তের বিষয়টিও যুক্ত হয়েছে।

রিপাবলিকান দলে মতানৈক্য স্পষ্ট, যা দলটির অভ্যন্তরের বিভাজন চিহ্নিত করে—বিশেষত ফেডের ভূমিকা ও স্বাধীনতা প্রসঙ্গে। কয়েকজন সিনেটর জেরোম পাওয়েলের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি জানাচ্ছেন এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার ওপর আরও কঠোর নজরদারির পক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন। অন্যদিকে অনেকে মনে করছেন, এই বিষয়টিকে অতিরিক্ত রাজনৈতিকীকরণ করা হচ্ছে, যা এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানটির নিরপেক্ষতা নষ্ট করতে পারে এবং সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ক্ষতির দিকেও নিয়ে যেতে পারে।

পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে আসন্ন কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচন। এতে ফেড অন্যতম কেন্দ্রীয় ইস্যু হয়ে উঠতে পারে। ডেমোক্র্যাটরা অভিযোগ করছেন—রিপাবলিকানরা রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন। অপরদিকে, রিপাবলিকানরা দাবি করছেন—করদাতা জনগণের স্বার্থ সুরক্ষায় ফেডের ওপর কঠোর নজরদারি জরুরি।

এই পরিস্থিতিতে ফেডকে ঘিরে চলমান ঘটনাবলি যুক্তরাষ্ট্র ও ফরেক্স মার্কেটে ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে, কারণ মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থায় যেকোনো প্রকার অস্থিরতা বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।

শীঘ্রই এটি স্পষ্ট হয়ে যাবে যে—সিনেট কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারছে কি না এবং ফেডের স্থবিরতা এড়ানো সম্ভব কি না, অথবা রাজনৈতিক সংকট আরও তীব্র হয়ে দেশটির সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলছে কি না। উল্লেখযোগ্য যে, ফেডের বর্তমান চেয়ারম্যানে জেরোম পাওয়েলের মেয়াদ চলতি বছরের মে মাসে শেষ হচ্ছে, এবং এখন পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নতুন মনোনীত প্রার্থীর বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ঘোষণা দেননি।

EUR/USD পেয়ারের বর্তমান টেকনিক্যাল চিত্র অনুযায়ী, ক্রেতাদের এখন এই পেয়ারের মূল্যকে 1.1680 লেভেলে পুনরুদ্ধারের কথা ভাবা উচিত। কেবল এই লেভেলের ওপর স্থিতিশীল হওয়ার পরই তারা এই পেয়ারের মূল্যকে 1.1705-এর লক্ষ্যমাত্রার দিকে নিয়ে যেতে পারবে। এরপর এই পেয়ারের মূল্যের 1.1725 লেভেলে পৌঁছানোর সম্ভাবনা থাকবে, যদিও মার্কেটের ট্রেডারদের সমর্থন ছাড়া এই লেভেল পৌঁছানো কিছুটা কঠিন হবে। দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে 1.1740-এর লেভেল বিবেচনা করা যেতে পারে। অন্যদিকে, যদি এই পেয়ারের দরপতন হয়, তাহলে মূল্য 1.1640-এর আশপাশে থাকা অবস্থায় ক্রেতাদের উল্লেখযোগ্য ক্রয়ের আগ্রহ দেখা যেতে পারে। যদি সেখানে কোনো ক্রেতা সক্রিয় না হয়, তাহলে এই পেয়ারের মূল্য প্রথমে 1.1619-এর লেভেলে নেমে যেতে পারে বা 1.1591 লেভেল থেকে নতুন করে লং পজিশন ওপেন করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

GBP/USD পেয়ারের ক্ষেত্রে ক্রেতাদের প্রথমে এই পেয়ারের মূল্যের 1.3475-এর নিকটবর্তী রেজিস্ট্যান্স ব্রেক করাতে হবে। কেবল তা সম্ভব হলেই পরবর্তী লক্ষ্যমাত্রা হবে 1.3490; এই লেভেলের ওপরে ব্রেকআউট করা কঠিন হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে 1.3520-এর আশপাশের লেভেল নির্ধারণ করা হয়েছে। যদি এই পেয়ারের মূল্য হ্রাস পায়, তাহলে বিক্রেতারা প্রথমে মূল্য 1.3450 লেভেলে থাকা অবস্থায় মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার চেষ্টা করবে। যদি তারা এতে সফল হয়, তাহলে এই এরিয়া ব্রেক করে মূল্য নিম্নমুখী হলে সেটি বুলিশ পজিশনের জন্য একটি বড় আঘাত হিসেবে বিবেচিত হবে এবং GBP/USD পেয়ারের মূল্য 1.3420 পর্যন্ত নেমে যেতে পারে, এমনকি 1.3390 পর্যন্ত দরপতন বিস্তৃত হওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে।

* এখানে পোস্ট করা মার্কেট বিশ্লেষণ মানে আপনার সচেতনতা বৃদ্ধি করা, কিন্তু একটি ট্রেড করার নির্দেশনা প্রদান করা নয়
Go to the articles list Go to this author's articles Open trading account