মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততায় নতুন এক ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার পরে বিটকয়েনের মূল্য তীব্রভাবে $93,000-এর দিকে ধসের শিকার হয়েছে।

এদিকে ক্ল্যারিটি আইন নিয়ে জল্পনা-কল্পনা অব্যাহত রয়েছে। গ্যালাক্সি রিসার্চ জানিয়েছে যে ক্যারিটি আইন পাশ হলে কেবল ক্রিপ্টো খাতে আইনি কাঠামোই স্পষ্ট হবে না, বরং নিয়ন্ত্রণ কাঠামো সংক্রান্ত অনিশ্চয়তার কারণে এখনও ক্রিপ্টো মার্কেটে মূলধন বিনিয়োগে পিছিয়ে থাকা প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদেরও আকৃষ্ট করা যাবে। স্পষ্ট নিয়ম ও নীতিমালা প্রতিষ্ঠানগুলোকে কৌশল প্রণয়ন, ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং ক্রিপ্টো অ্যাসেটে বাড়তি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বিনিয়োগ করার সুযোগ দেবে।
প্রাতিষ্ঠানিক মূলধন মার্কেটে স্থিতিশীলতা বাড়াতে, অ্যাসেটের মূল্য স্থিতিশীল করতে এবং টেকসই দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধিকে সমর্থন করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে ক্রিপ্টো আইনি কাঠামো অনুমোদন পেলে অন্যান্য দেশগুলোও দ্রুত তাদের নিজস্ব ক্রিপ্টো নিয়ন্ত্রণ কাঠামো প্রণয়নের দিকে ঝুঁকতে পারে।
তবে সিনেট ভোটে এই ক্ল্যারিটি বিল পাশের বিলম্বের বিষয়টি মার্কেটের অনেক ট্রেডারদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। কয়েনবেসের সাথে বিরোধ এই বিলের মূল ধারার বিধানগুলোর বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছাতে কতটা কষ্টসাধ্য তা তুলে ধরে। আইনপ্রণেতাদের ক্রিপ্টো খাতের দাবিগুলো সম্পর্কে জানা এবং সকল অংশীজনের স্বার্থ বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ।
চলমান অনিশ্চয়তা যুক্তরাষ্ট্রে ক্রিপ্টো উদ্ভাবন কার্যক্রম মন্থর করে দিতে পারে এবং অধিক অনুকূল বিধানবিশিষ্ট খাতের দিকে মূলধনকে প্রবাহিত করতে প্রলুব্ধ করবে। এই কারণে মতবিরোধ দ্রুত সমাধান করে একটি সমন্বিত বিল পাস করার বিষয়টি ক্রিপ্টো মার্কেটের দৃঢ় প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।
মনে রাখবেন গত সপ্তাহে সিনেট বিলটির সংশোধনী বিবেচনা করার জন্য অধিবেশনে বসতে ব্যর্থ হয়; ওই সংশোধনীগুলোতে ডিজিটাল অ্যাসেটগুলোর তদারকির দায়িত্ব কমডিটি ফিউচার্স ট্রেডিং কমিশন এবং সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের মধ্যে ভাগ করে দেওয়ার কথা ছিল। তবুও অনেক মার্কিন সিনেটর এখনও ক্ল্যারিটি বিলের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করছেন এবং এই আইন পাশ হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করে। চলতি মাসের শেষে বিষয়টি নিয়ে কমিটির শুনানি পুনঃনির্ধারিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
ট্রেডিংয়ের পরামর্শ:

ক্রেতারা এখন বিটকয়েনের মূল্যকে $94,000-এ ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করছে, যা সরাসরি এটির মূল্যকে $95,800 এবং তারপর $97,600-এ পৌঁছানোর সম্ভাবনা উন্মুক্ত করবে। আরও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার ক্ষেত্রে বিটকয়েনের মূল্যের $99,400-এর দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ওই লেভেল ব্রেক করতে পারলে সেটি মার্কেটে বুলিশ প্রবণতা পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচিত হবে। দরপতনের ক্ষেত্রে ক্রেতারা প্রত্যাশিতভাবে মূল্য $92,100-এ থাকা অবস্থায় সক্রিয়। মূল্য ওই এরিয়ার নিচে নামলে বিটকয়েনের মূল্য দ্রুত $90,500-এ নেমে যেতে পারে। পরবর্তীতে প্রায় $88,700-এর দিকে দরপতনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।

ইথেরিয়ামের ক্ষেত্রে, $3,257-এর ওপর স্পষ্টভাবে কনসোলিডেশন হলে সরাসরি $3,340-এর দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা উন্মুক্ত হবে। পরবর্তীতে ইথেরিয়ামের মূল্য $3,426-এর দিকে অগ্রসর হতে পারে। ওই লেভেল অতিক্রম করলে মার্কেটে বুলিশ প্রবণতা শক্তিশালী হবে এবং ক্রেতাদের আগ্রহ পুনর্জাগ্রত হবে। যদি ইথেরিয়ামের দরপতন হয়, তাহলে মূল্য $3,192-এ থাকা অবস্থায় দরপতনের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। ইথেরিয়ামের মূল্য ওই জোনের নিচে নামলে ETH-এর মূল্য দ্রুত প্রায় $3,129 পর্যন্ত নেমে যেতে পারে। আরও দরপতনের ক্ষেত্রে পরবর্তী লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে $3,072-এর লেভেল নির্ধারণ করা যেতে পারে।
চার্টে যা যা দেখা যাচ্ছে:
- লাল লাইন সাপোর্ট এবং রেজিস্ট্যান্স লেভেল নির্দেশ করে, যেখানে মূল্যের মুভমেন্ট থেমে যেতে পারে অথবা সক্রিয় মুভমেন্ট শুরু হতে পারে;
- সবুজ লাইন ৫০-দিনের মুভিং অ্যাভারেজ নির্দেশ করে;
- নীল লাইন ১০০-দিনের মুভিং অ্যাভারেজ নির্দেশ করে;
- হালকা সবুজ লাইন ২০০-দিনের মুভিং অ্যাভারেজ নির্দেশ করে।
সাধারণত, অ্যাসেটের মূল্য এই মুভিং অ্যাভারেজগুলো অতিক্রম করলে বা পৌঁছালে মার্কেটের বর্তমান মোমেন্টাম থেমে যেতে পারে অথবা নতুন প্রবণতার সূচনা হতে পারে।
