আজ স্বর্ণের দর রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে, আর রূপার দর ঐতিহাসিক সর্বোচ্চ স্তর থেকে নিম্নমুখী হচ্ছে, কারণ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের প্রচেষ্টার ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে সম্ভাব্য বাণিজ্যযুদ্ধের আশঙ্কা তীব্র হয়েছে।

আরেকটি বাণিজ্যযুদ্ধের সম্ভাবনা দেখে বিনিয়োগকারীরা ঐতিহ্যবাহী নিরাপদ বিনিয়োগ যেমন স্বর্ণে বিনিয়োগ করছে, যেখানে রূপার মূল্যের উচ্চ অস্থিরতার কারণে এটি উপেক্ষিত হচ্ছে। ভৌগোলিকভাবে দূরে মনে হলেও গ্রিনল্যান্ডকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার মাত্রা বিশ্ববাজারে চেইন রিয়াকশন শুরু করেছে। গতকাল পর্যন্ত দৃঢ় মনে হওয়া বাণিজ্যচুক্তিগুলো এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের আগ্রাসী বক্তৃতা ও কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ ইউরোপীয় নেতারা প্রস্তাবিত পাল্টা ব্যবস্থা, যেমন নতুন শুল্ক ও আমেরিকান পণ্যের আমদানি সীমাবদ্ধতার বিষয়টি বিবেচনা করছে।
ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন যে ইইউ গ্রিনল্যান্ড সংক্রান্ত মার্কিন শুল্কের জবাবে আমেরিকান কোম্পানিগুলোকে ইইউ দেশগুলোর পাবলিক প্রকিউরমেন্টে এক্সেস সীমিত করে দিতে পারে। কেউ কেউ মনে করে ইউরোপ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন সংঘাতের জবাবে আমেরিকান অ্যাসেট বিক্রি শুরু করতে পারে, যা ডলারের দরপতন ঘটাবে। মনে রাখবেন, ইউরোপ বর্তমানে মার্কিন স্টক ও বন্ডে $8 ট্রিলিয়ন বিনিয়োগ করেছে।
এই পারিপার্শ্বিকতায় স্বর্ণ ক্রমশ আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। সংকট ও অস্থিতিশীলতার সময়ে মূল্য ধরে রাখতে এর সক্ষমতা মূলধন রক্ষাকারী হিসেবে এটিকে নির্ভরযোগ্য বিনিয়োগে পরিণত করেছে। ভবিষ্যত অনিশ্চিত থাকলেও, স্বর্ণের চাহিদা সম্ভবত বাড়তেই থাকবে এবং এর মূল্য রেকর্ড স্তরে পৌঁছাতে থাকবে। ইউরোপের পালটা প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় আজ স্বর্ণের স্পট মূল্য বেড়ে আউন্স প্রতি $4,694.35-এ পৌঁছেছে; এর আগে রূপার দর এক পর্যায়ে আউন্স প্রতি $94.7295-এর সর্বকালের সর্বোচ্চে পৌঁছেছিল, তারপর থেকে তা নিম্নমুখী হচ্ছে ।
ন্যাটো মিত্রদের বিরুদ্ধে মার্কিন হুমকিগুলো মার্কেটে আতংক ছড়িয়েছে, সুরক্ষামূলক অ্যাসেটের চাহিদা বাড়িয়েছে এবং "সেল আমেরিকা" স্লোগানে শেয়ার ট্রেডিং পুনরুজ্জীবিত করেছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট এম্যানুয়েল ম্যাকরন ইইউ-এর এন্টি-কোর্সন ইনস্ট্রুমেন্ট সক্রিয় করার উদ্যোগ নেবেন বলে ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন, যদিও জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জ ম্যাকরনকে তার প্রতিক্রিয়া মৃদু করতে বোঝানোর চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে।

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে মার্কিন অভিযানের তৎক্ষণাৎ বিস্ফোরিত সংকট মূল্যবান ধাতুগুলোর মূল্যের দ্রুত উত্থানে ইতোমধ্যেই আরও প্রেরণা যুগিয়েছে। মার্কিন প্রশাসন কর্তৃক ফের ফেডারেল রিজার্ভের কার্যক্রমের ওপর হস্তক্ষেপ এ বছর স্বর্ণ ও রূপার দর বৃদ্ধিতে অবদান রেখেছে, কারণ এটি মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ পুনরুজ্জীবিত করেছে।
স্বর্ণের বর্তমান টেকনিক্যাল চিত্র অনুযায়ী, ক্রেতাদের স্বর্ণের মূল্যকে নিকটস্থ রেজিস্ট্যান্স $4,708-এ নিয়ে যাওয়া প্রয়োজন। এটি স্বর্ণের মূল্যকে $4,771-এর লক্ষ্যমাত্রার দিকে নিয়ে যেতে সহায়তা করবে; এই লেভেল ব্রেকআউট করা বেশ চ্যালেঞ্জিং হবে। সবচেয়ে দূরবর্তী লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে $4,835 এরিয়া নির্ধারণ করা হয়েছে। দরপতনের ক্ষেত্রে স্বর্ণের মূল্য $4,647-এ থাকা অবস্থায় বিক্রেতারা মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার চেষ্টা করবে। তারা সফল হলে এই রেঞ্জ ব্রেকআউট করে স্বর্ণের মূল্য নিম্নমুখী হলে সেটি বুলিশ ট্রেডারদের পজিশনের লিকুইডেশন ঘটাতে পারে এবং স্বর্ণের মূল্য $4,591-এর দিকে নেমে যেতে পারে, যেখানে $4,531 পর্যন্ত দরপতন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
