logo

FX.co ★ ১৫ জানুয়ারি কীভাবে GBP/USD পেয়ারের ট্রেডিং করবেন? নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেডিংয়ের সহজ পরামর্শ ও বিশ্লেষণ

১৫ জানুয়ারি কীভাবে GBP/USD পেয়ারের ট্রেডিং করবেন? নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেডিংয়ের সহজ পরামর্শ ও বিশ্লেষণ

বুধবারের ট্রেডিংয়ের পর্যালোচনা

GBP/USD পেয়ারের 1-ঘন্টার চার্ট

১৫ জানুয়ারি কীভাবে GBP/USD পেয়ারের ট্রেডিং করবেন? নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেডিংয়ের সহজ পরামর্শ ও বিশ্লেষণ

বুধবারও GBP/USD পেয়ারের মূল্যের অস্থিরতার মাত্রা বেশ কম ছিল। নতুন বছরের প্রথম ১৪ দিনে বিশ্বের নানা প্রান্তে এত ঘটনা ঘটেছে যে এগুলো কয়েক মাসের জন্যই যথেষ্ট হতো। তবুও ফরেক্স মার্কেটে যেন এখনও নতুন বছর ও ক্রিসমাস উদযাপন করা হচ্ছে, ফলে প্রায় কোনোই গতিশীল মুভমেন্ট দেখা যাচ্ছে না। ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে দেখলে এটি স্পষ্ট যে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মূলত সাইডওয়েজ রেঞ্জের মধ্যে মুভমেন্ট পরিলক্ষিত হয়েছে। গতকাল পাউন্ডের মূল্যের অস্থিরতার পরিমাণ ছিল 46 পিপস। যুক্তরাষ্ট্রে নভেম্বর মাসের উৎপাদক মূল্য সূচক এবং খুচরা বিক্রয় প্রকাশিত হয়েছে। দেশটির উৎপাদক মূল্য সূচক বার্ষিক ভিত্তিতে বেড়ে 3%-এ পৌঁছেছে, এবং এখন এই সূচকের হার দেশটির মুদ্রাস্ফীতি হারের চেয়ে বেশি উচ্চতায় অবস্থান করছে, যা কিছুটা অযৌক্তিক মনে হচ্ছে। যাই হোক, মুদ্রাস্ফীতির বৃদ্ধি ফেডের আর্থিক নীতিমালা নমনীয়করণের সম্ভাবনা কমায়, যা ডলারের পক্ষে ইতিবাচক। নভেম্বর মাসে খুচরা বিক্রয় সূচক 0.6% বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বিশেষজ্ঞদের পূর্বাভাস ছাড়িয়ে গেছে। অতএব এই দুটি মার্কিন প্রতিবেদনের ফলাফল ডলারের পক্ষে কাজ করতে পারত। কিন্তু আবারও দেখা গেল এই প্রতিবেদনগুলোর ফলাফলের প্রভাবে মার্কেটে কার্যত কোনো প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়নি।

GBP/USD পেয়ারের 5M চার্ট

১৫ জানুয়ারি কীভাবে GBP/USD পেয়ারের ট্রেডিং করবেন? নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেডিংয়ের সহজ পরামর্শ ও বিশ্লেষণ

বুধবার ৫ মিনিটের টাইমফ্রেমে পাউন্ডের মূল্য বেশিরভাগ সময় সাইডওয়েজ রেঞ্জের মধ্যে মুভমেন্ট প্রদর্শন করেছে এবং টেকনিক্যাল বাধাগুলোকে উপেক্ষা করেছে। 1.3437–1.3446 এরিয়াতে তিনটি ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়েছিল, কিন্তু এগুলোর কোনোটিই ট্রেডারদের আগ্রহ আকর্ষণ করেনি। সার্বিকভাবে, আমরা নতুন ট্রেডারদের সতর্ক করে বলছি যে বর্তমান সময়ে মার্কেটে অত্যন্ত দুর্বল মুভমেন্ট দেখা যাচ্ছে এবং এই ধরনের মুভমেন্টের যৌক্তিকতাও বেশ সীমিত।

বৃহস্পতিবার কীভাবে ট্রেডিং করতে হবে:

ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে GBP/USD পেয়ারের মূল্য ট্রেন্ডলাইনের নিচে স্থিতিশীল হয়েছে; এই মুহূর্তে কোনো স্পষ্ট নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে না। বরং আরও একবার ফ্ল্যাট রেঞ্জভিত্তিক মুভমেন্ট দেখা যাচ্ছে। মধ্যমেয়াদে ডলারের দর বৃদ্ধির জন্য বৈশ্বিক পর্যায়ে কোনো কারণ দেখা যাচ্ছে না, তাই আমরা কেবলমাত্র এই পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী মুভমেন্টেরই প্রত্যাশা করছি। সামগ্রিকভাবে, আমরা 2025 সালে পরিলক্ষিত বৈশ্বিক ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা পুনরায় শুরু হওয়ার প্রত্যাশা করছি, যা আগামী কয়েক মাসে এই পেয়ারের মূল্যকে 1.4000 পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারে।

বৃহস্পতিবার, যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.3437–1.3446 এরিয়া থেকে বাউন্স করে, তাহলে নতুন ট্রেডাররা মূল্যের 1.3319–1.3331 এরিয়ার দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে নতুন শর্ট পজিশন বিবেচনা করতে পারেন। এই পেয়ারের মূল্য 1.3437–1.3446-এর উপরে থাকা অবস্থায় ট্রেডিং সেশন শেষ হলে লং পজিশন প্রাসঙ্গিক হবে, যেখানে মূল্যের 1.3529–1.3543-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।

৫-মিনিটের টাইমফ্রেম অনুযায়ী ট্রেডিংয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ লেভেলগুলো হলো: 1.3043, 1.3096–1.3107, 1.3203–1.3212, 1.3259–1.3267, 1.3319–1.3331, 1.3437–1.3446, 1.3529–1.3543, 1.3574–1.3590, 1.3643–1.3652, 1.3682, 1.3763। বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্যে মাসিক জিডিপি ও শিল্প উৎপাদন সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। বছরের প্রথম দুই সপ্তাহে মার্কেটের ট্রেডাররা যে পরিমাণে ইভেন্ট ও প্রতিবেদন উপেক্ষা করেছে তা বিবেচনায়, আমরা এই দুইটি প্রতিবেদনের প্রভাবে মার্কেটে শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া সৃষ্টির প্রত্যাশা করছি না।

ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:

  1. সিগনালের শক্তি: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
  2. ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।
  3. ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।
  4. ট্রেডিংয়ের সময়সূচী: ইউরোপীয় সেশন শুরু থেকে মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ট্রেড ওপেন করুন এবং এরপর সকল ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করে ফেলুন।
  5. MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।
  6. নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।
  7. স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।

চার্টে কী কী রয়েছে:

  • সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।
  • লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
  • MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।

ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

* এখানে পোস্ট করা মার্কেট বিশ্লেষণ মানে আপনার সচেতনতা বৃদ্ধি করা, কিন্তু একটি ট্রেড করার নির্দেশনা প্রদান করা নয়
Go to the articles list Go to this author's articles Open trading account